নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, 9th জানু., 2017

টেসকোর ভুলে লিবার্টির ক্ষতি ৬০০ কোটি টাকা

Share This
Tags
Print Friendly

যুক্তরাজ্যভিত্তিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান টেসকোর ভুলে সাড়ে তিন বছর ধরে বন্ধ সাভারের লিবার্টি ফ্যাশন ওয়্যারস লিমিটেড। এ জন্য চাকরি হারিয়েছেন পাঁচ হাজার শ্রমিক। এত দিন বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে এমন দাবি করেন লিবার্টির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অন্যায়ভাবে কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ দুর্নীতির শিকার হয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠান।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পরের মাসেই টেসকো প্রকৌশলী সংস্থা মিডওয়ে কনসালটেন্সি সার্ভিসকে (এমসিএস) দিয়ে লিবার্টির কারখানা ভবন নিরীক্ষা করায়। কারখানা পরিদর্শন করে এমসিএস প্রতিবেদন দিয়ে বলেছিল, ‘কারখানার ২ নম্বর ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। ৬০ ঘণ্টার মধ্যেই ধসে পড়বে।’ এর পরপরই টেসকো কর্তৃপক্ষ লিবার্টি থেকে পোশাক না কেনার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে লিবার্টির অন্য ১১ ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানিয়ে দেয় টেসকো। সেই বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোও লিবার্টির ক্রয়াদেশ বাতিল করে।

সংবাদ সম্মেলনে মোজ্জামেল হক বলেন, বুয়েট ও বিজিএমইএর প্রকৌশলীরা এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) নিয়োগকৃত প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে কারখানা ভবনটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিমুক্ত বলেছে। তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। তারপরও কারখানা ভবনের তো কিছু হয়নি।’

বুয়েটের প্রতিবেদনে লিবার্টির কারখানা ভবনের বিভিন্ন তলার ভার কমানোর কথা বলা হয়। এ ছাড়া ডিআইএফইর নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়, কারখানাটিতে বড় ঝুঁকির উপাদান খুঁজে পাওয়া যায়নি। ছোটখাটো যেসব ত্রুটিবিচ্যুতি আছে, তা দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এ জন্য কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেসকো ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশের সদস্য। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিজিএমইএ লিবার্টিতে নতুন করে পরিদর্শন কার্যক্রম চালাতে অ্যাকর্ডের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করে। তবে অ্যাকর্ড তা করবে না বলে জানিয়ে দেয়। অ্যাকর্ডের যুক্তি, জোট গঠিত হওয়ার আগেই লিবার্টির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করে টেসকো এবং কোনো সদস্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠান লিবার্টির নাম সুপারিশ না করলে তাদের চুক্তি অনুযায়ী কিছুই করার নেই। এরপর অ্যাকর্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করে লিবার্টি কর্তৃপক্ষ।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান গত রাতে বলেন, টেসকো অন্যায়ভাবেই কারখানাটি বন্ধ করেছে। ভুল বোঝার পরও টেসকো একের পর এক অন্যায় করে গেছে। তিনি আরও বলেন, মামলার রায় লিবার্টির পক্ষে গেছে। বিষয়টি নিয়ে অ্যাকর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলেছে, রায়ের অনুলিপি পাওয়া গেলে অ্যাকর্ড আপিল করবে কিংবা পরিদর্শনের জন্য লিবার্টিকে তালিকাভুক্ত করে নেবে।

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons