নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, 4th জুন, 2020

গণমুখী রাজনীতি, কল্যাণকর রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান

Share This
Tags
Print Friendly

B358BF26-44B9-4CA1-A731-AD0A4F6B78D5

একঃ অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসীম সাহসীকতা, সততা-নিষ্ঠা ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশের জন্য অবদান অসামান্য। স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে সাহসিকতা ও বীরত্বের সাথে তিনি যুদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে সশস্র যুদ্ধ পরিচালনা করেন। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্মে সম্মুখ সমরের যুদ্বা হিসেবে মুক্তিযুদ্বে বীরত্বগাঁথার জন্য পেয়েছেন বীরউত্তম খেতাব। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের বিশ্ব মানচিত্রে পরিচিত করিয়েছেন স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে। জাতির মর্যাদাকেও বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত করেছেন তাঁর শাসনামলে।

আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তাঁর জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দেশের সকল সঙ্কটে তিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে বার বার অবতীর্ণ হয়েছেন। অস্ত্র হাতে নিয়ে নিজে যুদ্ধ করেছেন। সংকট থেকে মুক্ত করেছেন দেশকে ।
সময়ের প্রয়োজনে দেশ সেবার ব্রত হিসেবে যোগ দিয়েছেন রাজনীতিতে। বাকসর্বস্ব ও মেধাহীন রাজনীতির বিপরীতে মেধা, দক্ষতা ও সততার সমন্বয়ে জিয়াউর রহমান রাজনীতিতে নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করতে পেরেছিলেন। জাতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের জায়গায় তিনি রাষ্ট্রভিত্তিক বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন করেন। রাষ্ট্রভিত্তিক জাতিয়তাবাদের দর্শন দেশের ধর্ম- বর্ণ- গোত্র- নৃ গোষ্ঠী তথা আপামর সকল মানুষকে অভিন্ন প্লাটফরমে এনে দাঁড় করায় । ফলে বাংলাদেশ বিভেদ ও হানাহানির বাইরে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি তৈরির জন্য একটা সুনির্দিষ্ট পাটাতন লাভ করে। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শনেই জাতিসত্ত্বার সঠিক স্বরূপটি মূল্যায়িত হয়, যা আমাদের ভৌগলিক জাতিসত্ত্বার সুনির্দিষ্ট পরিচয় দান করে। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশীদের আত্মপরিচয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। রাষ্ট্রভিত্তিক জাতিয়তাবাদের দর্শন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখারও সাহসী অঙ্গীকার।

ধর্মের আবেগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল নয় বরং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আধুনিক ও সৃষ্টিশীল চিন্তা-চেতনার সমন্বয়ে গণমুখী ও কল্যাণকর রাজনীতি আজ বিভিন্ন দেশে সমাদৃত । বিশ্ব রাজনীতি বিশেষ করে গণতান্ত্রিক মুসলিম দেশসমূহের রাজনীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে চার দশক পূর্বে ঘোষিত জিয়াউর রহমানের রাজনীতির চিন্তা-চেতনা ছিল কতটা বিচক্ষণ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন । ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিকতাকে বিকশিত করার পাশাপাশি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর রাজনীতির ভিতকে শক্ত করে দাঁড় করিয়ে একটি আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন জাতি গঠনের রাজনীতির প্রবক্তা শহীদ জিয়া।

দুইঃ ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় মেধা, দক্ষতা ও সততার সমন্বয় ছাড়া জাতি গঠনের রাজনীতির সফলতা মানুষের দ্বারগোড়ায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ব্যক্তিগত সততার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্বে ছিলেন সোচ্চার। তিনি মেধাবী ও দক্ষ লোকদের রাষ্ট্র গঠনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাছে টেনেছিলেন । রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদসহ অনেকেই বিভিন্ন সময় জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন। সাইফুর রহমানসহ অসংখ্য গুণী ব্যক্তিদের দলে নিয়েছিলেন । নোবেল জয়ী ড. ইউনুসকে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি শুরু করতে সহায়তা করেছিলেন তিনি । আইসিডিডিআরবি প্রতিষ্ঠিত হয় সেসময়।

অসংখ্য গণমুখী সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনীতির সফলতাকে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান । যার সুফল পেয়েছিল শহর থেকে শুরু করে গ্রামের কৃষক, দিনমজুর ও দেশের অবহেলিত বৃহৎ জনগোষ্ঠী। খাল খনন কর্মসূচি এর অন্যতম। নদীমাতৃক দেশে অর্থনৈতিক সুবিধাদির পাশাপাশি বৃহৎ প্রতিবেশী কর্তৃক সীমান্তবেষ্টিত দেশের প্রতিরক্ষার বিষয়টিও মাথায় রেখে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। ওই সময় তিনি দেড় হাজারের বেশি খাল খনন ও পুনঃখনন করেছিলেন। যার অর্থনৈতিক সুফল সমগ্র দেশের জনগণ পেয়েছে । এখন দেশে যে বৃহৎ ওয়াটার রিজার্ভার বা পানি সংরক্ষণাগারের কথা বলা হয়। খাল খনন এই ওয়াটার রিজার্ভারেরই ৭০ দশকের রূপ। ১৯৭৭-৭৮ সালে খাদ্য শস্য রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদিত হয়। প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া গণশিক্ষা কার্যক্রম, গ্রাম সরকার, গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনী গঠনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি শাসক নয় বরং প্রকৃত সেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে জনসাধারণকে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরও শরিকানা আছে। তৃণমূলকে প্রকৃত অর্থেই জাগিয়ে তুলতে পেরেছিলেন তিনি। দেশের বৈদেশিক রিজার্ভের মূল চালিকা শক্তি আজকের পোশাক শিল্পকে বিকশিত করতে পোশাক রপ্তানি এবং বিদেশে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক পাঠানোরও উদ্যোগ শহীদ জিয়ার সরকারের আমলেই নেওয়া হয়। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি তার আমলেই শুরু হয়।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির পাশাপাশি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠানিকরণের স্বার্থে সহনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতিকে এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। তাঁর সময়েই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন । দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার কার্যকরী উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে আনেন শৃঙ্খলা ও ঐক্য। বিশ্ব মানচিত্রে একটি মর্যাদাবান জাতির উত্থানে গোটা জাতির মধ্যে একটি নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে তাদেরকে জাগিয়ে তুলতে তিনি সফল হয়েছিলেন। তাঁর স্বল্পকালীন শাসনকার্য পরিচালনায় তিনি যে গভীর দেশপ্রেম, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন তা আজও কেউ অতিক্রম করতে পারেনি। শুধু দেশে নয়, ইরাক-ইরান যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের নানা সঙ্কটে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সার্ক গঠনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারসাম্য আনতে চেয়েছিলেন। ভারতের আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্বে ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে জাতিসংঘে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। রাজনৈতিক বিরোধীরাও মৃত্যুর পর তাঁর সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেনি। তাই বাগাড়ম্বর কথার ফুলঝুরি নয় শহীদ জিয়া তাঁর কর্মদক্ষতার মাধ্যমে পেয়েছেন রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদা আর বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের অন্তরে স্থায়ী আসন তাঁকে দিয়েছে অমরত্ব ।

তিনঃ বিএনপি’র জনসমর্থন নিয়ে তার নিন্দুকেরাও দ্বিমত পোষণ করবে না। শহীদ জিয়ার জনপ্রিয়তা, মিলিটারি ও সিভিলিয়ানসহ প্রতিটি সেক্টরে তাঁর দূরদর্শী চিন্তা-চেতনা সর্বোপরি তাঁর বিচক্ষণ রাজনীতি চার দশক পরে এসে আরো শাণিত ও যুগোপযোগী হিসেবে সমাদৃত। শহীদ জিয়ার শাহাদাতের পর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া একমাত্র নেত্রী যিনি বাংলাদেশের প্রতিটি নির্বাচনে পাঁচটি করে আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিবারই নির্বাচিত হয়েছেন । শহীদ জিয়া প্রণীত বিএনপি’র রাজনৈতিক চিন্তাধারা কালজয়ী ও সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ । কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যেও প্রতিটি নেতা কর্মী রয়েছেন অবিচল। সেই ১৯৭৮ সাল থেকে আজ অবধি আপামর মানুষের সমর্থনে বিএনপিতে এতটুকু চিড় ধরেনি ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোটা বিশ্বের মধ্যে জনসমর্থনের দিক থেকে এগিয়ে থেকেও প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দলের মধ্যে রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে রয়েছে একটিমাত্র দল সেটি হলো বিএনপি। জনগণের অকুন্ঠ সমর্থনকে সংঘবদ্ব করে কর্তৃত্ববাদী শাসন মোকাবেলা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য দক্ষ, নিবেদিত ও দেশপ্রেমিক সুশৃঙ্খল কর্মীবাহিনী। এছাড়া নীরব সমর্থনের বাইরে থাকে আরো কিছু সেক্টর বা ফ্যাক্টর যা রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে অথবা ঠিকে থাকতে সহায়কের ভূমিকা পালন করে থাকে। সেদিকে বোধ করি বিএনপিকে আরো একটু চিন্তাশীল হওয়া জরুরি। দেশের অভ্যন্তরে প্রতিটি সেক্টরে বিএনপি’র অসংখ্য শুভাকাঙ্খী ও গুণগ্রাহীরা রয়েছেন যাদেরকে উৎসাহিত ও সংগঠিত করে রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন নিয়ে আসা সম্ভব। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আগ্রাসী পপুলিস্ট রাজনীতির ঢামাঢোলে রাজনীতিতে অনেক সময় সীমাবদ্বতা দেখা দিতেই পারে। তবে গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে এসে সীমাবদ্বতাকে শনাক্ত করে দূরদর্শী পরিকল্পনা ও জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক কার্যকরী কর্মসূচির মাধ্যমে তা কাটিয়ে উঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র । তবে এর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন আত্মভোগীদের বিপরীতে দক্ষ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিকদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করা।

এক্ষেত্রে বলা যায়, খুব সুচতুরভাবে একটি মিথ সৃষ্টি করা হয়েছে যে, বিএনপি সব সময় এন্টি আওয়ামী লীগ সেন্টিমেন্ট নিয়ে ক্ষমতায় গিয়েছে এবং রাজনীতিতে ঠিকে আছে। তবে অনেকেই ভুলে যান যে, বিএনপি যদি শুধু এন্টি আওয়ামী লীগ সেন্টিমেন্টের উপর ভর করে ঠিকে থাকতো তাহলে বিএনপিকে কপি করে গড়ে উঠা এরশাদ সাহেবের পার্টিও সেই জায়গা দখল করে নিতে পারতো। শুধু নেগেটিভ ভোটের উপর দাঁড়িয়ে কোনো দল এতো জনসমর্থন ধরে রাখতে পারে না। তাই শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা চার দশক পর বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও অতুলনীয়। তবে সময়ের চাহিদা মেটাতে ও জনগণের আকাঙ্খার নিরিখে রাজনীতির গতি প্রকৃতি পরিবর্তিত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাজনীতির গতি প্রকৃতিকে পরিবর্তনের খাতিরে আপামর জনসাধারণের আকাঙ্খার বিপরীতে সুবিধাবাদী রাজনীতির ইউ টার্ন সমর্থনযোগ্য নয় । নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ উগ্রপন্থাকে কখনো সমর্থন করে নাই আবার অধিকার আদায়ের আন্দোলনেও পরাজিত হয় নাই। জনগণকে আন্দোলিত করতে প্রয়োজন আত্মস্বার্থভোগী নয় বরং জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নের উপযোগী দক্ষ ও দেশপ্রেমিক কর্মীবাহিনী। সঠিক দিক নির্দেশনার ভিত্তিতে দক্ষ, সৎ ও সুশৃঙ্খল কর্মীবাহিনীই পারে জনগণকে সংগঠিত করে আত্মমর্যাদার লড়াইয়ে জাগ্রত করতে। একবিংশ শতকের চ্যালেঞ্জ, উগ্র ও কর্তৃত্ববাদী শাসকদের মোকাবেলা এবং জ্ঞানভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে দলে দক্ষ, মেধাবী ও সাহসীদের উৎসাহিত করে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা সময়ের দাবি ।
জিয়াউর রহমানের সৈনিক ও রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম প্রতিটি মানুষ শ্রদ্ধাভরে এখনো স্মরণ করে। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি সর্বজনবিদিত। সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও দিক-নির্দেশনা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপি দেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সর্বাধিক সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল। তবে মধ্যস্বত্বভোগী নামে একটা গোষ্ঠী যাতে দলে কখনোই মাথা ছাড়া দিতে না পারে তার দিকে খেয়াল রাখা উচিত । দক্ষ ও সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বুদ্বিভিত্তিক বিভিন্ন পেশার লোকজন সর্বোপরি দেশপ্রেমিক সৃষ্টিশীল মানুষ যারা বিএনপি নামক বট গাছে মাঝে মধ্যে একটু পানি দিতে আগ্রহী তাদেরকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে আস্থায় এনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকে । একটি বৃহৎ দলে বিভিন্ন স্বার্থবাদী মধ্যস্বত্বভোগী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্ঠা করতেই পারে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মেধাহীন, বাককসর্বস্ব ও বাগাড়ম্বর রাজনীতির বিপরীতে কর্মসূচিভিত্তিক, গণমূখী ও মেধার রাজনীতির বিকাশ এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রাতিষ্টানিকরণের মাধ্যমে এদের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব । আর এতে করেই দখলদার স্বৈরাচার তথা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্বে সম্ভব সর্বাত্মক জাগরণী আন্দোলন গড়ে তোলা।

চারঃ জিয়াউর রহমান সময়ের প্রয়োজনেই চার দশক আগে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি। তাঁর গড়া সে রাজনৈতিক দল তার সহধর্মিণী, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আজ দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃত। আর বেগম খালেদা জিয়া দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। বিএনপিকে আরো শাণিত ও সংগঠিত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন শহীদ জিয়ার উত্তরাধিকার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের এ সময়ের অগ্রপথিক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় আমাদের যে জাতীয় অঙ্গীকারগুলো ছিল দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আজ তা সুদূর পরাহত। আগে যারা আত্মস্বার্থ ত্যাগ করে জাতীয় স্বার্থের জন্য লড়াই করেছেন, তাদের জায়গায় এখন আত্মস্বার্থ কায়েমকারীরা জায়গা করে নিয়েছে। জাতীয় অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলসমূহ ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন আওয়ামী লীগের নিজের স্বার্থেই উচিত হবে দেশের সিনিয়র সিটিজেন বয়োবৃদ্ব বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্থায়ী মুক্তি দিয়ে দেশে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা শুরু করা। অন্যথায় লুটপাটের সংস্কৃতিতে গড়ে উঠা ফ্রাঙ্কেস্টাইন দল ও দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

কর্তৃত্ববাদী শাসন ও স্বেচ্ছাচারিতার বিপরীতে মুক্তিযুদ্বের অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে প্রয়োজন প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিতাসম্পন্ন জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতি এবং জনগণের সরকার। এর মাধ্যমে আমরা পেতে পারি একটি মর্যাদাবান দেশের নাগরিকের সম্মান। তাই বাংলাদেশের মর্যাদাবান উত্থানে সকলকে স্ব স্ব স্থানে ভূমিকা রাখা জরুরি। মর্যাদাবান নাগরিকরা উচ্ছিষ্টভোগী হতে চান না, আপন ভাগ্য জয় করবার অধিকার ও সুযোগ চান। মেধা, দক্ষতা ও সততার সমন্বয়ে শহীদ জিয়া তাঁর শাসনকালের স্বল্পতম সময়ে সেই শিক্ষায় দীক্ষিত করে গিয়েছেন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জন্য জন্মগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের জন্যই মারা যান। তাই শুধু অনুষ্ঠানিকতা নয় শহীদ জিয়ার নীতি ও আদর্শকে আত্মস্থ করার মাধ্যমেই তাঁর প্রতি প্রদর্শন করা হবে যথাযথ সম্মান। মহান আল্লাহ যেন এই কর্মবীরকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে আসীন করেন তাঁর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এই কামনা করছি ।

লেখকঃ ডক্টর এম মুজিবুর রহমান ।
৩০ মে ২০২০, লন্ডন ।