নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, 6th অক্টো., 2020

বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থ দেখতে হবে পুঁজিবাজারে মোবাইলভিত্তিক প্ল্যাটফরমগুলো চালুর আহ্বান

Share This
Tags
Print Friendly

১৯৯৬ ও ২০১০ সালে শেয়ারবাজারের ধস ছিল খুবই হতাশার। আমাদের সেই ধসের কথা মনে করার দরকার নেই। কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়; যা খুবই দরকার। আমাদেরকে বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকারী স্বার্থ দেখতে হবে। গতকাল সোমবার ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুস্তাফিজুর রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বন্ড মার্কেট না থাকা নিয়ে সমালোচনা করলেও এখন তা আসতে শুরু করেছে। সরকারি বন্ডও চলে আসতেছে। এছাড়া বিমা কোম্পানিগুলোকে আনার চেষ্টা চলছে। মহামারি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আমাদের অর্থনীতিতে একটা ধাক্কা দিয়েছে। পুঁজিবাজারেও তার প্রভাব পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোবাইল প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরো ভালোভাবে ব্যবহার করা দরকার। এছাড়া একজন বিনিয়োগকারীর কোনো আপত্তি বা অসন্তোষ থাকলে, সে কোথায় যাবে, তার জন্য একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম করা দরকার। কারণ, ইনভেস্টররা যাতে দ্রুত ও সহজে বিনিয়োগ করতে পারে। এটা হলে কোভিড-১৯ এর এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের অনেক সুবিধা হবে। এ নিয়ে চলমান বিনিয়োগকারী সপ্তাহে একটা টার্গেট নেওয়া যেতে পারে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সপ্তম-পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুসারে ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে আগামী ২১ বছর গড়ে ১০ শতাংশ হারে গ্রোথ করতে হবে। অর্থাত্ ৮ গুণ প্রবৃদ্ধি বাড়বে। ম্যাজিক প্রবৃদ্ধি করতে হবে। সেটার জন্য বাংলাদেশে উন্নত পুঁজিবাজার গঠন করতে হবে। ওয়েল ফাউন্ডেশনের ক্যাপিটাল মার্কেট গঠন করতে হবে। তাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন গঠনের পর বেশ কিছু ভালো কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শক অধ্যাপক হোসেন সামাদ বলেন, কোভিডের ধাক্কা সামলাতে বিদেশে রপ্তানি বাড়াতে হবে। দেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে যেসব দেশের করোনায় কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, যেসব কোম্পানি বাজারে আসার কথা ছিল সেসব কোম্পানি আসেনি। ইনভেস্টমেন্টের প্রোডাক্টের ঘাটতি ছিল সেটা পূরণ করা হচ্ছে। কমিশন এরই মধ্যে বন্ড মার্কেট চালু করেছে। বেশ কিছু বন্ডও অনুমোদন দিয়েছে।

‘বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা:ব্যবসায় এবং তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এর প্রভাব’বিষয়ক এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ, বিএসইসির কমিশনার মো. আব্দুল হালিম, কমিশনার ড. মিজানুর রহমান, কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ ও কমিশনার খোন্দকার কামালউজ্জামান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।