নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, 21st জানু., 2018

প্রণব মূখার্জীর চেয়ারে বসে ছবি তুলবার পেছনের কারন

Share This
Tags
Print Friendly

26238772_2241820459177155_4875409201544147334_nসাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে এবং এটি নিয়ে বিতর্ক তৈরী হয়েছে। যে ছবিটি নিয়ে বিতর্ক হয়েছে সেটি হচ্ছে একটি চেয়ারে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী একটি চেয়ারে বসে রয়েছেনে এবং তাঁর পেছনে দন্ডায়মান রয়েছেনবাংলাদেশের বর্তমান সরকারের অনেক বাঘা বাঘা মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ এবং বিরোধী দলেরও অনেক সাবেক মন্ত্রী-সাংসদরা।

এই ছবিটি নিয়ে প্রশ্নটি এসেছে এমন যে- গত ১৪-ই জানুয়ারী ভারতীয় হাইকমিশনের এক নৈশ ভোজের অনুষ্ঠানে ভারতের এই সাবেক রাষ্ট্রপতি কেন চেয়ারে বসে রয়েছেন যেখানে বাংলাদেশের বয়ষ্ক সাংসদরা, মন্ত্রীরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এতে করে ভারত বাংলাদেশের মাটিতে তার আধিপত্য বুঝিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করা হয়েছে, ইত্যাদি।

এইসব প্রশ্নগুলো মুলতঃ জামাত, শিবির, বি এন পি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের কাছ থেকেই বেশী মাত্রায় উঠে এসেছে। পুরো ব্যাপারটির ব্যাপারে অনুসন্ধানে নেমে পোর্টাল বাংলাদেশের সংবাদকর্মীরা বিষ্মিত হয়ে পড়েন কেননা সামাজিক মাধ্যমে যা বলা হচ্ছে বা যেভাবে বলা হচ্ছে পুরো ঘটনা কোনোভাবেই সেটি নয়। আমাদের অনুসন্ধানী দল ভারতীয় হাই কমিশন এবং সেখানে দন্ডায়মান বেশ কয়জন রাজনীতিবিদ্দের সাথে কথা বলে এই ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন।

পুরো ঘটনাটা হয়েছে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থায় এবং একজন আরেকজনের সাথে খুনসুটি, অতীতের স্মৃতি রোমন্থন এবং নিজস্ব গন্ডিতে একজন আরেকজনের সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে।

ভারতীয় হাই কমিশনের উক্ত লাউঞ্জে কোনো বসার ব্যবস্থাই ছিলোনা। নৈশভোজ যেখানে হয়েছে সেখানে প্রচুর লোকের সমাগম হয়েছিলো সে রাতে। একের পর এক ব্যাক্তিরা এসে সাবেক রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করছিলেন, হাত মেলাচ্ছিলেন এবং কেউবা সেলফি কেউবা ছবি তুলছিলেন। এমনও হয়েছে যে এইসব ছবি তুলতে কেউবা ৫ মিনিট সময় নিয়েছেন, কেউবা নিয়েছেন দু মিনিট কিংবা কেউবা তারও কম। এইভাবে নোইশ ভোজের পর একজন ৮২ বছরের বৃদ্ধ ব্যাক্তিকে দাঁড় করিয়ে রেখে তার সাথে হাত মেলানো ও ছবি তোলাতে তিনি একটা পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আয়োজকরা একটা পর্যায়ে ছবি তুলতে মানা করে দিলেও প্রণব সাহেবের অনুরোধে সেটি বাতিল করা হয় এবং তিনি সেখানে আগত সবার সাথেই ছবি তোলেন তবে শুধু আয়োজকদের মজা করে বলেন, “ছবি তুলতে নিষেধ নেই। আগতরা মনে কষ্ট পাবে কিন্তু এই বুড়ো যাতে মরে না যায় সে জন্য একটা চেয়ার দিয়ে দিলেই হবে”। এই কথা শুনে আগতদের মধ্যে যারা ছবি তোলেন নি তাদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়।

কেউ একজন ভীড় থেকে বলেন, “দাদা শ্বশুর বাড়িতে এসেছেন, ছবি পুরোটাই তুলতে হবে”। প্রণব সাহেব এই কথায় নিজেই হেসে ওঠেন। এইভাবে চলতে থাকে ছবি তোলা পর্ব।

ছবি তোলা পর্ব শেষ হলে একদম শেষের দিকে বাংলাদেশের বেশ নামকরা রাজনীতিবিদ, আমলা, মন্ত্রীরা প্রণব সাহাবের সাথে একটা ছবি তুলতে চান। প্রণব সাহেব নিজেই চেয়ারের হাতল ধরে দাঁড়াতে গেলে উপস্থিত মির্জা ফখরুল বলেন, “আরে আরে আপনি বসুন। এতক্ষন ছবি তুলে আপনার যা অবস্থা হয়েছে এইবার দাঁড়াতে গেলে আপনাকে আর বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। দোষ পড়বে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ্দের উপর”।

এই কথা শুনে আরো এক দফা হাসির রোল ওঠে সেখানে। পরে প্রণব সাহেবকে বসিয়ে রেখেই সেখানে আগত অতিথিরা ছবি তোলেন।

সেখানে উপস্থিত জাতীয় পার্টির বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রুহুল আমিন হাওলাদারকে এই প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ছবি বিষয়ক ঝড়ের কথা বলা হলে তিনি তাজ্জব বনে যান। তিনি আমাদের অনুসন্ধানী দলকে বলেন,

“সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এমন একটি যায়গা যেখানে তিলকে মুহুর্তেই তাল করে ফেলা যায়। সেখানে আমরা যারা ছিলাম তারা কত যে মজা করেছি, প্রণব বাবুর সাথে ইয়ার্কি করেছি, পেছনের স্মৃতি রোমন্থন করেছি। ভদ্রলোকের বাঁ পায়ের হাঁটির বাটিতে খুব ব্যাথা ছিলো গত ১৫ দিন ধরেই। এটি নিয়েও তিনি শুরুর দিকে সবার সাথে দাঁড়িয়েই ছবি তুলেছিলেন।  উনি দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে চাইলেও  ফখরুল সাহেবই  প্রথমে মানা করেন। এই ছাড়া আমরাও উনাকে দাঁরাতে নিষেধ করি”

তিনি আরো বলেন, “গুজব ছড়িয়ে যারা সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ। আমি অবশ্যই এই ব্যাপারে  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে কথা বলব”

এই বিষয়ে আওয়ামীলীগের বর্ষীয়ান নেতা ও বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, “এটি নিয়েও কি কথা হচ্ছে নাকি? অত্যন্ত দুঃখের কথা। প্রণব বাবু পায়ের ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলেন বলে আমরাই অনুরোধ করেছি উনাকে বসে থাকতে”

এই ব্যাপারে সামাজিক মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে জামাত, বি এন পি সমর্থিত একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী পুরো ব্যাপারটিকে ভারতের আধিপত্যবাদের দিকে নিয়ে গিয়ে ক্রমাগত বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই বিষয়ে কয়েকজন উচ্চকিত ব্যাক্তির নাম ইতি মধ্যেই গোয়েন্দাদের কাছে দেয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।

নাসির/কে-আর/২৮৭৩/২১/১/১৮

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons