নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, 27th নভে., 2019

টুপি-দাড়ি আর বোরকা-হিজাব ধর্ম নয়, ভণ্ডামী

Share This
Tags
Print Friendly

062C5BC1-BDE4-476D-B986-EA3CEB2B2A36আমার আজকের এই লেখা পড়ে আমাকে নিধার্মিক ভাবার কোনো অবকাশ নেই ৷ আমি শুধু কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরার চেষ্টা করছি৷

খুব অবাক লাগে যখন দেখি কোলের বাচ্চা শিশুদের পরনে হিজাব, টুপি, পায়জামা, পাঞ্জাবী আর বোরখা ৷ ধরে নিলাম এই পোষাকগুলি মুসলিম সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করে৷ ধর্মীয় অনুভূতি আর মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়৷ দুধের বাচ্চাটা, যে কথা বলতেই শিখেনি, সে এসব পোষাক ব্যবহার করে কী শিখবে? এমন তো না যে সে তার যৌবনকে আবৃত করে রাখবে৷ কোনো নারী নির্যাতনের কথা উঠলেই পুরুষজাতি পোষাকের দোহাই দেয়, এই শিশুগুলোকে তাহলে এই শিক্ষাই দেয়া হচ্ছে যে ঘরের বাইরে আছে পুরুষ নামক হায়েনার দল৷ তুমি ছোট থেকেই আবৃত থাকো হিজাব আর বোরখা দিয়ে৷ যে কাপুরুষদের চোখের পর্দা নেই, লালসা থাকে নারীর শরীরে; তারা তনু মিতুর মতো হিজাব আর বোরখা আবৃত দেহকেও রক্তাত করবে৷ আবার পূজার মতো শিশুর যৌনাঙ্গ কেটে ধর্ষণ করবে ৷

আবার দেখি কিছু মেয়ে হিজাব পড়ে গায়ে নেটের পাতলা জামা পড়ে৷ আবার কোনো মেয়ের প্যান্ট শার্টের সাথে কালারফুল হিজাব! ঠোঁটে কড়া লিপিষ্টিক আর মুখে মেকাপ! এটি কেমন পর্দা? নিতান্তই ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে এসব হিজাব অপসংস্কৃতি৷ আর বোরখার বিভিন্ন ডিজাইন দেখে মনে হয় এটা টাকা খরচের মহড়া৷ আর কিছু বোরখা মেয়েরা পড়ে যেগুলো শরীরের মাপে বানানো, এসব বোরকার চেয়ে স্যালোয়ার কামিজ বরং আরও ঢিলেঢালা৷ এসব পড়ে কি পর্দা হয় কখনো ?

বোরখা এবং হিজাব কোনো ধর্মীয় পোষাক নয় ৷ ধর্মে উল্লেখ আছে তোমরা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় চাদরের কিছু অংশ দিয়ে মাথা এবং শরীর ঢেকে রাখো৷ আধুনিক যুগে বোরখা আর হিজাবকে নারীরা পর্দার পোষাক হিসাবে বেছে নিয়েছেন, যাতে গুণাহ না হয়৷ কিন্তু তার সাথে উনারা কড়া লিপষ্টিক এবং মেকাপ করেন৷ সেটি কি কোনো বিধানে লেখা আছে?

তাহলে এই অপসংস্কৃতিকে কেনো শিক্ষিত অবোধ নারীরা বেছে নিচ্ছেন? আমার কাছে এটি ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষার মতো কোনো পোশাক মনে হয় না৷ বোরকা-হিজাব নামক এক উদ্ভট ফ্যাশন ভুত এদের কাছে বেশী জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ৷ আর এই পোষাক যদি নারীর নিরাপত্তা দিতো তাহলেও না হয় কথা ছিলো৷ রাস্তাঘাটে বিকৃত পুরুষের লালসার শিকার থেকে কেউ কি বেঁচেছে আদৌ?

নিজের মন হলো আসল বিবেক৷ এইখানে নিজেকে ঠিক রাখাটাই বেশী জরুরী৷ যদি নৈতিকতা শিক্ষার কথায় আসেন তবে শোনেন, পোষাক আর মাদ্রাসা শিক্ষা এসব শিখায় না৷ সেদিন লোকাল বাসে আসার সময় দু’জন মাদ্রাসার ছেলে মহিলা সিটে বসে আরাম করে পা দোলাতে দোলাতে আসলো৷ কতো মহিলা দাঁড়িয়ে থাকলো৷ কতজন তাদের অনুরোধ করলো সিট ছেড়ে দিতে, কিন্তু তারা সিট ছেড়ে দেয়নি৷

মাদ্রাসার শিক্ষকের মুখে দাড়ি, পাঞ্জাবী পায়জামা আর টুপি পড়ে ছাত্রীকে ধর্ষণ করছে৷ সমকামীতার পরিচয় দিয়েছে৷ ঘরে বউকে নির্যাতন করছে৷ ধর্মীয় পোষাক পরে পীর আউলিয়া সেজে চিকিৎসার নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে৷ আর কুসংস্কার ছড়িয়ে দিচ্ছে সমাজে৷ দান বাক্সের টাকা তুলে হরিলুট করছে৷ বোরখা পড়ে মাদক ব্যবসা, বাচ্চা চুরিসহ আরো কতো অপরাধ করছে নারীরা৷ আজকাল নারী, পুরুষ আর শিশুরা বাবা-মার জঙ্গি তৎপরতায় সুইসাইড বোমে নিহত হচ্ছে৷ যারা এসব অন্ধ পথে নিজেদের বিলিয়ে দিচ্ছে তারা সংগঠিত কিছু গোষ্ঠী তারা চায় দেশে অশান্তি বিরাজ করুক৷ আর কিছু মৌলবাদী দল মাথা চাড়া দিয়ে দেশটাকে সহিংসতায় ভরে তুলুক৷

পোষাকই মানবতা, নৈতিকতা আর ধর্ম শেখায় না৷ এটি একান্ত মনের ব্যাপার৷ পোষাকের চেয়ে চোখের পর্দা আর ভালো আচরণের অনুশীলন আগে জরুরী৷

( সংগৃহিত )