নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, 13th ডিসে., 2019

কনজারভেটিভ পার্টির বড় জয়

Share This
Tags
Print Friendly

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় দিয়ে আবারও ক্ষমতায় এলো বরিস জনসনের দল কনজারভেটিভ পার্টি।

সরকার গঠন করার জন্য ৩২৬টি আসনের প্রয়োজন হলেও ক্ষমতাসীন এই দল তার চেয়ে অনেক বেশি আসন পেয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবার পর বরিস জনসন বলেছেন, আগামী মাসে ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনার ম্যান্ডেট দেবে এই জয়। আর হেরেই দলের নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন।

কনজারভেটিভ পার্টি যে লেবার পার্টিকে হারিয়ে আবারও ক্ষমতায় আসছে তা অবশ্য অনেকটাই নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছিল আগে থেকেই; বুথ ফেরত জরিপেও দলটির বড় জয়ের আভাস পাওয়া যায়।

বরিস জনসনের দল কনজারভেটিভ পার্টির জয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই জয়কে তিনি ‘জনসনের বড় জয়’ হিসেবেই দেখছেন।

বৃহস্পতিবার দেশটির সাধারণ নির্বাচনের পর রাত ১০টার দিকে ভোট গণনা শুরু হয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঘোষিত ৬৪৫টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ৩৬২টি আসনে জয় পেয়েছে আর প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি পেয়েছে ২০৩টি আসন।

নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা বরিস জনসন তার অক্সব্রিজ আসনে জয়লাভ করেছেন। তিনি পেয়েছেন ২৫ হাজার ৩৫১ ভোট এবং লেবার পার্টির প্রার্থী আলী মিলানি পেয়েছেন ১৮ হাজার ভোট। নিজ আসনে জয় পেয়েছেন লেবার পার্টির জেরেমি করবিন।

প্রতি পাঁচ বছর পর সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ব্রেক্সিট নিয়ে জটিলতার কারণে যুক্তরাজ্যে গত পাঁচ বছরেরও কম সময়ে তিনটি নির্বাচন হলো।

নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি বড় জয় পেলেও বিরোধী দল লেবার পার্টি থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে জয়ী হয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। জয় পেয়েছেন লেবার পার্টির আরও তিন বাংলাদেশি প্রার্থী আফসানা বেগম, রুশনারা আলী ও রূপা হক।

প্রায় শতবর্ষ পরে এই প্রথম ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হলো ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচন। তীব্র শীতের মধ্যেও বৃহস্পতিবার দেশটির মানুষ ভোট দিয়েছেন। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম ব্রিটেনে শীতকালে ভোট হলো। সর্বশেষ ডিসেম্বরে ভোট হয়েছিল ১৯২৩ সালে।

ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডজুড়ে থাকা ৬৫০টি পার্লামেন্টারি আসনে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।

এবারও ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ পদ্ধতিতে ৬৫০ এমপি নির্বাচিত করছেন ব্রিটেনের জনগণ। এই পদ্ধতিতে একটি আসনে যে প্রার্থী সর্বাধিক ভোট অর্জন করেন, তিনিই এমপি নির্বাচিত হন। এভাবে কোনো দল ৩২৬টি আসন পেলেই সরকার গঠন করতে পারবে। ব্রিটেনের মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৪৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন। যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ৬৮ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ নেতা বরিস জনসন, বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন, লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেত্রী জো সয়িনসন, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেত্রী নিকোলা স্টারজন নিজ নিজ শহরের ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন।

ব্রেক্সিট পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজে ডাক ভোটের মাধ্যমে তার ভোট দেন। আরও অনেক ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দিয়ে ডাকের মাধ্যমে ভোট দিদেন। দুই বছর আগের সাধারণ নির্বাচনে ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ ডাকের মাধ্যমে ভোট দিয়েছিলেন।

এদিকে ভোটগ্রহণ উপলক্ষে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের সেলফি এবং কোনো ধরনের ছবি তুলতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ভোটের দিন ব্রিটেনের বেশিরভাগ অঞ্চলের আবহাওয়া ছিল কিছুটা আর্দ্র। বেশিরভাগ অঞ্চলে ছিল তীব্র শীত। এর সঙ্গে ছিল বৃষ্টি। তবে এই বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও বহু মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছিলেন ভোট দিতে। অনেক কেন্দ্রের সামনে দেখা যায় ভোটারদের দীর্ঘ সারি।