নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, 25th জুলাই, 2020

ব্রিগেডিয়ার শহীদুল্লাহ কি হত্যার শিকার

Share This
Tags
Print Friendly

C2E46DEB-25D9-4BD8-B92A-8A7702FBD0A8

আজকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে যত তোলপাড়, দুর্নীতির একেকটা পিলার ধসে পড়ছে, এই থলের বিড়াল বের করে দিয়েছিলেন সিএমএসডির সদ্য বিদায়ী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল্লাহর! তিনি লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং তার পুত্র চোর, সচিব চোর, মন্ত্রণালয়ের অফিসাররা চুরি করে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা চোর, সেখানে আছে বিশাল সিন্ডিকেট যারা দু’নম্বরী মাল সাপ্লাই দিয়ে কয়েকগুণ বিল তুলে নেয় তারপর ভাগাভাগি হয়, এমনকি তিনি ফাটিয়েছিলেন- করোনা নিয়ে সরকারের কোনো প্রস্তুতি ছিলনা!

তো, এত কথা বলার পরে, এত লোককে ধরিয়ে দেয়ার পরে এই ব্রিগেডিয়ার সাহেব বাঁচবেন কি করে- সন্দেহ করেছিলাম! তেমনি ভেবেছিলাম, ওনাকে তো পরে লাগবে, উনি যেনো বিদেশে গিয়ে কোথাও নিরাপদে থাকেন! কিন্তু না, পারেননি, ১ মাসের মধ্যেই তাকে বিদায় নিতে হয়েছে পৃথিবী!

ব্রিগেডিয়ার শহীদকে চিনি আমি ২ যুগ, তিনি আমার চিকিৎসাও করেছেন, তার পরিবারের কেউ কেউ আমার কাছাকাছি থাকেন, তাই তার সম্পর্কে কিছু তো জানি। যাই হোক, সিএমএইচ তাদের অফিসারকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে সন্দেহ নাই, কিন্তু স্যাবোটেজ আর ষড়যন্ত্র তো হতেই পারে- নাকি? ‘সরকারের কোনো করোনা প্রস্তুতি ছিল না’, এবং সকল সিন্ডিকেটের কোমড়ে দড়ি পড়বে- এরপরেও তারা বসে থাকবে, এমনটা ভাবা কি ঠিক, নাকি উচিত?
—————————————-

এবার দেখা যাক কি ফাটিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার শহীদুল্লাহ?

করোনা মহামারীকে উপলক্ষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন এবং ঠিকদাররা একটি ভয়াবহ নেটওয়ার্ক গড়ে মহাদুর্নীতিতে নেমে পড়েছিল। এনিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমস্ত দুর্নীতি ফাঁস করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) বিদায়ী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদউল্লাহ। বিদায় নেওয়ার আগে গত ৩০ মে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি লেখেন। সেই চিঠিতে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দু’র্নীতির আদ্যোপ্যান্ত তুলে ধরেন। তিনি যা লিখেছেন তার মধ্যে রয়েছে__

১/ “করোনা মোকাবিলায় কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং সিএমএসডি কি কি কেনাকাটা করবে, সে সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কখনোই সঠিক কোনো পরিকল্পনা করেনি।”

২/ এ অবস্থায় সিডিসি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সিএমএসডি নিজস্ব উদ্যোগে পিপিইসহ অন্যান্য সামগ্রী মজুদ করতে থাকে। পরে ১০ মার্চ সিডিসি পরিচালক সংক্রমণের ঝুঁ’কি মোকাবিলায় ১৫ কোটি টাকার একটি চাহিদা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। ক্রয় প্রক্রিয়া কীভাবে অনুসরণ করা হবে, অর্থের সংস্থান আছে কিনা, স্পেসিফিকেশন কী হবে, কী পরিমাণ সামগ্রী ক্রয় করতে হবে- এ সংক্রান্ত কোনো দিকনির্দেশনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় সিএমএসডি মৌখিকভাবে বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয় করে তা হাসপাতালগুলোতে পৌঁছে দেয়।

৩/ করোনা উপলক্ষে সুরক্ষা সমাগ্রী কিনতে মার্চ মাসের দিকে মন্ত্রণালয় থেকে মাত্র ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর ডিপিএম পদ্ধতি অনুসরণ করে সমস্ত ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এ পর্যন্ত আনুমানিক ৯০০ কোটি টাকার কেনাকাটা হলেও মাত্র ১০০ কোটি টাকার বেশী সংস্থান হয়নি। বারবার বাকি অর্থের চাহিদার কথা জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলেও অর্থছাড় করা হয়নি। এ কারণে সরবরাহকারীদের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।

৪/ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পিএস তাকে মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তার ছেলের ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলে তাকে জানান ওই দুই কর্মকর্তা। ঠিকাদার মিঠুর মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেডসহ তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠানো তালিকা ও মূল্য অনুযায়ী দ্রব্যাদি কেনাকাটা করার নির্দেশনা দেওয়া অব্যাহত থাকে। কিন্তু মেডিটেক ইমেজিংয়ের যন্ত্রপাতি ছিল নিম্নমানের এবং দাম বেশি।

মিডনাইট সরকার যখন দাবী করে করোনা মোকাবেলায় সর্ববিধ ব্যবস্থা নিয়েছেন, তখন ব্রিগেডিয়ার শহীদুল্লাহ ফাঁস করে দিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তার পুত্র এবং সচিব, অতিরিক্ত সচিবের দুর্নীতির খতিয়ান। তিনি প্রকাশ করে দিয়েছেন_“করোনা মোকাবিলায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার, এবং কি কি কেনাকাটা করবে, সে সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কখনোই সঠিক কোনো পরিকল্পনা করেনি।” যে দেশের রাষ্ট্রীয় বাজেট হলো সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকা সেখানে ১৭ কোটি মানুষের দেশে করোনা মোকাবেলায় সরকার বরাদ্দ দেয় মাত্র ১০০ কোটি টাকা!!!…….এই একটি বক্তব্যই করোনা নিয়ে সরকারের সকল জারিজুরি খতম করার জন্য যথেষ্ট। এমনকি দায়িত্বে অবহেলা এবং গণহত্যার দায়ে তাদেরকে অভিযুক্ত করা যাবে। এখন সাথে যুক্ত হলো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল্লাহর মৃত্যু কেস!!

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচার দাবী করছি। তবে এটা চোর সরকারকে দিয়ে সম্ভব নয়। দরকার কড়া সেনা প্রশাসন।