নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, 28th নভে., 2019

নেতাকর্মী গ্রেফতার ও মামলা দায়ের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিন্দা ও প্রতিবাদ

Share This
Tags
Print Friendly

018CC5AE-4300-4FE9-AD09-FC767062A3D3মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৯, রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, শওকত মাহমুদসহ কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়েরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এছাড়া বিএনপি’র আজ বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও গত পরশু রাতে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে গ্রেফতারের ঘটনারও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৯ এক বিবৃতিতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “গণতন্ত্রকে কবরস্থ করার পর দেশকে একদলীয় দু:শাসনের চরম অন্ধকারে নিপতিত করতে বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন ভোটারবিহীন সরকার বিএনপি’র জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করতে এখন লাগামহীন ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনার দু:শাসনের প্রকোপ ক্রমশ: বিপজ্জনক রুপ ধারণ করছে। ভোটারবিহীন সরকার আইনের সীমানার মধ্যে না থেকে চরম সীমালঙ্ঘন করে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে পদদলিত করছে নিষ্ঠুর দমননীতি অবলম্বন করে। এই অগণতান্ত্রিক সরকার গণতন্ত্রের বিধি-বিধান নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা করে না বলেই বিএনপিসহ দেশের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি, বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ সরকার প্রধানের চরম রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার। বিরোধী সভা-সমাবেশসহ মত প্রকাশে নগ্নভাবে বাধা প্রদান করছে সরকার।

বিএনপি মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের এবং মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, খায়রুল কবির খোকন এবং ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে গ্রেফতার শুধু হাস্যকরই নয় এটা বিরোধী দল দমনে সরকারের আর একটি নিষ্ঠুর পদক্ষেপ। গণতন্ত্র এখন মানুষের মন থেকে মুছে দেয়ার জন্য সরকারকে মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার ও অস্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। গণতন্ত্র নিরুদ্দেশ বলেই দেশে মানবতা, সভ্যতার চিহ্নও ক্রমাগতভাবে মুছে যাচ্ছে। দেশে এখন চলছে আদিম অরণ্যের আইন। বিকৃত দু:শাসনে জনজীবনে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজমান। দু:শাসনের শৃঙ্খলভঙ্গের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ জনগণের ওপর সরকার পুলিশী শক্তিকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করছে। এই কারনেই রাষ্ট্র ও সমাজে বিরাজমান রয়েছে চরম অস্থিরতা ও নৈরাজ্যকর পরিবেশ।

সন্ত্রাস-দখল ও জবরদস্তির নীতিই হচ্ছে শেখ হাসিনা সরকারের রাষ্ট্রনীতি। সরকারী মদদে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন আইনানুযায়ী কাজ করতে পারছে না। মনে হয় তারা বিরোধী দল দমনে ফ্রি লাইসেন্স পেয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় অনাচার বৃদ্ধির কারণেই শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ এখন ভয়-ভীতি ও শঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এই ভীতি ও শঙ্কা বিদ্যমান রাখার একমাত্র উদ্দেশ্যই হলো-সরকারের অবৈধ শাসন নিয়ে কেউ যেন টু শব্দ করতে না পারে। মূলত: প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করার জন্যই বিএনপি’র জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের ধারা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

আমি সরকারের প্রতি আহবান জানাই-গণবিরোধী জুলুমের পথ থেকে অবিলম্বে সরে আসুন, অন্যথায় যুগে যুগে সকল স্বৈরাচারের পতনের মতোই আপনাদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং উল্লিখিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আমি আহবান জানাচ্ছি। আমি বিএনপি’র বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন এবং মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।”