নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: Monবার, 7th Dec, 2020

ভাস্কর্যবিরোধী উগ্র গোষ্ঠীকে প্রতিহত করার ঘোষণা

Share This
Tags
Print Friendly

কুষ্টিয়ায় রাতের অন্ধকারে জাতির পিতার নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙা এবং ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতার প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ স্বাধীনতার পক্ষের অনেক সংগঠন। এসব কর্মসূচি থেকে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি, সাম্প্রদায়িক, উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর চক্রান্ত প্রতিহত করতে লাগাতার কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়।

গতকাল রবিবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও মত্স্যজীবী লীগ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি পালন করে। একই সময়ে সারা দেশে একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি পালন করে আওয়ামী যুবলীগ।

বিকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবলীগ আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাড়া-মহল্লায়, মসুজিদ-মাদ্রাসায় বসে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী কোনো অপতত্পরতায় লিপ্ত হয় কি না, সেদিকে লক্ষ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল গুলিস্তান, নূর হোসেন স্কয়ার, পুরানা পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিল-পূর্ব সমাবেশে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যবিরোধী উগ্র মৌলবাদীদের প্রতিহত করা হবে। যত দিন পর্যন্ত পাকাস্তিনের প্রেতাত্মা রাজাকারের প্রজন্ম উগ্র মৌলবাদীদের বিতাড়িত করতে না পারব, তত দিন পর্যন্ত আমরা মুক্তিযুদ্ধের সন্তানরা একাত্রিত হয়ে রাজপথে থাকব, সারা দেশে মাঠে থাকব।’

মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে যুবসমাজ যেভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিলেন, ঠিক তেমনি আজ আবারও যুবসমাজ এখানে একত্রিত হয়েছে উগ্র মৌলবাদ, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী ও খালেদা জিয়া-নিজামীদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে। পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা এখনো জীবিত আছে। সারা দেশে যত ভাস্কর্য আছে, তা নিয়ে কখনো কোনো কথা বলা হয়নি। আজকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে এত আন্দোলন কেন? এদের ইন্ধনদাতা কে? এদের ইন্ধনদাতা খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও জামায়াত-শিবির।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, মো. রফিকুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহমেদ, মো. নবী নেওয়াজ, ্রঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনউদ্দিন রানা, উত্তর সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজাসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

গতকাল তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। একই সময়ে মহানগর উত্তরের অন্তর্গত প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আন্তর্গত প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বিকেল ৩টায় পৃথক পৃথক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এ সময় সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, সহসভাপতি গাজী মেসবাউর রহমান সাচ্চু, নির্মল চ্যাটার্জি, আব্দুল আলিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষক লীগের বিক্ষোভ মিছিল ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে পুনরায় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয় এসে শেষ হয়। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেণ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষক লীগের সভাপতি আবদুস সালাম বাবু। এ সময় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা ও অবমাননার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল বেলা ১১টা থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ। বেলা ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে থেকে চলে যাওয়ার পর সেখানে ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল হয়। ঐ সমাবেশ শেষে বিকেল ৪টায় অপরাজেয় বাংলা নামের একটি সংগঠন ফের সমাবেশ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে। এভাবেই গতকাল দিনভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা উত্তাল ছিল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অবমাননার প্রতিবাদে।