নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, 21st ডিসে., 2016

কর দেওয়া এখনো কঠিন বাংলাদেশে

Share This
Tags
Print Friendly

সার্বিকভাবে করবান্ধব বা কর প্রদান সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯ দেশের মধ্যে ১৫১তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ সূচকে বাংলাদেশ চতুর্থ। কোন দেশে কর হার কত—সেদিক থেকেও এ অঞ্চলে চতুর্থ বাংলাদেশ। বাংলাদেশে করপোরেট কর, মূল্য সংযোজন করসহ সব মিলিয়ে গড় কর হার ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এ দেশে এখন ৩৩ ধরনের কর পরিশোধ করতে হয়।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক ও প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারসের ‘পেয়িং ট্যাক্স ২০১৭’ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। নতুন বছরে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে কর হার কতটা সহায়ক হবে—এ উদ্দেশ্যে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে একটি দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় কর দেয়, এ নিয়ে সূচক প্রকাশ করা হয়েছে। সার্বিকভাবে ব্যবসা করার পরিবেশ কতটা করবান্ধব, তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে তুলনা করা হয়েছে।

সুখবর হলো, করবান্ধব দেশ হিসেবে তালিকার প্রথম তিনটি দেশই এশিয়ার। শীর্ষস্থানে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার। তৃতীয় স্থানে আছে হংকং।

বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, কর প্রদান ব্যবস্থা সহজ করতে বাংলাদেশে ইদানীং কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ বিষয়ে উন্নতি করতে না পারলে সূচকে পরিবর্তন আসবে না। তাঁর মতে, স্বয়ংক্রিয় কর ব্যবস্থার পাশাপাশি কর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, উদ্বুদ্ধকরণ ও স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা উচিত। রাজস্ব কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা থাকলে করদাতার হয়রানি বাড়তে পারে। তাই সামগ্রিকভাবে করবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবেদনে কোন দেশে গড় কর হার, কত সময় লাগে, কত ধরনের কর দিতে হয়—এসব বিষয়ের চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একটি কোম্পানি করদাতাকে সব মিলিয়ে কর হার গড়ে ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ কর দিতে হয়। এর মধ্যে মুনাফায় কর বা করপোরেট করের হার গড়ে সাড়ে ৩০ শতাংশ; বাকিটা মূল্য সংযোজন কর (মূসক)। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি কর হার ভারতে, ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ। ভারতে করপোরেট কর হার গড়ে প্রায় ২১ শতাংশ দিতে হলেও শ্রম করের ভার বা লেবার ট্যাক্স ও মূসক দিতে হয়। এ তালিকায় বাংলাদেশের ওপরে আছে নেপাল, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান।

এ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের কর-মূসকসংক্রান্ত বিবরণ জমা থেকে শুরু করে করের টাকা পরিশোধে কত সময় লাগে—এ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আয়কর-মূসকসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে হয় বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গড়ে ৪৩৫ ঘণ্টা সময় লাগে। সবচেয়ে কম সময় লাগে ভুটানে; ৮৫ ঘণ্টা। এসব কাজ করতে ভারতে ২৪১ ঘণ্টা, পাকিস্তানে ৩১২ ঘণ্টা ও শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে যেসব দেশে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় কর পরিশোধের সুযোগ আছে; সেসব দেশে তুলনামূলক কম সময় লাগে। র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতে এসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সময় লাগে মাত্র ১২ ঘণ্টা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একজন করদাতার ওপর ৩৩ ধরনের কর আরোপ হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা ভালো। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে বেশি ৪৭ ধরনের কর আরোপ হয়। ভারতে ২৫ ধরনের কর আরোপ হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে মাত্র চার ধরনের কর আছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এ সূচকে ৩৬তম। যুক্তরাষ্ট্রে সব মিলিয়ে কর হার গড়ে ৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীনের অবস্থান সূচকে ১৩১তম। চীনে সব মিলিয়ে কর হার গড়ে ৬৮ শতাংশ।

এখন ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে জনগণ তথা করদাতারা কর প্রদানে আরও উৎসাহিত হচ্ছেন। জনগণ আরও বেশি রাজস্ববান্ধব হয়েছেন। কর প্রদান সূচকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশের এগিয়ে থাকা অবশ্যই খুব আশাবাদের কথা। বাংলাদেশে সামগ্রিক রাজস্ববান্ধব পরিবেশ আরও উন্নত করার নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons