নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, 5th এপ্রিল, 2019

মমতার সামনে দার্জিলিং চ্যালেঞ্জ

Share This
Tags
Print Friendly

Screen Shot 2019-04-05 at 07.55.53পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি এলাকার একমাত্র লোকসভা আসন দার্জিলিংয়ে জয় পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে খোদ রাজনৈতিক মহলে। মনে করা হচ্ছে, এই আসনে চার প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। মমতাকে বেগ দিতে এবার এক জোট হয়ে আসরে নেমে পড়েছে দার্জিলিংয়ের দুটি শক্তিশালী আঞ্চলিক দল জিএনএলএফ ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা।

একদিকে জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুং অংশ। অন্যদিকে জিএনএলএফ। সঙ্গে আছে স্থানীয় আরও দুটি দল। ফলে এবারের জয় নিয়ে চার দলেই দেখা দিয়েছে সংশয়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক বছর ধরে প্রচার চালিয়ে আসছেন যে লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনেই এবার জিততে চলেছে তৃণমূল। এই ৪২ আসনে এবার আর কেউ ভাগ বসাতে পারবে না। এই লক্ষ্যে দলীয় নেতা–কর্মীদের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। যদিও সর্বশেষ গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে তৃণমূল এই ৪২ আসনের মধ্যে জিতেছিল ৩৪টি আসনে। ৪টি গিয়েছিল কংগ্রেসের ঝুলিতে আর ২টি করে আসন গিয়েছিল বিজেপি ও বামফ্রন্টের থলিতে। দার্জিলিং আসনও গিয়েছিল বিজেপির থলিতে। শুধু গত বছর নয়, ২০০৯ সালের নির্বাচনেও দার্জিলিংয়ে জিতেছিল বিজেপি। এই দুই নির্বাচনে বিজেপির পাশে ছিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। এবার সেখানে যুক্ত হয়েছে জিএনএলএফ।

তাই এবার বিজেপিকে হটানোর জন্য মমতা আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। ভেঙেও দিয়েছেন দার্জিলিংয়ের শক্তিশালী দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে। এখন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মমতার সমর্থিত অংশের নেতা বিনয় তামাং ও অনিক থাপারা। আর বিরোধী অংশের নেতা বিমল গুরুং ও রোশন গিরিরা।

২০১৭ সালের জুন মাসে দার্জিলিংকে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য করার দাবিতে জনমুক্তি মোর্চা আন্দোলন শুরু করলে মাঠে নেমে পড়েন মমতা। স্তব্ধ করে দেন বিমল গুরুংয়ের পৃথক রাজ্যের আন্দোলনকে। একের পর এক মামলা দিয়ে বিমল গুরুংকে দার্জিলিং ছাড়া করেন। বিমল গুরুংও আত্মগোপন করেন। মমতা এই সময় জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুংয়ের বিরোধী বিনয় তামাংকে কাছে টেনে নিয়ে দার্জিলিংয়ের স্বশাসিত সংস্থা জিটিএর শীর্ষপদে বসান। মমতা বুঝে নেন বিমল গুরুংরা শেষ হয়ে গেছেন। ফলে দার্জিলিংয়ে নিজের দলের প্রার্থী ঘোষণা করে দেন অমর সিং রাইকে। কিন্তু এটাই মেনে নিতে পারছিলেন না বিরোধী বিমল গুরুংরা। তাঁরাও ঘোষণা দেন তাঁরা দার্জিলিংয়ে পাল্টা প্রার্থী দেবেন। এরপরেই জিএনএলএফ এবং জনমুক্তি মোর্চার নেতৃত্ব বিজেপির প্রার্থী রাজু সিং বিস্তকে সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।

২০১৪ সালের নির্বাচনে দার্জিলিং আসনে সাংসদ হয়েছিলেন বিজেপির সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। তিনি এবার আর এই আসনে লড়ছেন না। কারণ, তিনি সাংসদ হওয়ার পর তেমন পা রাখেননি দার্জিলিংয়ে। তাই দার্জিলিংবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন তাঁর ওপর। যদিও আলুওয়ালিয়া সাংসদ হয়েছিলেন গোর্গা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থন নিয়ে। জনমুক্তি মোর্চার নেতা ছিলেন বিমল গুরুং। কিন্তু মোর্চা নেতা বিমল গুরুং ২০১৭ সালের জুন মাসে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলনকে ঘিরে অশান্ত হয়ে পড়ে দার্জিলিং। আড়াই মাসের বেশি দিন ধরে একটানা বন্‌ধ্‌ চলে দার্জিলিংজুড়ে। এরপর মমতা মাঠে নেমে শান্ত করেন দার্জিলিংকে। ভাঙন ধরানো হয় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায়। মমতা কাছে টেনে নেন জনমুক্তি মোর্চার দ্বিতীয় শক্তিধর নেতা বিনয় তামাংকে। ফলে ভেঙে যায় জনমুক্তি মোর্চা। একদিকে বিমল গুরুং-রোশন গিরি আর অন্যদিকে বিনয় তামাং ও অনিত থাপা। সেদিনের বন্‌ধকে ঘিরে একের পর এক মামলা দায়ের হয় বিমল গুরুং, রোশন গিরিসহ জনমুক্তি মোর্চার অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধে। ফলে বিমল গুরুংরা আত্মগোপন করেন।

এদিকে এবার দার্জিলিংয়ে নতুন করে জোট হয়েছে চির প্রতিদ্বন্দ্বী জনমুক্তি মোর্চা ও জিএনএলএফের মধ্যে। এক সংবাদ সম্মেলন করে বিবৃতি দিয়ে তারা জানিয়ে দিয়েছে এই দুই দল পাহাড়ের অন্যান্য দলকে নিয়ে লোকসভা নির্বাচনে লড়বে। লক্ষ্য দার্জিলিং থেকে তৃণমূলকে হটানো। সংবাদ সম্মেলনে এই দুই দল তৃণমূলকে ‘মীরজাফর’ রূপে আখ্যাও দেয়।

মমতা দার্জিলিংয়ে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বর্তমান জনমুক্তি মোর্চার বিধায়ক অমর সিং রাইকে। তিনি দার্জিলিং বিধানসভার বিধায়ক। তবে তিনি লড়বেন তৃণমূলের প্রতীকে। অমর সিং রাই একজন অধ্যাপক। এখানের লরেটো কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন। এখন আছেন ক্রিশ্চিয়ান সাউথ ফিল্ড কলেজের সঙ্গে। একসময় তিনি দার্জিলিং পৌরসভার চেয়ারম্যানও ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার টিকিটে বিধায়ক হন।

জিএনএলএফ এবং জনমুক্তি মোর্চা জানিয়ে দেয়, তারা এনডিএর পক্ষের প্রার্থী রাজু সিং বিস্তাকে সমর্থন দিচ্ছে। বিজেপি রাজু সিং বিস্তাকে প্রার্থী করেছে। ৩৩ বছর বয়সী রাজু সিংয়ের দার্জিলিং জুড়ে রয়েছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। দিল্লিতে থাকেন। শিলিগুড়িতে বাড়ি রয়েছে। শ্বশুরবাড়ি রয়েছে। দিল্লির একটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘সূর্যরশ্মি লিমিটেডের’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

এই আসনের বাম দলের প্রার্থী হয়েছেন সাবেক বাম সাংসদ সমন পাঠক। তাঁর বাবা আনন্দ পাঠকও ছিলেন এই আসনের একসময় সাংসদ। এখন সমন পাঠক সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটুর সঙ্গে জড়িত। তিনি সিটুর দার্জিলিং জেলা সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

আর চতুর্থ প্রার্থী হয়েছেন কংগ্রেসের শংকর মালাকার। শংকর মালাকার দার্জিলিংয়ের মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি আসনের কংগ্রেসদলীয় বিধায়ক। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কংগ্রেসের নির্বাহী সভাপতিও। এ ছাড়া তিনি দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের সভাপতিও।

ফলে এবার দার্জিলিংয়ে আর সহজভাবে জিততে পারছে না কোনো প্রার্থী। লড়তে হচ্ছে তাঁদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে। দার্জিলিংয়ের নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮ এপ্রিল।

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons