নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, 18th জানু., 2017

নীলফামারিকে একটি আদর্শ অঞ্চলে রূপান্তর করতে চান ব্যারিস্টার ইমরান চৌধুরী

Share This
Tags
Print Friendly

নীলফামারি জেলার ডিমলা-ডোমার থানার আগামী সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার ইমরান কবির চৌধুরী জনি’র নাম এখন উক্ত এলাকার মানুষের মুখে মুখে। সংসদীয় আসনের দিক থেকে এই আসনটিকে নীলফামারি-১ আসন বলা হয়। প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়ী প্রাক্তন প্রাদেষিক পরিষদ সদস্য জনাব আব্দুর রহমান চৌধুরীর পৌপত্র ব্যারিস্টার ইমরান এই আসন থেকে আওয়ামীলীগের হয়ে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন বলে এলাকাবাসীর ভেতর এক ধরনের উচ্ছাসও পরিলক্ষিত হয়।

উল্লেখ্য যে মরহুম আব্দুর রহমান চৌধুরী প্রাক মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭০ সালের অখন্ড পাকিস্তানের নির্বাচনে নীলফামারী মহকুমার ডোমার-ডিমলা অঞ্চল থেকে পূর্ব পাকিস্থান প্রাদেশিক পরিষদের আওয়ামীলীগের হয়ে সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন বিশ্বস্ত ঘনিষ্ট সহচর হওয়ার সুবাদে বঙ্গবন্ধু তাকে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য মনোনিত করেন।

মরহুম আব্দুর রহমান চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকও ছিলেন । এই বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী’র প্রখ্যাত গ্রন্থ “একাত্তরের ১০ মাস” থেকে জানা যায় যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে যখন পাকিস্তানী সামরিক জান্তারা বিচারের জন্য বন্দী করে নিয়ে যায় তখন একই সাথে প্রাদেষিক পরিষদের মোট ৪৮ সদস্যের বিরুদ্ধেও বিচারের সমন জারি হয় যার মধ্যে জনাব আব্দুর রহমান চৌধুরীও ছিলেন।

ব্যারিস্টার ইমরান কবিরের পিতামহই নয়, এমনিকি তাঁর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউর কবীর চৌধুরী ৭১’এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন (সাবেক ডেপুটি কমান্ডার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, নীলফামারী) এবং বীরত্বের সাথে সম্মুখ সমরে পাকিস্তানী হানাদারদের দমন করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেন।

১৯৭৭ সালে জন্ম নেয়া ব্যারিস্টার ইমরান কবির চৌধুরী ইংল্যান্ডের স্বনামধন্য স্ট্র্যাটফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটি থেকে কৃতিত্বের সাথে এল এল বি ও এল এল এম পরীক্ষায় কৃতকার্জ হন। উল্লেখ্য যে তিনি এর আগে বাংলাদেশের রাজশাহী ইউনিভার্সিটি থেকেও আইনে স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর ডীগ্রি অর্জন করেন। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত বি পি পি ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি বার এট ল ডীগ্রি অর্জন করেন এবং একই সাথে তিনি মিডল টেম্পল ইনের একজন সম্মানিত সদস্য। ব্যারিস্টার হবার পর তিনি যুক্তরাজ্যের সলিসিটর হয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি ই-ওয়ান সলিসিটর্স নামে তাঁর নিজের আইনী প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল সলিসিটর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

জনাব চৌধুরী বাংলাদেশে রাজনীতি করবার আগেই এই ইংল্যান্ডের মত দেশে রাজনীতির একটি দীর্ঘ পাঠ নিয়েছেন। স্ট্র্যাটফোর্ডশায়ারের বার্স্লেম সাউথ নির্বাচনী এলাকা থেকে তিনি ২০১০ সালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক দলের হয়ে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছিলেন। ব্রিটেনের মত দেশ যেটিকে গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলা হয় এখানেও তিনি একজন ভীনদেশী হিসেবে দমে যান নি বরং এখানকার অধিবাসীদের সুঃখে দুঃখে তিনি সব সময় নানাভাবে পাশে ছিলেন এবং তাঁরাই ভালোবেসে তাঁকে এখানকার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেছেন। স্কুল ক্লেজ থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি মূহুর্তে তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্বের ছায়া ঔজ্বল্য ছড়িয়েছে সব সময়।

পশ্চিমা গণতন্ত্রের দীক্ষা নিয়ে এর আগে অনেকেই বাংলাদেশে রাজনীতি করতে এসেছেন। ওয়েস্টমিস্টার গণতন্ত্রের যে ধারনাটুকুকে আমরা গণতন্ত্রের মূল দিকনির্দেশনা কিংবা যথাযথ ছায়াপথ বলে বিবেচনা করি সেটির ঠিক কতটুকু আসলেই বাংলাদেশে প্রয়োগ করা সম্ভব? এমন এক প্রশ্নের জবাবে আমাদের এই প্রতিবেদককে ব্যারিস্টার ইমরান বলেন,

“দেখুন পশ্চিমা বিশ্ব একদিনে তাঁদের এই বাহ্যগত গণতন্ত্রকে এই অবস্থানে নিয়ে আসতে পারেনি। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, যার সাথে জড়িত রয়েছে আরো নানাবিধ ব্যাপার। মানুষের ভেতর গনতান্ত্রিক চেতনার স্ফুরন, সঠিক ব্যাক্তিকে খুঁজে নেবার মত দূরদৃষ্টি, বিবেচনা ক্ষমতা এসব সবকিছুই আসলে এই পশ্চিমা গণতন্ত্রের পেছনের চালিকা শক্তি। বাংলাদেশের মত স্থানে গণতান্ত্রিক চর্চাকে সুসংহত করবার জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে আমলা প্রতিটি স্থানেই কাজ করতে হবে। রাজনীতিবিদেরা যদি মানুষের ভেতরে গনতান্ত্রিক চেতনাকে জাগিয়ে তুলতে না পারেন কিংবা বিবেচনাক্ষমতাকে কার্যক্ষম না করতে পারেন তাহলে এই প্রক্রিয়া আরো বেশী দীর্ঘায়িত হবে। পশ্চিমা গণ তন্ত্রের ভেতর যে সহনশীলতা ও পরিশীলতা রয়েছে সেসবও আসলে সময়ের সাথে সাথে এই অঞ্চল গ্রহন করবে বলে আমি মনে করি”

টেলিফোনেই ইমরান কবির চৌধুরী ডোমার ও ডিমলা থানার ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথা আমাদের অকপটে জানান। তিনি এটি স্পস্ট করেই বুঝতে পারেন তার যে রাজনৈতিক স্পৃহা রয়েছে সাধারণ মানুষের সাথে একাত্ন হবার ও তাঁদের জন্য কাজ করবার এটি আসলে শুরু করতে হবে নিজের অঞ্চল থেকেই। নিজস্ব সীমানার ভেতরতাকে স্বপ্নে মন্ডিত করতে পারলে, এখানকার মানুষের ভেতর একটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারলেই এটি হয়তবা সারা বাংলাদেশের জন্যই রোল মডেল হিসেবে চাক্ষুস হয়ে রইবে।

এই দৃশ্যমান পরিবর্তন গুলো কেমন এবং এরই সাথে অন্য কোনো পরিকল্পনা রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার ইমরান বলেন, “ আসলে দৃশ্যমান পরিবর্তন গুলো মূলত হতে হবে মানুষের বিশ্লেষন কেন্দ্রিক, মানুষের বিবেচনা কেন্দ্রিক। যেমন নিজেদের উন্নয়নে সঠিক মানুষ খুঁজে বের করা, নিজেদের মধ্য থেকেই নেতা নির্বাচন করবার, নেতৃত্ব নির্বাচন করবার যে ক্ষমতা, দূরদৃষ্টি অর্জন করবার শিক্ষা এসব সব কিছুই আসলে দৃশ্যমান পরিবর্তেন সহায়তা করবে। এর জন্য আমাদের দরকার হবে এই অঞ্চলের শিক্ষার মান উন্নয়নে একটা দীর্ঘমেয়াদী কাজ করা। শিক্ষার প্রসার, মান উন্নয়ন এবং এটির জন্য একটা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও থাকতে হবে। এই ছাড়াও একান্নবর্তী সামাজিক ঐক্য ধারনাটিকে সবার সামনে জাগিয়ে তুলতে হবে। একজন বা দুইজন মিলে একটি জাতির যে উন্নয়ন হয়না বরং সমাজের সকলকে স্মপৃক্ত করেই যে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, এই যে সেন্স অফ ইউনিটি, এটার তাগিদ যাতে মানুষের ভেতর থেকে আসে সেটির প্রতিও আমাকে নজর দিতে হবে। তাহলেই সম্ভব সকলে মিলে নিজের এলাকা বা নিজের অঞ্চলকে উন্নতির শেখরে নিয়ে যাওয়া। এর জন্য এই অঞ্চলের যুবকদের নানা কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি চর্চা সকল কিছুই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। একটি এলাকার তরুন ও যুবকদের যদি পুরোপুরি সম্পৃক্ত করা না যায় তাহলে সে অঞ্চলের যে কোনো উন্নয়ন বা প্রসার রীতিমত কঠিন। আর এটি করবার জন্য আপনাকে নিজেই উদ্যোগী হতে হবে, সামনে নেতৃত্ব নিয়ে যেতে হবে। আর সেটি হলেই তরুন-যুবকেরা উদ্দীপ্ত হবে ও সামনে এগিয়ে যাবে”

ব্যারিস্টার ইমরান কবির আরো জানান যে এই অঞ্চলে নানাবিধ অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। রয়েছে প্রতিবছর বন্যার সমস্যা, অবকাঠামোগত সমস্যা। ব্যাবসায়ীক ক্ষেত্রে প্রসারের জন্য কি কি করনীয় তার একটি তালিকাও তিনি এখন তৈরী করছেন। একই সাথে তিনি তাঁর সমর্থক ও কর্মীদের নিয়ে ব্যাপক আকারে জরিপ চালাচ্ছেন প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে। মানুষের মূল সমস্যা, তাঁদের হতাশা, প্রত্যাশা, চাওয়া এর প্রতিটি দিকেই তিনি গুরুত্ত্বারোপ করেছেন। সুপেয় পানি থেকে শুরু করে একটি মানুষ তথা একটি পরিবারের যাবতীয় প্রয়োজনের সঠিক মিমাংশা নিয়েই তিনি সম্পূর্ন নতুন আংগিকে তাঁর নীলফামারি-১ কে গড়ে তুলতে চান। তিনি মনে করেন এই আসনটিকে তিনি যদি পশ্চিমা গণতন্ত্রের আদলে গড়ে তোলেন, সকল সমস্যাকে সমাধান করেন, শিক্ষা, সংস্কৃতির একটা আদর্শিক কেন্দ্রে পরিণত করতে পারেন তবেই তাঁর লক্ষ্য অর্জিত হবে। তিনি মনে করেন তাঁর দাদা জনাব আব্দুর রহমান চৌধুরী এই এলাকার গণমানুষের নেতা ছিলেন। তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন এই সমাজ নিয়ে, এই সমাজের মানুষগুলো নিয়ে সেটির সম্পূর্ন বাস্তবায়ন সম্ভব যদি একটু চেষ্টা করা হয়। কেননা তিনি মনে করেন এই অঞ্চলের মানুষের যে অসাধারণ কিছু করবার একটা স্পৃহা সেটি তিনি অনুধাবন করতে পারেন ও উপলব্ধি করতে পারেন। এই স্পৃহাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো ও তার থেকে সর্বোচ্চটুকু নিয়ে সামনে আগানোটাই এখন আসলে মূল স্ট্র্যাটেজি হতে হবে।

বিরোধী দলীয় রাজনীতি কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধচারন কি একটি অঞ্চলের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা? এমন প্রশ্নের উত্তরেও তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ দর্শন ব্যাক্ত করেন। তিনি বলেন, “বিরোধী রাজনৈতিক শব্দ, সমালোচনা এগুলো প্রত্যেকটি-ই আসলে আশীর্বাদের মতন। আমার সমালোচনা করা মানেই হচ্ছে আমাকে সেটি সঠিক ভাবে সম্পাদন করতে হবে এবং সমালোচকদের থেকেই পরামর্শ নিতে যদি আরো বেশী করে সাফল্য পেতে চাই। চলার পথে ভুল ও ত্রুটি থাকবে এবং সেটি পরিমার্জন ও সম্পাদনার ইচ্ছেও একই সাথে থাকতে হবে। সুতরাং বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমালোচনাকে যুদ্ধাংদেহী ভাবে না নিয়ে সেটিকে নিজের জন্য গঠনমূলক হিসেবে দেখাই হচ্ছে মূল ব্যাপার। কেননা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে না পারলে একটি জাতি বা অঞ্চল যা-ই বলিনা কেন সেটির উন্নয়ন করা অসম্ভব”

এদিকে এই অঞ্চলের বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলেও তাঁদের মতামত জানা গেছে। মরহুম আব্দুর রহমান চৌধুরী এও অঞ্চলের কৃতী সন্তান ও শ্রদ্ধার ব্যাক্তি ছিলেন বলে ব্যারিস্টার ইমরান চৌধুরীও সে সম্মানের ও খ্যাতির অংশীদার হচ্ছেন। সাধারন মানুষ মনে করেন এমন একজন উচ্চ শিক্ষিত ও সুযোগ্য বংশের ব্যাক্তি তাঁদের অঞ্চলের রাজনীতিতে আসলে সেটি হবে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। কলেজ শিক্ষার্থী মুনোয়ারুল ইসলাম কে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, “ইমরান ভাই এই এলাকায় বিভিন্ন ক্রীড়ার প্রসারে অনেকদিন ধরেই কাজ করছেন, আমাদের কলেজ ও ও স্থানীয় স্কুলকে সব সময় সহযোগিতা করেছেন। এমন একজন মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁরালে আমরা বহুদুর যেতে পারব” একই মতামত এলাকার বৃদ্ধ রইসুদ্দিন প্রধানের। একটা সময় তিনি মরহুম আব্দুর রহমান চৌধুরীকে দেখেছেন রাজনীতি করতে আজকে দেখছেন তাঁর নাতিকে। তিনি বলেন, “চৌধুরী সাহেবের নাতি এই এলাকায় আসলে আমাদের জন্য সুখের সময় শুরু হবে। আমরা চাই তিনি আসুন ও আমাদের পাশে থাকুন তার দাদার মতন”

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons