নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, 14th জুন, 2018

কিংবদন্তি হতে চান ম্যুলার

Share This
Tags
Print Friendly

গত বিশ্বকাপে আগ্রহ নিয়ে জার্মানির অনুশীলন দেখছিলেন এক ব্রাজিলিয়ান। অনুশীলন শেষে বিরক্ত তিনি। টমাস ম্যুলারকে দেখে হতাশ আরো, ‘ম্যুলার তো কিছুই পারে না। ড্রিবলিং দেখলাম না, পাওয়ার নেই, শটও নিতে পারছে না। ওই-ই নাকি জার্মানির সেরা স্ট্রাইকার।’ শুনে হাসেন কোচ ইওয়াখিম ল্যোভ। সবাইকে অবাক করে সেই দর্শকের সুরেই বলছিলেন, ‘ম্যুলার আসলে অপ্রচলিত ফুটবলার। কোন জায়গা থেকে দৌড়ে আসবে, বোঝা কঠিন। ওর একটা জিনিসই পছন্দ আমার। কিভাবে গোল করতে হয়, ভালোই জানে!’

ভুল বলেননি ল্যোভ। দুটিমাত্র বিশ্বকাপ খেলে ম্যুলারের গোল ১০টি! এবার তিনি রাশিয়া আসছেন নিজের আদর্শ মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভাঙতে। বিশ্বকাপে ২৪ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ১৬ গোলের রেকর্ড ক্লোসার। গত আসরে ব্রাজিলেই ভেঙেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদোর ১৫ গোলের কীর্তি। ক্লোসার সঙ্গে ম্যুলারেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল জার্মানির চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ে। করেছিলেন পাঁচ গোল। সেমিফাইনালে ৭-১ গোলে ব্রাজিলকে কাঁদানো ম্যাচে ১১তম মিনিটে প্রথম গোলটি ম্যুলারের। ২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ক্লোসা। তাতে ভাঙে রোনালদোর ১৫ গোলের রেকর্ডও। সেই ক্লোসা পর্যন্ত ফিফায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের রেকর্ড ভাঙার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন ম্যুলারকে, ‘কোনো রেকর্ডই চিরকালীন টিকে থাকে না। আমি চাই, রাশিয়ায় ১৬ গোলের কীর্তিটা ভাঙুক ম্যুলার। আর আরো একটি বিশ্বকাপ জিতি আমরা।’

রেকর্ড আর বিশ্বকাপে চোখ রেখে জার্মানরা এখন রাশিয়ায়। গত পরশু ফ্রাংকফুর্ট থেকে মস্কো পৌঁছে ইওয়াখিম ল্যোভের দল শুরু করেছে অনুশীলনও। এর আগে ম্যুলার জানিয়েছেন নিজের স্বপ্নের কথা। তিনিও কি ১৬ গোলের রেকর্ড ভাঙার কথা ভাবছেন? দৃঢ়তার সঙ্গে জানালেন, ‘এই বিশ্বকাপে এটা আমার অন্যতম লক্ষ্য। ১০ গোল করে ফেলেছি। খুব বেশি দূরে নেই আমি। যদি পাঁচ বা ছয়টা গোল করতে পারি তাহলে কিন্তু আমার দলকে সাহায্য করতে পারব অনেকটা। এর অর্থ আমরা যেতে পারব অনেকটা পথ।’ পাঁচ কিংবা ছয়টা গোল করতে পারলে কিন্তু কিংবদন্তিই হবেন ম্যুলার।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ বিশ্বকাপে আবির্ভাবে নিজেকে চেনান ম্যুলার। পাঁচ গোল আর তিনটি অ্যাসিস্টে জেতেন গোল্ডেন বুট ও সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ওয়েইন রুনি, স্টিভেন জেরার্ড, ফ্রাংক ল্যাম্পার্ডদের নিয়ে ইংল্যান্ড এসেছিল অন্যতম ফেভারিট হয়ে। শেষ ষোলোতে জোড়া গোলে রুনিদের বিদায় করে দেন ম্যুলার। ৩৭ মিনিট পর্যন্ত ১-২ গোলে পিছিয়ে থেকে ইংল্যান্ড ম্যাচে ছিল ভালোভাবে। কিন্তু ৬৭ থেকে ৭০—এই তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে জার্মানিকে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট এনে দেন ম্যুলার। লিওনেল মেসি, সের্হিয়ো আগুয়েরো, কার্লোস তেভেজদের আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে ৪-০ গোলে হারায় জার্মানি। তৃতীয় মিনিটে প্রথম গোলটি করে জার্মানির হাতে ম্যাচের নাটাইটা এনে দিয়েছিলেন ম্যুলারই। এরপর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আরো দুই গোল।

এবার কোনো অঘটন না ঘটলে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে জার্মানি। তারুণ্যনির্ভর ইংল্যান্ড ফেভারিট না হলেও সমীহজাগানো দল অবশ্যই। তবে হ্যারি কেইনদের নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না ম্যুলার, ‘এমন হলে দারুণ হবে। বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চটা অনেক বড়। তরুণদের পেয়ে ইংল্যান্ড কতটা বদলাল আমরা দেখব বিশ্বকাপ শেষেই।’ গত বিশ্বকাপে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ম্যুলার। এবারও গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচে হ্যাটট্রিক হয়ে গেলে ক্লোসার সঙ্গে ব্যবধানটা কমে আসবে অনেকটা। সেই হ্যাটট্রিক কি ইংল্যান্ডের জন্য তুলে রাখবেন? এবার হাসি ম্যুলারের কণ্ঠে, ‘২০১০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই গোল করেছিলাম। আমি তো চাই সব ম্যাচেই জোড়া গোল বা হ্যাটট্রিক করতে! এটা সম্ভব নয়। আমি জার্মানিকে সাহায্য করতেই খেলব এবার।’

সেই সাহায্যটা তিনি করতে পারেন নানা পজিশনে খেলে। দলের প্রয়োজনে তিনি খেলেন আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার, মূল স্ট্রাইকার, দ্বিতীয় স্ট্রাইকার কিংবা উইং—সবখানে। এমন অলরাউন্ডার বলেই জার্মানিতে ম্যুলারকে ডাকা হয় ‘রুমডিউটের’ বা জায়গা খুঁজে ফেরা ফুটবলার। বায়ার্ন মিউনিখের একাডেমিতে ডিফেন্ডার থেকে ফরোয়ার্ড হয়ে যাওয়া ম্যুলার ক্যারিয়ার শেষে নাম লেখাতে চান ডার্টসে। ‘প্রফেশনাল ডার্টস করপোরেশন’ বা পিডিসি ইভেন্টে আসতে চান নাকি আরো বেশি বিয়ার খেতে, ‘ফুটবল ক্যারিয়ার শেষে অবশ্যই পিডিসিতে নাম লেখাব। খেলাটার ভীষণ ভক্ত আমি। বিশেষ করে, দিনে ২০টি বিয়ার খাওয়ার স্বাধীনতা থাকবে তখন!’ দ্য মিরর

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons