নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, 21st ডিসে., 2016

এবারে নিসের কায়দায় বার্লিনে ট্রাক ‘হামলা’

Share This
Tags
Print Friendly

ফ্রান্সের নিস শহরে গত জুলাইয়ে ঝোড়োগতিতে লোকজনের ওপর ট্রাক তুলে ও গুলি করে এক হামলাকারী ৮৬ জনকে হত্যা করেছিল। সেই একই কায়দায় জার্মানির বার্লিনে ক্রিসমাস মার্কেটে একটি ট্রাক ঢুকে পড়ার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫০ জন।

স্থানীয় সময় গত সোমবার রাত সোয়া আটটার দিকে বার্লিনে কাইসার উইলহেম মেমোরিয়াল চার্চের বাইরে বড়দিন সামনে রেখে বসা বাজারে একটি ট্রাক ঢুকে পড়ায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এটিকে ‘সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে দেখছে।

ট্রাকচালক সন্দেহে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তবে ‘যথেষ্ট প্রমাণের অভাবে’ কয়েক ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বার্লিনের পুলিশ-প্রধান ক্লাউস কানদৎ গতকাল এর আগে বলেন, যাঁকে আটক করা হয়েছে, তিনি হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া ওই ব্যক্তিই যে ট্রাকটি নিয়ে মার্কেটের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো তাঁরা নিশ্চিত হতে পারেননি। তিনি বলেছেন, উগ্রবাদীদের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে জার্মান নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, সন্দেহভাজন ট্রাকচালক আশ্রয়প্রার্থী হতে পারেন। গত ফেব্রুয়ারিতে জার্মানিতে আসেন তিনি। পুলিশ বলছে, ওই চালকের ছোট অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি পুলিশ অবগত ছিল। তবে সন্ত্রাসবাদে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কোনো তথ্য নেই।

পুলিশ বলছে, ট্রাকটিতে এক আরোহীর লাশ পাওয়া গেছে। লাশটি চালকের আসনে ছিল না। মৃত ব্যক্তি পোল্যান্ডের নাগরিক। তাঁর নামেই পোল্যান্ডে ট্রাকটি নিবন্ধিত ছিল।

গণমাধ্যমের খবর ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের বিবরণ অনুযায়ী, বড়দিন উপলক্ষে বার্লিনের কেন্দ্রস্থলে বসা মার্কেটটিতে রাতের ব্যস্ততম সময়ে ঢুকে পড়ে ট্রাকটি। ইস্পাতবোঝাই গাড়িটি ৫০ থেকে ৮০ মিটার ভেতরে ঢুকে যায়। বেঁচে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ট্রিশা ও’ নেইল বলেন, কালো রঙের ট্রাকটি হঠাৎই মার্কেটের ভেতরে ঢুকে দোকানপাট দুমড়ে-মুচড়ে দেয়। দোকানে থাকা অনেককেই পিষে ফেলে। তিনি একটু দূরে থাকায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।

ব্রিটিশ নাগরিক মাইক ফক্সও অল্পের জন্য বেঁচে যান। তিনি বিবিসিকে বলেন, এটা নিশ্চিতভাবে সন্ত্রাসী হামলা। চালক মার্কেটে ট্রাক নিয়ে আছড়ে পড়ার পরও তাঁর মাঝে প্রাণহানি এড়ানোর চেষ্টার কোনো লক্ষণ ছিল না।

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টমাস ডা ম্যাজিয়ার বলেছেন, তিনি এটিকে এখনই ‘হামলা’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাইছেন না। তবে বিভিন্ন আলামত ঘটনাটিকে ‘ইচ্ছাকৃত’ বলেই ইঙ্গিত করছে। ট্রাকের পোলিশ মালিকের ভাষ্য, সোমবার বিকেল থেকে চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তিনি।

পুলিশের ধারণা, জার্মানির কোনো একটি নির্মাণস্থান থেকে ট্রাকটি চুরি করা হতে পারে। এরপর সেটি বার্লিনের ওই ক্রিসমাস মার্কেটে ঢুকে পড়ে।

ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে রাখে পুলিশ। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।

হতাহতের এই ঘটনায় জার্মানিতে শোকাবস্থা বিরাজ করছে। শোক প্রকাশ করেছেন চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আপাতত মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার জন্য ‘ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীদের’ দোষারোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ ঘটনায় ইউরোপের অন্য দেশগুলোয় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ফ্রান্সে ক্রিসমাস মার্কেটে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ এক শোকবার্তায় বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় জার্মানির মতো ফ্রান্সও ব্যথিত। পুরো ইউরোপকে স্তম্ভিত করেছে এই ঘটনা। তিনি আরও বলেন, ফ্রান্সে আবার এ ধরনের হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

গত জুলাইয়ে একই কায়দায় আক্রান্ত হয়েছিল ফ্রান্স। দেশটির ভূমধ্যসাগর-তীরের নয়নাভিরাম অবকাশ শহর নিসে বাস্তিল দিবসের লোকজন আতশবাজির প্রদর্শনী দেখে বাড়ি যাওয়ার পথে আচমকা ঝোড়োগতিতে একটি ভারী ট্রাক তুলে দেন এক তিউনিসিয়ার যুবক। পিষে ফেলেন অনেক মানুষকে। গুলিও ছুড়ছিলেন ওই চালক। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। ট্রাকটিও থেমে যায়। এ হামলায় নিহত হন ৮৬ জন। তখন ইসলামিক স্টেট ওই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে বিবৃতি দেয়।

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons