নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, 21st ডিসে., 2016

রাষ্ট্রদূত হত্যার দ্রুত জবাব চায় রাশিয়া

Share This
Tags
Print Friendly

তুরস্কের আঙ্কারায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রে কার্লোভ হত্যার ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে জবাব চেয়েছে মস্কো। সোমবার আঙ্কারার একটি আর্ট গ্যালারিতে এক চিত্র প্রদর্শনীতে অফ ডিউটি (দায়িত্বরত নন) এক পুলিশ সদস্যের গুলিতে নিহত হন রুশ রাষ্ট্রদূত। তুর্কি কর্তৃপক্ষ হামলার পরদিনই গতকাল মঙ্গলবার এতে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে।

চলতি বছর তুরস্কের রাজধানীতে কয়েক দফা সন্ত্রাসী হামলার পর জারি থাকা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থার মধ্যে রুশ রাষ্ট্রদূতের ওপর ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই দিন রাতে পৃথক ঘটনায় আঙ্কারায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বাইরে গুলি ছুড়েছে এক ব্যক্তি।

নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে হত্যার ঘটনায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ‘খুনিকে কে এ কাজে নিযুক্ত করেছে, আমাদের সেটা জানতে হবে।’ আর তাঁর দপ্তর ক্রেমলিনের তরফে বলা হয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সহায়তা করতে রাশিয়ার একটি দল গতকাল তুরস্কে গেছে।

পুতিন এ হত্যাকাণ্ডকে উসকানি আখ্যায়িত করে বলেন, ‘এর লক্ষ্য মস্কো ও আঙ্কারার মধ্যকার উষ্ণ সম্পর্কে চিড় ধরানো এবং সিরীয় সংকট সমাধানের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করা। হামলার একটাই জবাব থাকতে পারে তা হলো—সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ আরও জোরালো করা। আর সন্ত্রাসীরা তা হাড়ে হাড়ে টের পাবে।’

আঙ্কারায় রাষ্ট্রদূতকে হত্যা এবং বার্লিনে ট্রাক হামলার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট পুতিন রাশিয়ার ভেতর ও বাইরে দেশটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে (সিক্রেট সার্ভিস) নির্দেশ দিয়েছেন।

রুশ রাষ্ট্রদূতকে গুলি করা ব্যক্তি ঘটনার সময় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে রাশিয়ার চলমান সামরিক ভূমিকার বিষয়টি উল্লেখ করে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

চিত্র প্রদর্শনীতে রাষ্ট্রদূতকে চারবার গুলি করেন তুর্কি পুলিশ সদস্য মেভলুত মার্ত আলতিনতাস (২২)। রাষ্ট্রদূত প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় হামলা চালান তিনি। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, কালো স্যুট-টাই পরা কেতাদুরস্ত চেহারার মেভলুত এক হাতে পিস্তল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, ‘আলেপ্পোকে ভুলে যেয়ো না’, ‘সিরিয়াকে ভুলে যেয়ো না’।

তুরস্কের সরকারপন্থী পত্রিকা সাবাহ বলেছে, প্রদর্শনীস্থলে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা তল্লাশি যন্ত্রে মেভলুতের সঙ্গে পিস্তল থাকার বিষয়টি ধরা পড়লে তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। তবে পুলিশের পরিচয়পত্র দেখানোর পর তিনি ভেতরে ঢোকার অনুমতি পান।

হুরিয়াত পত্রিকা বলেছে, হামলাকারী পুলিশ সদস্য আঙ্কারা পুলিশের সন্ত্রাস-দমন ইউনিটে গত আড়াই বছর কর্মরত ছিলেন। তবে হামলার সময় দাপ্তরিক দায়িত্বে ছিলেন না। হামলার পর পুলিশের সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা গুলিবিনিময়ে তিনি নিহত হন।

এদিকে তুরস্কের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলাকারী মেভলুতের মা, বাবা, বোন, চাচাসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

আঙ্কারার মেয়র মেলিহ গোকসেক বলেন, হামলাকারী তুর্কি স্বেচ্ছানির্বাসিত ভিন্নমতাবলম্বী নেতা ধর্মপ্রচারক ফেতুল্লা গুলেনের দলের সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁর ধারণা। ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টার জন্য গুলেন ও তাঁর অনুসারীদের দায়ী করেছে সরকার।

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons