নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, 13th জুন, 2018

বিপর্যয় অনেক শিখিয়েছে ব্রাজিলকে

Share This
Tags
Print Friendly

চার বছর আগে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপটা ব্রাজিলের জন্য হতে পারত অনেক গৌরবের। হয়েছে উল্টো যন্ত্রণার। ফুটবল সৌন্দর্যের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে জার্মান যন্ত্রের আঘাতে। তারা ৭-১ গোলে হারের লজ্জায় মাথা নুইয়েছে, কেঁদেছে প্রকাশ্যে। সেমিফাইনালের সেই ম্যাচ না খেললেও থিয়াগো সিলভার কাছে সেই কান্নার স্মৃতি এখনো সতেজ। কারণ সেলেসাওদের ফুটবলে আবেগের মাখামাখি অনেক বেশি। সেই আবেগকে সযত্নে প্রশ্রয়ও দিতে চান ব্রাজিলিয়ান এই ডিফেন্ডার, ‘অনেক সময় আমরা এটা (আবেগ) পাল্টাতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি। ব্যক্তিগতভাবে আমি এটা বদলাতেও চাই না, যেটা আপনা-আপনি হয়, ভালো-মন্দ যাই হোক আমি সেটার পক্ষে। কিন্তু এটাও ঠিক যে সবাই এর মর্ম বুঝবে না।’

ফুটবলটা আসলে ব্রাজিলিয়ানদের জীবনে হাসি-কান্নারও প্রতীক। জিতলে পুরো দেশ আনন্দময় আর হার কখনো যুক্তি-তর্কেও গ্রহণযোগ্য নয়। সেখানে নিজেদের মাঠে বসে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হারতে দেখা তাদের জন্য ভীষণ বড় ধাক্কা। এই অঘটন থেকে তারা শিখেছেও। রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিলকে ৭০ ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করা সিলভা বলেছেন, ‘২০১৪ বিশ্বকাপ আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। আশা করি ২০১৮ বিশ্বকাপ আজকের থিয়াগো সিলভার জন্য অন্য রকম হবে।’

‘মিনেইরাজো’ থেকে শিক্ষা নিয়েছে তারা। থিয়াগো সিলভার ব্রাজিল আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় দলের জার্সিতে এই ডিফেন্ডারের অভিষেক হয়েছিল ২০০৮ সালে। ক্যারিয়ারে দুটো বিশ্বকাপ যোগ হলেও কাকতালীয়ভাবে তিনি দুবারই মাঠে ছিলেন না দলের শেষ ম্যাচে। ২০১০ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ছিটকে যাওয়া ব্রাজিলের ম্যাচটি দেখেছিলেন বেঞ্চে বসে। আর গতবার হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় পড়ে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল জার্মানির বিপক্ষে ওই সেমিফাইনালে। নেইমার-সিলভাহীন ম্যাচ ছিল সেটি। এবার রাশিয়া গেছেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপটি তিনি শিরোপায় রাঙাতে চান, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া। এ জন্য অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিজেদের সেরা প্রমাণ করতে হবে।’

এরই মধ্যে তারা সেরা প্রমাণ করেছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইয়ে। সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম দল হিসেবেই তারা বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে। আসলে দুই বছর আগে লিওনার্দো বাচ্চি তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলে কিছু গুণগত পরিবর্তন হতে শুরু করে। বড় বদলটা হয়েছে, ব্রাজিলীয় ফুটবল তাদের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য ফিরে পেয়েছে। তা ছাড়া চার বছর আগের মতো দলটি এখন পুরোপুরি নেইমার-নির্ভরও নয়। গত মার্চে নেইমারকে ছাড়াই তারা বার্লিনের প্রীতি ম্যাচে জার্মানির মুখোমুখি হয়েছিল। জেসুসের গোলে জার্মানিকে হারিয়ে কিছুটা মৃদু প্রতিশোধ নিয়েছিল। ইউরোপে খেলা অনেক নতুন তারকার সমাহারে দুর্দান্ত এক দল নিয়ে রাশিয়া গেছেন তিতে। এই কোচের অধীনে ২১ ম্যাচ খেলে ব্রাজিল মাত্র একটি হেরেছে, জিতেছে ১৭টি।

বিশ্লেষক মহলে নেইমার-নির্ভরতা কমেছে বলে হাওয়া বইলেও সোচি মেতেছে এই ব্রাজিলীয় তারকায়। ইনজুরি থেকে ফেরা এই ফরোয়ার্ড যে মাঠ মাতাতে শুরু করেছেন আবার। শতভাগ ফিট না হয়েও পিএসজি তারকা প্রীতি ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দারুণ দুটো গোল করে রাশিয়া বিশ্বকাপে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। সোচির ইয়োগ-স্পোর্ট-স্টেডিয়ামে নেইমারদের প্রথম ট্রেনিং সেশন দেখতে তাই প্রায় হাজার পাঁচেক দর্শক হাজির হয়েছিল। তারা সঙ্গে সেলফি তুলেছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারের সঙ্গে। প্র্যাকটিস মাঠেই আবার ফিলিপে কৌতিনিয়োর জন্মবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে অভিনব কায়দায়। তাঁর মাথায় ডিম ভেঙে তারপর ময়দা মাখিয়ে সতীর্থরা মেতেছে মহা-আনন্দে। এই ফরোয়ার্ডও সেলেসাওদের নতুন ভরসার নাম। গত চার বছরে এ রকম আরো কিছু তরুণ যোগ হয়েছে দলে, যারা ব্রাজিল বিশ্বকাপের বিপর্যয় মাড়িয়ে রাশিয়ায় জ্বালাবে শিরোপার রং মশাল। থিয়াগো সিলভাও এমন স্বপ্ন দেখেন, ‘এই দলের সঙ্গে ইতিহাস আছে। পাঁচ তারকার (জার্সির) সম্মান আছে। তাই আপনাকে অবশ্যই বাড়তি কিছু যোগ করতে হবে ব্রাজিলের ২০০ মিলিয়ন মানুষের জন্য। তাদের জন্যই প্রতিদিন নিজেদের সামর্থ্য ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি আমরা।’ ষষ্ঠ শিরোপার খোঁজে সেলেসাওরা সেই বাড়তি কিছু দেওয়ার জন্য তৈরিও। গোল ডটকম

 

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons