নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, 23rd ডিসে., 2018

ফ্যাসিবাদী হাসিনাকে নির্মূল করে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে

Print Friendly

মোহাম্মদ রাশেদ আলম  ও  এম ডি আনিছুজ্জামান

c21126a429c307ea62e709d1903c992b7514894bযুক্তরাজ্যে আমার বন্ধু আজির উদ্দিনকে দেশ নিয়ে জিজ্ঞেস করি। বলি, “কেমন চলছে স্বদেশ?” উত্তরে আজির যা বলে সেটা আমাদের সকলের চিন্তার খোরাক হতে পারে। আজির উদ্দিনের ধারনা শেখ হাসিনার পরিণতি হওয়া উচিৎ তার বাবার মতন। যদিও খুন-হত্যা বা ক্যু এগুলো সমর্থনযোগ্য নয় কিন্তু আজিরের ধারনা বাংলাদেশে এই ফ্যাসিবাদ মুক্ত করবার একটাই উপায়, আর সেটি হচ্ছে হাসিনার পতন ও বংশসহ সম্পূর্ণ নির্মূল করা ঠিক যেমন করে নির্মূল করা হয়েছে শেখ হাসিনার পিতা শেখ মজিবুর কে। আজিরের অবশ্য এই রেজিমের উপর রেগে থাকবার কিছু জরুরী কারন রয়েছে। এই আওয়ামী খুনে সরকারের আমলেই আজির চরমভাবে আওয়ামী পেটোয়াবাহিনী পুলিশের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন। এখনো অনেক কিছু তিনি মনে করতে পারেন না, এখনও সেসব স্মৃতি দুঃস্বপ্ন হয়ে আজিরকে তাড়া করে ফেরে। আজিরের সাথে আমি যতদিন পথ চলেছি আর আমাদের যতদিন পরিচয়, বারবার আমি আজিরকে দেখে চমকে উঠেছি। লোকটা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা এতটাই নির্যাতিত হয়েছে যে এখন আর কোনো মানুষকে বিশ্বাস করতে পারেন না, কিংবা কারো সাথে আস্থা নিয়েও কথা বলতে পারেন না। তাঁর শুধু একটাই প্রতিজ্ঞা যে, সুযোগ পেলেই হাসিনাকে সে দেখে নেবে কিংবা বংশ সহ নির্মূল করে দিবে।

আজির অস্ফুট স্বরে তাই বলেন, “হাসিনার পুরো বংশ হচ্ছে ফেরাউনের বংশ। এদের রক্তে রক্তে সুবিধাবাদের পাপ। এই দেশ থেকে এদের যে কোনো উপায়েই নির্মূল করতে হবে। এদের হঠাতে যা কিছু সম্ভব আমি করে যাব”

একই চিন্তা ভাবনা এম ডি হাসনাইনের। আমার আরেক বন্ধু, সুহৃদ। যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এই কর্মী কোনো ক্রমেই তাঁর ক্ষোভ লুকিয়ে রাখতে পারেন নি। তিনিও আজির উদ্দিনের মত বলেন, “হাসিনাকে তার বাবার মত নিঃশেষ করে দিতে পারলেই হয়ত বাংলাদেশ মুক্ত হবে। নতুন করে এই দেশ স্বাধীন হবে। কেননা দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে এই কুচক্রী নারী ছিনিমিনি খেলছে। তার পুরো পরিবার দূর্নীতির সাথে সম্পূর্ণ যুক্ত এবং দেশের মানুষের অর্থ আত্নসাৎ-ই এই হাসিনার মূল ধর্ম। ভারতের একটা অঙ্গ রাজ্য প্রতিষ্ঠায় হাসিনার যে ভূমিকা সেটির জন্য বাংলাদেশের সর্ব স্তরের মানুষকে নেমে আসতে রাজপথে। আওয়ামী এই দুঃশাষনের এই যাঁতাকলে পিষ্ট মানুষেরা হাসিনাকে নামাবে দখল করে রাখা গদি থেকে। একবার সুযোগ পেলে আমি নিজেই নির্মূল করে দেব এই আওয়ামী পুরো বলয়। এই পৃথিবী থেকে হাওয়া করে দেবো আওয়ামীলীগের নাম। হাসিনার নাম”

হাসনাইনের পাশে বসে থাকা শাহ মোহাম্মদ শাহীনুর রব, মশিউল হুসেইন খান, কাউসার হামিদ, কিংবা নিজাম উদ্দিন দোদন, ঐ তিন তরুনেরও মতামত এক। আরেকটি ১৫ ই আগস্ট রচনা করতে হবে এবং শেষ করে ফেলতে হবে ফ্যাসিবাদকে। হাসিনাকে নির্মূল করা না গেলে ফিরে আসবে না গণতন্ত্র। শাহীনুর রব তো বলেই ফেললেন, “হাসিনাকেই আমি তার বংশ সহ শেষ করে দিতে চাই মাঝে মধ্যে। তার প্রতি আমার এত ক্ষোভ”। মশিউল হোসেইন বললেন, “হাসিনা আর দূর্নীতি একই শব্দের পরিপূরক। দেশের টাকা দিয়ে তার ছেলে আমেরিকায় পড়াশোনা করছে এবং তার মেয়েও এইসব টাকা দিয়ে আরামে রয়েছে”। কাওসার হামিদ তো বলেই বসলেন যে “প্যারামিলিটারী গঠন করে হাসিনার মত লুটেরাদের বিচার হতে হবে এবং উৎখাত করতে হবে”

নিজাম উদ্দিন দুদন এইসব আলাপে যেন ফুঁসছিলেন। হাসিনার আমলে তাঁর পরিবার রীতিমত নিঃশ্বেস হয়ে গেছে। পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তিনি বলেন “হাসিনাকে এই বাংলার জমিনেই জবাব দিতে হবে। এই দেশেই এই ডাকাত মহিলার বিচার হবে। এই খুনী হাসিনার বিচার হবে। হাসিনা গত ১১ বছরে বাংলাদেশে থেকে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। কয়েক লক্ষ আলেমকে হত্যা করেছে”

IMG_9416

নির্যাতনের স্বীকার আযির উদ্দিন

এইসব আলাপে মনটা দেশের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। ইচ্ছে করে ফেরত যাই আবার। আবার দোয়েলের শীষ শুনি, শালিকের কিচির মিচির। পদ্মার ইলিশের ঘ্রাণ, মেঘনার দীর্ঘ নদী। আহা…দেশটা বড় টানে আমাকে। কিন্তু পরক্ষণেই ভাবি, এই দেশতো আর দেশ নেই। এটা হয়েছে ভারতের একটা করদ রাজ্য। একটা কলোনী। ভারতের হুংকারে, প্রভাবে এই দেশটা আজ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন। প্রতিটি সেক্টরে ভারত। দেশের অনেকেই বলেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এখন চালায় ভারতের “র”। ক্যান্টনমেন্টে এখন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অফিস । বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পুরো চেইন অফ কমান্ডই নাকি ভেঙ্গে গেছে বলেও শোনা যায়। ভেতরে ভেতরে তীব্র অষোন্তোষ দানা বেঁধে উঠছে। অনেক অফিসারদের ফোর্স রিটায়ারমেন্টে পাঠানো হচ্ছে, করা হচ্ছে চাকুরীচ্যুত। মোট কথা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রচ্ছন্ন ইশারাতেই চলছে বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ট্রাঞ্জিট বলি, আকাশ সংস্কৃতি বলি কিংবা বলি পোষাক খাত, প্রতিটি স্থানেই শুধু ভারত আর ভারতের নাগরিক। কিছুদিন আগেই ভারতের এক দৈনিকে দেখলাম ভারতের সকল বিদেশী অর্থ বা শ্রমের অর্থের ৪ নাম্বার ক্রিমিকেই বাংলাদেশ। সংখ্যাটা প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চিন্তা করা যায়? বাংলাদেশ থেকে ভারতের নাগরিকেরা প্রতি বছরে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিয়ে যাচ্ছে।

বন্ধু মোহাম্মদ আবু জোবায়ের রব্বানীর সাথে সেদিন হোয়াইট চ্যাপেলে দেখা হোলো। দেখা হতেই বুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো রব্বানি। আমি ভাবতেই পারিনা। রব্বানীর মত জাতীয়তাবাদের এমন কৃতী কর্মী যার নাম শুনলেই কেঁপে উঠতো অনেকেই, আজ রব্বানীকেই কাঁদতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন তিনি দেশে যেতে পারেন না। দেখেন না পরিবারকে। এমন অবস্থায় শুধু রব্বানি নয়, অসংখ্য রব্বানি রয়ে গেছে সারা পৃথিবী জুড়ে। রব্বানি তীব্র ভাষায় বলে ওঠে, ” এই ভারতের র-ই এখন চালাচ্ছে বাংলাদেশের তিন বাহিনীকে। আর পুলিশ-র‍্যাব এদের কথা বাদই দিলাম। বন্ধু যদি সুযোগ পাই তাহলে হাসিনাকে আমি চিরতরে শেষ করে দেব”

রব্বানির এই তীব্র আর্তনাদ আমি বুঝতে পারি। হাসিনাকে নিঃশেষ করে দেবার স্বপন শুধু আমি নই। রব্বানি, আজির, হাসনাইনের মত এমন অসংখ্য তরুণের স্বপ্ন এখন। বলা যায় দেশের সকল তরুনই হাসিনাকে ঘৃণা করে মনে আর প্রাণে।

বাংলাদেশে গুম আর খুনের প্রসঙ্গ যদি আনতেই হয়, বলতে হবে এটির আর সীমা কিংবা পরিসীমা নেই। গত প্রায় ১০ বছর ধরে বাংলাদেশে বিরোধী দলীয় কর্মীর কে কে গুম হয়েছেন? কে কে হারিয়ে গেছেন? সেসবের আদৌ কি কোনো পরিসংখ্যান আমাদের হাতে রয়েছে? আমরা কিয়া দৌ তার সত্যকারের কোনো খোঁজ জানি?

দেশে গত একযুগে সাম্রাজ্যবাদী হাসিনার আমলে অপহরণের শিকার ও নিখোঁজ হয়েছেন ১৭ হাজার ১৬১ জন। এদের মধ্যে তিনশ’ জনের লাশ পেয়েছে স্বজনরা। উদ্ধার হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন মাত্র কয়েকশো। বাকি প্রায় সাত হাজার হতভাগার এখনো কোনো খোঁজ পায়নি স্বজনরা। অপহরণ ও গুমের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিন সহস্রাধিক ব্যক্তি। এটা নিশ্চিত যে হাসিনার নিরাপত্তা বাহিনীর নামে একটি অপরাধী চক্র এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। নানা ধরনের বিরোধের জের ধরেই এগুলো করা হয়ে থাকে। র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দাবি করেন, ধীরে ধীরে নিরাপত্তা বাহিনীর অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও অপরাধ রোধে সাফল্যের হার বাড়ছে। বর্তমানে RAB, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নাম, তাদের পোশাক ও হ্যান্ডক্যাফ অপহরণ ও গুমের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ সুযোগ গ্রহণ করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের, প্রভু রাষ্ট্রকে খুশি করার, দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি ও নানা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে অপহরণ, গুম ও নিখোঁজ আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানান। কেউ প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্যও আত্মগোপন করেছে। এছাড়া চলতি বছরের তিন মাসে দেশে ১৯৬ জন ব্যক্তি অপহূত হয়েছেন। তাদের মধ্যে লাশ হয়ে ফিরেছেন ৬২ জন। জানা যায়, ১২ বছরের মধ্যে ২০০২ সালে ১০৪০, ২০০৩ সালে ৮৯৬ জন, ২০০৪ সালে ৮৯৮ জন, ২০০৫ সালে ৭৬৫ জন, ২০০৬ সালে ৭২২ জন, ২০০৭ সালে ৭৭৪ জন, ২০০৮ সালে ৮১৭ জন, ২০০৯ সালে ৮৫৮ জন, ২০১০ সালে ৮৭০ জন, ২০১১ সালে ৭৯২ জন, ২০১২ সালে ৮৫০ জন ও ২০১৩ সালে ৮৭৯ জন অপহরণ, গুম ও নিখোঁজ হয়েছেন। এমন প্রতিবেদন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, অপহরণ, গুম কিংবা খুনের ঘটনা নতুন কোনো বিষয় নয়। প্রতিটি সরকারের সময় এমন ঘটনা ঘটেছে। শুধু অপহরণ কিংবা গুম নয়, বিগত একবছরে বিভিন্নভাবে দেশের সাধারণ মানুষকে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। কোনোটির যথাযথ বিচার হয়েছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোল বোমায় মানুষ নিহত হওয়া এবং এর কোনো উপযুক্ত বিচার না হওয়া, পুলিশের গ্রেপ্তার-বাণিজ্য, প্রতিটি অপরাধ ঘটার পর শত শত এমনকি হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের এবং এক্ষেত্রে সাধারণদের হয়রানি প্রভৃতি কর্মকাণ্ড নির্দ্বিধায় চলমান থাকাতে নানাবিধ অপতত্পরতা অতি উত্সাহে ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সরকার কি বলতে পারবে যে অন্তত একটা কাজ বন্ধের যথাযথ উদ্যোগ নিয়েছে? এক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাই বা কেমন? তারা কি শুধুই দর্শক?

এ কথা আমরা সবাই জানি যে, গুম, অপহরণ আর হত্যার প্রথম প্রকাশ্য আইনগত লাইসেন্স দেয়া হয় গত বিএনপি সরকারের আমলে। জাতীয় সংসদ দ্বারা প্রণীত এবং পাসকৃত যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন, ২০০৩-এর মাধ্যমে। ওই আইনের মাধ্যমে ২০০২-এর অক্টোবর থেকে ২০০৩-এর মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত তথাকথিত অপারেশন ক্লিন হার্টের সময় যেসব ব্যক্তি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত, আহত-পঙ্গু হয়েছিলেন তারা কেউই কোনো কারণে ওইসব অপরাধের জন্য বিচার চাইতে পারবেন না। আমাদের মহান জাতীয় সংসদ আইন করে বলে দিল, এ দেশে যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত-নির্যাতিত-পঙ্গু হবেন তারা কোনো মামলা করতে পারবেন না। এভাবেই তাদেরকে আইনের ঊর্ধ্বে রেখে দেয়া হয়।

কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কি জারি রয়েছে? হচ্ছে কি কোনো কথা? বাম নামের সেই বড় বড় কথা বলনে ওয়ালা পাখিরাই বা আজ কোথায়? তাকিয়ে দেখুন বামরা প্রতিবাদ করছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ভেনেজেুয়েলায় আমেরিকার ‘হস্তক্ষেপ’ নিয়ে। বাম ভাইয়েরা মাইণ্ড করবেন কিনা জানিনা তবুও বলি, বামদের কাছে সেই ষাটের দশকের চিন্তার মতো সাম্রাজ্যবাদ মানেই আমেরিকা। হুঁশ নেই যে গত ২৫ বছরে সাম্রাজ্যবাদের বহু বাচ্চা জন্মেছে, সেই বাচ্চাদের কেউ কেউ সাবালকও হয়েছে- আমেরিকাকে হুমকি দেবার মত ক্ষমতাও রাখে! 

ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে আমেরিকা যা করে বা করতে চায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত একই জিনিস করে বা করতে চায়। আমেরিকা বরং আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এমন কিছু করেনা যার কারণে ভেনেজুয়েলায় তার প্রভাব পড়ে। উল্টো দিকে ভারত তার আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এমন বিপদজনক কাজ করে যার প্রত্যক্ষ অভিঘাত এসে বাংলাদেশে পড়ে। ভেনেজুয়েলায় আমেরিকান হস্তক্ষেপের চাইতে বাংলাদেশে ভারতের হস্তক্ষেপ অনেক বেশী ক্ষতিকর। ভেনেজুয়েলার ঘটনা কি আমাদের দেশের মানুষের জীবনকে কোনভাবেই স্পর্শ করবে? নাকি মোদির নাগরিকত্ব বিলের ঘটনা আমাদের স্পর্শ করবে? কোনটা নিয়ে প্রতিবাদটা প্রায়রিটি? এইটা তো কাণ্ডজ্ঞান।

ভেনেজুয়েলার নির্বাচন কি অনেকটা বাংলাদেশের মতোই হয়নি? সেই কারচুপিকে কেন বামেরা জাস্টিফাই করবে? তারপরেও যদি মনে হয় বাম দায় থেকে প্রতিবাদ করা দরকার, তাহলে এটা কড়া বিবৃতিই যথেষ্ট হতো। বামদের বাংলাদেশের এই জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এই বামরা দেখি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে নানাবিধ উদ্ভট তত্ব আবিষ্কার করেন। এই বিষয়ে বলে রাখা ভালো যে, জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া কোন বিকল্প ছিলো না। নির্বাচনে গিয়েই তারা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভোট ডাকাতির ঘটনা দেশবাসী সহ বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করতে পেরেছে।

এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটারসহ ছয় থেকে সাত কোটি ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। একটা নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া যে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না, এই ভুয়া নির্বাচনে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে ২০১৪ র নির্বাচন যারা বর্জন করেছিলেন তাদের যুক্তি ও সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো।

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অর্জন একটা জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে যা একদিকে আওয়ামী লীগ আরেক দিকে বাকী সবাই, ডান, বাম, মধ্যপন্থী, আস্তিক, নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী, ধর্মবাদী, জাতীয়তাবাদী, লিবারেল, স্যেকুলার সবাই। এই ঐক্যটা জরুরী ছিলো।

কিছুদিন আগে আমার আরেক বন্ধু শাহ মোহাম্মদ শাহীনুর রবের সাথে দেখা হলো , “এই লড়াইটা এই নির্বাচনেই শেষ হবেনা, এই লড়াই দীর্ঘ হবে। সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ঐক্যটা এই ভোটের মধ্যে দিয়ে হয়ে গেল।”

২০১৪ র নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগ যেই লেজিটেমিসির সংকটে পড়েছিলো সেই সংকট এই নির্বাচনে আরো গভীর হল। জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের উচিত হবে শাসক দলের এই নড়বড়ে লেজিটিমিসি আর নৈতিক অবস্থার মধ্যেই তারা যে আন্দোলনের কৌশল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, সেই আন্দোলনের একটা রূপরেখা দ্রুতই জাতির সামনে উপস্থাপন করা। ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে আওয়ামী লীগের কোন বিজয় হয়নি বরং ডিজ্যাস্ট্রাস নৈতিক পরাজয় হয়েছে যেই নৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ অদূর ভবিষ্যতে আর ফিরে পাবেনা।

আমি তো বলি এই ফ্যাসিবাদী হাসিনার গদি এখন আর আসলে আন্দোলন-সংগ্রাম নয় বরং অস্ত্রহাতে দমন করা দরকার। দেশের সেনাবাহিনীর উচিৎ ভারতের গোয়েন্দা বাহিনী, “র” এর প্রভাব থেকে নিজেকে প্রথমে মুক্ত করা। হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করা ও কোর্ট মার্শালে দেয়া। তারপরই যা সেনাবাহিনীকে করতে হবে, তা হচ্ছে, হাসিনাকে টান দিয়ে গদি থেকে নামানো এবং তাকে পারলে ক্রসফায়ারে নিয়ে মেরে ফেলা। এই একটি অমানুষ এই বাংলাদেশকে যেভাবে ক্রমাগত জ্বালিয়েছে, যেভাবে একের পর এক এই দেশটাকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে এবং যেভাবে এই দেশটাকে প্রতিটি সেক্টরে শেষ করে দিয়েছে, আমি বলব আজির উদ্দিন, এম ডি হাসনাইন,মোহাম্মদ আবু জোবায়ের রব্বানীর মত আমিও মনে করি শেখ হাসিনাকে তার বংশ সহ নির্বংশ করা দরকার। হাসিনার পরিবারে একটি ব্যাক্তি এই দেশে বেঁচে থাকা মানেই হচ্ছে, সামনের একটা অন্ধকার বাংলাদেশ দেখার সম্ভাবনা।

আর সে কারনেই আমি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে বর্তমানের বাংলাদেশের দায়িত্বভার নিতে বলি, আমি বলি জনতাকে ঘর থেকে বের হয়ে আসতে। যার যা কিছু আছে সেসব সব কিছু নিয়েই এই খুনী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসা উচিৎ প্রত্যেকটি বিবেকবান মানুষের।

এই সরকারকে তথা হাসিনাকে উৎখাত করেই নতুন করে ছিনিয়ে আনতে হবে বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা। তবেই মুক্তি হবে আমাদের, তবেই আমরা একটি ভারত মুক্ত স্বাধীন দেশ পাব।

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons