নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, 13th জুন, 2018

সেই গোলটির অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা

Share This
Tags
Print Friendly

পায়ের মোহনীয় জাদুতে ফুটবল সৌন্দর্যের ফুল ফোটানো কত অবিশ্বাস্য গোলই না তিনি করেছেন! সেসব নিয়ে কত গল্পগাথাই না রচিত হয়েছে বিশ্বজুড়ে! কিন্তু লিওনেল মেসি নিজে যখন ফেলে আসা জীবনের গোলগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করতে বসছেন, তখন সৌন্দর্যের শিল্পমূল্য পেছনেই পড়ে থাকছে। কারণ সুন্দর গোল কখনো কখনো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক না-ও হয়ে উঠতে পারে। আবার সাধারণ মানের গোলও কখনো কখনো চূড়ান্ত সাফল্যের পথটা দেখিয়ে দেয়। তাই আর্জেন্টাইন জাদুকরের বিবেচনায় সুন্দর গোলের থেকেও বেশি মর্যাদা পায় গুরুত্বপূর্ণ গোল।

সেই দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের জীবনের সেরা গোল হিসেবে যেটিকে চিহ্নিত করেছেন, সেটি আর্জেন্টিনার হয়ে করা নয়। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি দেশের জন্য হবেই বা কিভাবে? ক্লাব ফুটবলে কিছুই জিততে বাকি না রাখা মেসি যে দেশের হয়ে এখনো জেতেননি কিছুই। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতার খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন ২০১৪-এর ব্রাজিল বিশ্বকাপে। কিন্তু জার্মানির কাছে হারে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় মুষড়ে পড়া মেসিকে বেদনাহত হতে হয়েছে পরেও আরো কয়েকবার। ২০১৫ এবং ২০১৬—টানা দুইবার কোপা আমেরিকার ফাইনালে গিয়েও শিরোপার নাগাল পাওয়া হয়নি পাঁচবারের ফিফা ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর।

তিনি নিশ্চয়ই চাইবেন যে দেশের জন্য শিরোপা জেতানো কোনো গোলই হয়ে থাকুক তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল। এরই মধ্যে তিন তিনটি বিশ্বকাপ খেলে ফেলা মেসি কি সেই গোলটি রাশিয়া বিশ্বকাপেই করতে পারবেন? আপাতত এই প্রশ্নের উত্তরটা তোলা থাকছে সময়ের হাতেই। তবে মেসি নিজেই যখন এটিকে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ বলে ধরে নিচ্ছেন, তখন দেশের জন্য মহামূল্যবান সেই গোলের শেষ সুযোগও রাশিয়ায় কাল থেকে মাঠে গড়াতে যাওয়া বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরটি। যেখানে ১৫ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করতে চলেছে আর্জেন্টিনা।

সেই অভিযান শুরুর আগে রাশিয়ায় নেমে ব্রনিিসতে ‘আলবিসেলেস্তে’দের প্রথম অনুশীলন সেশনে ভক্তদের সবচেয়ে বেশি হুল্লোড়ও দেখা গেছে আর্জেন্টিনার শিরোপা স্বপ্নের মধ্যমণিকে ঘিরেই। পরে ভক্তদের আবদার মেটাতে দেদার অটোগ্রাফও বিলিয়েছেন এই বার্সেলোনা তারকা। বিশ্বজুড়ে তাঁর গুণপূজারীর অভাব না থাকলেও নিজ দেশে তাঁকে নিয়ে আছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। সেটি শুধুই সেই ছোটবেলায় দেশ ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমানোর কারণেই নয়, ক্লাব ফুটবলের সঙ্গে জাতীয় দলের সাফল্য সমানুপাতিক না হওয়াও এ ক্ষেত্রে বড় প্রভাবক। জাতীয় দলের হয়ে গোল অনেকই করেছেন; কিন্তু সাফল্য বুভুক্ষু আর্জেন্টাইনদের জন্য তা যথেষ্ট নয়। তাঁদের চাই ট্রফি। ১৯৮৬-এর পর থেকে চলতে থাকা সেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সাফল্য খরা ঘোচাতে মেসিকেই রাখতে হবে অগ্রণী ভূমিকা। সে জন্য মরিয়া হয়ে থাকার ব্যাপারটিও বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

যদিও নিজেদের ফেভারিট বলে ঘোষণা করেননি কখনোই। তাই বলে শিরোপার দাবিও ছেড়ে না দিয়ে বলে রেখেছেন, ‘আমরা যদি ফেভারিট নাও হয়ে থাকি, তবু অন্য যেকোনো দলের সঙ্গে আমরা সমানতালেই লড়াই করব।’ সেই লড়াইয়ে নামার আগে স্প্যানিশ আউটলেট স্পোর্তের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের অজস্র গোলের দিকেও ফিরে তাকিয়েছেন। বেছে নিয়েছেন একটি সেরা গোলও। কোনটি সেটি? তা বলার আগে এও বলে রেখেছেন যে ‘একটি গোলকে আমি এর সৌন্দর্য দিয়ে বিবেচনা করি না। বিবেচনা করি এর গুরুত্ব দিয়ে।’ গুরুত্বে তাই এক নম্বরেই থাকছে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে করা গোলটিই। বার্সেলোনার ২-০ গোলের জয়ে দ্বিতীয় গোলটি এসেছিল তাঁর মাথা থেকেই। ম্যাচ শেষ হতে যখন ২০ মিনিট বাকি, তখন জাভির ক্রসে মার্কার রিও ফার্ডিনান্ডকে পাশ কাটিয়ে বলে মাথা ছুঁইয়ে পরাস্ত করেছিলেন ম্যান ইউ গোলরক্ষক এদউইন ফর দার সারকে। রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে করা সেই গোলটি নিয়ে বলছিলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে হেড করে করা গোলটিই আমার ক্যারিয়ারের সেরা। যে গোলটি ভীষণ অর্থবহ ছিল বলেই ওটি আমার সেরা।’ কিন্তু সেটি তো ক্লাবের হয়ে, দেশের হয়ে নয়। সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর শেষ সুযোগ হয়ে আসা এবারের বিশ্বকাপ যদি মেসির জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি বরাদ্দ রাখে, তাহলে বলতে হয় আর্জেন্টিনাও পাবে বহুদিন ধরে অধরা থেকে যাওয়া চূড়ান্ত সাফল্যের দেখা! গোল ডটকম

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons