নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, 3rd নভে., 2019

২১ পরিবারের জায়গা দখল করে আ’লীগ অফিস নির্মান, উদ্বোধন করলেন কাদের

Share This
Tags
Print Friendly

85B68C69-763E-4D8B-9C8C-EA6051C5D40Dফেনী  পৌর সভার ২ নং ওয়ার্ডটি শহর ঘেঁষে অবস্থিত। এ ওয়ার্ডেই রয়েছে রেল স্ট্যাশন। এর উপর নাম রাখা হয়েছে স্ট্যাশন রোড। এ রোডের ডান পাসে রয়েছে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাস ভবন সহ তার বহুতল মার্কেট ( সুপার মার্কেট) সামনে দুলাল সিনেমাহল । বাস ভবন এবং সুপার মার্কেট ঘেঁষেই জেলা আ’লীগ অফিস নির্মান করা হচ্ছে। তবে, দলিয় অফিস নির্মানের জন্য স্থানটি মোটেও উপযোগ নই। তবুও ওই স্থানে আ’লীগ অফিস কেন নির্মান করা হচ্ছে এমনটাই প্রশ্ন সচেতন মহলের। এ অফিসের জন্য নির্বাচিত স্থানটি ৬২ নং বিরিঞ্চি মোজায় অবস্থিত।

এদিকে, শনিবার ( ২৬ অক্টোবর) অফিসের জন্য বহুতল ভবন নির্মান কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন বাংলাদেশ আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। কিন্তু অফিসের ভিত্তি প্রস্তক স্থাপনের পর জেলা জুড়ে নানান গুঞ্জন শুরু হয়।
আ’লীগ অফিসের ভিত্তি প্রস্তক স্থাপনে এত গুঞ্জন কেন ?
এর অনুসন্ধানে জানাযায়, এ খানে এক সংখ্যালঘু পরিবারসহ ২১ পরিবারের ১০ কোটি টাকা মুল্যের প্রায় ১০ শতক জায়গা জবর দখল করে নির্মান করা হচ্ছে এ অফিস। ফেনী জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী হুমকি -দমকি দিয়ে এ জায়গা দখল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এ জায়গা জবর দখলে নেতৃত্ত্ব দিয়েছে ফেনী জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাজীব চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ( ২ নং ওয়ার্ড কমিশনার) খোকন হাজারী। অন্যদিকে সাংবাদিক মেনেজ এর দায়িত্ব নিয়েছেন ফেনী সদর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু শুসেন।
সরেজমিনে গিয়ে জায়গার মালিক ইসমাইল ( পূবালী ইলেকট্রনিক্স) এর সাথে কথা বলে জানাযায়, দুই বছর আগে তিনি (ইসমাইল) সুনিল পাল গং থেকে ১ কোটি ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আড়াই (২.৫০) শতক জায়গা ক্রয় করেন। তার ইচ্ছে ছিল এ জায়গায় দালান নির্মান করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করবেন এবং নিজের মাথা গজানোর জন্য ঘর করবেন । কিন্তু সাংসদ নিজাম হাজারী তার স্বপ্ন ভেঙ্গে দিল। তিনি (ইসমাইল) বেদনা দায়ক কন্ঠে বলেন, ঘর ভাঙ্গা – মন ভাঙ্গা একই। আমি (ইসমাইল) নিজাম হাজারীর কাছে এমন কিছু আসা করি নি। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখের দিকে সাংসদ নিজাম হাজারী ফোন করে বলেন, জায়গাটি তার (নিজাম হাজারীর) লাগবে। এরপর দেখি লেবার এসে দালান ভেঙ্গে জায়গা দখল করছে।
আইনের আশ্রয় নেন নি কেন ? এমন প্রশ্ন করা হলে ইসমাইল বলেন, জলে থেকে কুমির এর সাথে যুদ্ধ করা যায় না। জায়গায় -জায়গা গেল, তবুও আতঙ্কে আছি।
নিজাম হাজারী জায়গার ক্ষতি পূরন দিবেন ? এমন প্রশ্ন করলে ইসমাইল বলেন, অনুমানিক মঙ্গরবার ( ২২ অক্টোবন) ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে।
বর্তমানে আপনার (ইসমাইল) জায়গার মূল্য কত? জানতে চাইলে ইসমাইল বলেন, প্রায় দুই কোটি।
সাংসদ নিজাম হাজারী আপনাকে (ইসমাইল) দুই কোটি টাকা দিবেন? জানতে চাইলে ইসমাইল বলেন, কত টাকা দিবেন এ বিষয়ে কোন কথা হয় নি। সাংসদ বলেছেন দলিল বা জায়গা রেজিস্ট্রি করতে বাকী টাকা দিবেন।

সরেজমিনে গিয়ে জায়গার মালিক মিথুন দে’র ( দত্ত হোমিও ষ্টোর) সাথে কথা বলে জানাযায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে মিজান নামের এক ব্যক্তি থেকে ৭০ লক্ষ টাকা দিয়ে দেড় (১.১৩) শতক জায়গা ক্রয় করেন। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে তার (মিথুন) চোখের সামনে আ’লীগ নেতাদের উপস্থিতে লেবারেরা জায়গা দখল করেছে। তার (মিথুন) চোখের সামনে জায়গা দখল করলেও কিছু বলার সাহস পাই নি।

আইনের আশ্রয় নেন নি কেন ? জানতে চাইলে মিথুন বলেন, বাঘের খাচায় থেকে বাঘের সাথে যুদ্ধ করা যায় না।
জায়গার ক্ষতি পুরন পাবেন বলে মনে হচ্ছে ? এমন প্রশ্ন করা হলে মিথুন বলেন, অনুমানিক ২২ অক্টোবন ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে।
বর্তমানে আপনার জায়গার মূল্য কত ? সব টাকা পাবেন ? এমন প্রশ্ন করা হলে মিথুন বলেন, বর্তমানে জায়গার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। সব টাকা পাবো কি না জানি না। তবে, সাংসদ বলেছেন জায়গা রেজিস্ট্রি বা দলিল করতে বাকী টাকা দিবেন।

সরেজমিনে গিয়ে জায়গার অন্যতম মালিক নাবালক মিয়ার খোঁজ নিয়ে জানাযায়, তিনি (নাবালক মিয়া) দুই বিয়ে করেন। তার (নাবালক মিয়া) প্রথম সংসারে ৫ ছেলে ২ মেয়ে। ৫ ছেলের মধ্যে সবার বড় শহীদউল্যাহ তারপর মোহাম্মদ উল্যাহ, সিরাজ মিয়া, বেলাল মিয়া ও মোস্তফা মিয়া। দ্বিতীয় সংসারে ১ ছেলে ২ মেয়ে। দ্বিতীয় সংসারের ছেলের নাম হেলাল মিয়া। শহীদউল্যাহ সাংসদ নিজাম হাজারীর জেঠাতো বোনের দিকে ভগ্নীপতি এবং শহীদউল্যাহর সাথে সাংসদ নিজাম হাজারী সু -সম্পর্ক। এক দিকে সংসারের বড় অন্যদিকে সাংসদের ভগ্নীপতি। সব কিছু মিলেই শহীদউল্যার কাছে ক্ষমতার ভান্ডার। সেই সুবাদে জায়গা দখলে নিজাম হাজারীর সাথে শহীদউল্যাহ জড়িত। আর পরিবারের অন্য সদস্যারা অসহায়।

শহীদউল্যার সাথে বলতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বারে একাদিক বার ফোন করেও তাকে ( শহীদউল্যাহ) পাওয়া যায় নি।
এরপর দ্বিতীয় ছেলে মোহাম্মদ উল্যার খোঁজ নিয়ে তার (মোহাম্মদ উল্যাহ) সাথে কথা বলে জানাযায়, শহীদউল্যাহ তার ক্ষমতার বলে সংসারে যা মন চায় তা করেন। তার (শহীদউল্যাহ) বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পরিবারের কার নেই। কারন তিনি (শহীদউল্যাহ) নিজাম উদ্দিন লোক। তার (শহীদউল্যাহ) ক্ষমতার বলে ৬ ভাই ৪ বোনের ৫ শতক জায়গার প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টায় আছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জায়গায় মালিক মিদ্দা বাড়ির কালা মিয়ার গং এর সাথে কথা বলে জানাযায়, তাদের (কালা মিয়া) দেড় শতক (১.৫০) জায়গাও জোর পূবর্ক দখল করেছে সাংসদ নিজাম হাজারী।যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। তিনি (কালা মিয়া) বলেন, জায়গা দখলের সময় মোবাইলে জানতে পারি যে আমাদের জায়গা জবর দখল করছে আ’লীগের লোকেরা।
নিজাম হাজারী বা আ’লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে? জানতে চাইলে কালা মিয়া বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা নেই। কারন, নিজাম হাজারী যাই বলেন পুলিশ -প্রশাসন তাই শুনেন।

এদিকে, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত বাংলাদেশ আ’লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ফেনীর সাবেক ৩ বারের সাংসদ জয়নাল হাজারী মঙ্গরবার ( ২৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেন, শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে ২১জন নিরীহ ভুমি মালিকদের ১০ কোটি মুল্যের জায়গা দখল করে ফেনী জেলা আ’লীগ কার্যালয় করার পায়তারা করছে এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী।
বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফেনী জেলা আ’লীগের সভাপতি আকারামুজ্জানকে জিজ্ঞাসা করতে একাধিক বার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায় নি।

জেলা আ’লীগের সদ্য সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান বিকম বলেন, জেলা আ’লীগের এক প্রস্তুতি সভায় নিজাম হাজারী বলেছিলেন , তিনি আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের জন্য তার ক্রয়কৃত ১০শতক জমি দান করবেন। তবে উদ্বোধন হলেও আ’লীগ কার্যালয়ের নামে কোন দলিল রেজিষ্ট্রি হয়নি।

তবে স্থানীয়রা মনে করেন, সাংবাদিকেরা অর্থের কাছে মেনেজ হয়ে যাওয়ার ফলে গুরুত্ত্বপূর্ণ খবরটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছেনা। এমন গুরুত্ত্বপূর্ণ খবর সাংবাদিকেরা দামাপাচা দেয়া উচিত হয় নি।