নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, 8th মে, 2017

বনানী ধর্ষন তদন্ত করতে গিয়ে গল্প আর সিগারেট ফুঁকলেন অফিসার

Print Friendly

চাঞ্চল্যকর বনানী ধর্ষন মামলার তদন্ত করতে গিয়ে রেইন ট্রি রেস্টুরেন্টে কর্মকর্তাদের সাথে খোশ গল্প আর সিগারেট ফুঁকে কিছু না করেই বের হয়ে আসলেন তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন। আজ বিকেল ৩ টা ২৫ এর দিকে এই কর্মকর্তাকে হোটেলের ভেতর বেশ খোশ মেজাজে দেখা যায়। সাংবাদিক পরিচয় দিলেই, বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলে ধমক দেন তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন।

হোটেলের সূত্রে জানা যায় যে অফিসার আব্দুল মতিন বিকেল ৩ টার দিকে রেইন্ট্রিতে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি তার পায়ের বুট দিয়ে জিনিস পত্র নেড়ে চেড়ে দেখেন এবং সেখানে থাকা এক কর্মচারীকে এক কাপ চা হবে কিনা জানতে চান। পরে হোটেলের এক উর্ধতন কর্মকর্তার আলী আজমের সাথে খোশ গল্পে মেতে উঠেন।

এই সময় ধর্ষনের স্বীকার এক তরুনীকে সাথে নিলেও তাকে হোটেলের রিসেপশনে বসিয়ে রেখে কোনো কাজই করেন নি আব্দুল মতিন। রেইনট্রির সেই সূত্রটি জানায় যে- “একজন পুলিশ অফিসার সাথে এসেছেন অথচ নোট নেয়ার মত  কাগজও তার সাথে নেই, কলম নেই। তিনি ৭০১ ও ৭০২ নাম্বার ঘরের সামনে গিয়ে পায়ের বুট দিয়ে দরজা ধাক্কা দিলেন, তুই তোকারি করে কথা বার্তা বললেন। কাজের কাজ কিছুই করেন নি। এগুলো আমাদের খুব পীড়া দিয়েছে। পেটের দায়ে এখানে চাকুরী করি বলে অনেক অন্যায় সহ্য করতে হয়। দেখেও না দেখার ভান করি। সেদিনের ঘটনা আমাদের এইখানকার সবাই জানে কিন্তু কেউ আপনাকে কিছু বলবে না। বলে কি হবে? আমাদের বৌ বাচ্চাদের কে খাওয়াবে চাকরী চলে গেলে?”

এদিকে আব্দুল মতিনের সাথে আমাদের এই প্রতিবেদক কথা বলতে গেলে তিনি “তদন্ত চলছে” বলে তিনি ডান হাত দিয়ে এই প্রতিবেদককে সরিয়ে গাড়িতে উঠেন। এই সময়ে বাইরে দাঁড়ানো একটি গাড়ির ভেতরে ও বাইরে আরো কয়েকজন কর্মকর্তা তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেখানে একটি সাদা গাড়িতে আরো একজন মহিলা বসে ছিলেন মাথায় ঘোমটা দিয়ে। তার সাথে কথা বলতে গেলে পুলিশের কর্মকর্তারা “কথা বলা যাবেনা” বলে এই প্রতিবেদককে সরিয়ে দেন।

এদিকে রেইন ট্রি’র মালিকের সাথে কথা বলবার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছে পোর্টাল বাংলাদেশ। একবার ফোন রিসিভ করলেও এক তরুনীর কন্ঠ শোনা যায়। তিনি “স্যার নেই” বলে লাইন কেটে দেন।

এদিকে সরেজমিনে তদন্ত করে জানা যায় যে বনানী থানার ওসি ফরমান আলী প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা আপন জুয়েলার্সের মালিকের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে পেয়েছেন। এটা বনানী থানায় অনেকটা ওপেন সিক্রেট ঘটনা। তবে ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, সবাই আসলে দুই এক সপ্তাহ অপেক্ষা করবে। তারপর রিপোর্ট, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা কমে গেলে সব সেট করা হবে। উপর থেকে আপাতত এই নির্দেশই দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন থানার ওসি একটা টাকা খেকো অমানুষ। টাকা খেয়ে উনি যা বলবেন সবই করতে পারেন।

বনানী থানার ওসি ফরমান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যা বলার আমরা রিপোর্টে দিব। চলমান মামলা নিয়ে তদন্ত করাটা ঠিক হবে না। তবে এতদিন পর ধর্ষনের মামলা ফাইল কেন করা হয়েছে এই বিষয়টিও আমরা তদন্ত করে দেখব। এটা একটা ব্ল্যাক মেইলিংও হতে পারে”

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons