নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, 4th মে, 2016

একই দিনে পদ্মাসেতুতে রেল ও সড়ক চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Share This
Tags
Print Friendly

২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন স্বপ্নের পদ্মাসেতু প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালের মধ্যেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই দিনে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি। একনেক চেয়ারপাসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভা সূত্র জানায়, পদ্মাসেতু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনোভাবেই এ প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো যাবে না। একই দিনে পদ্মাসেতুর ওপরের অংশে যানবাহন ও নিচের অংশ দিয়ে রেল চলাচল করবে। এটা একটি দর্শনীয় প্রকল্প হবে দেশবাসীর কাছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ডাবল ডেকার সিস্টেমের পদ্মাসেতু দেখতে আসবেন জনগণ।

পদ্মাসেতু হয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে নতুন রেলওয়ে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে একনেক সভায়। প্রকল্পের আওতায় রাজধানী থেকে পদ্মা বহুমুখী সেতু হয়ে যশোর পযর্ন্ত নতুন ব্রডগেজ রেলওয়ে ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে ১৬৯ কিলোমিটার। লুপ সাইডিংস এবং ডাবল লাইনসহ মোট ট্র্যাক হবে ২১৫ দশমিক ২২ কিলোমিটার। প্রকল্পে চীনা ঋণ সহায়তা থেকে ব্যয় করা হবে ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি ৫ লাখ টাকা।

চীনকে ঋণের জন্য ২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ায় সম্মতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টোল আদায়ের মাধ্যমে ২০ বছরে চীনকে সমস্ত টাকা পরিশোধ করতে পারবো।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘একই দিনে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রেলপথ নির্মাণের জন্য চীনকে ২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ার বিষয়টিও ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন তিনি। যাত্রীদের কাছ থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে চীনকে ২০ বছরে ঋণের টাকা পরিশোধ করা হবে। যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে টোলের টাকা কেটে নেওয়া হবে’।

১ হাজার ৮৯০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলেট বিভাগের জন্য ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন’ প্রকল্পেরও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় একনেক সভায়। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরেইবি) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পিডিবি ও আরইবি’র ওপর পৃথক পৃথকভাবে যে সব কাজ অর্পণ করা হয়েছে সেটুকুই বাস্তবায়ন করবে তারা। পিডিবি যেন আরইবি’র কাজ না করে এবং আরইবি যেন পিডিবি’র আওতাধীন কাজ না করে। শহর এলাকায় পিডিবি কাজ করবে এবং গ্রামে আরইবি কাজ করবে’।

উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশ্রয় প্রকল্পগুলো এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে যাতে করে ক্ষতিগ্রস্তদের পশু পাখি রাখার ব্যবস্থা করা যায়। আশ্রয়কেন্দ্রের ছাদে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে। দুর্যোগের সময় বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেজন্য প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রের ওপরে সোলার সিস্টেম থাকতে হবে।

এগুলোসহ একনেক সভায় মোট ৯টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ হাজার ১৬৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৯ হাজার ২৬৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

অনুমোদন দেওয়া অপর প্রকল্পগুলো হলো- ৯১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘জাতীয় মহাসড়কের মাগুরা শহর অংশের রাম নগর মোড় থেকে আবালপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প, ৭৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রাণীরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প (২য় পর্যায়) এবং ৭০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উদ্যানতাত্ত্বিক ফসলের গবেষণা জোরদারকরণ ও চর এলাকায় উদ্যান ও মাঠ ফসলের প্রযুক্তি বিস্তার প্রকল্প।

১৮৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং  ৭৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ বেতারের মহাশক্তি প্রেরণ কেন্দ্র ১ হাজার কিলোওয়াট মধ্যম তরঙ্গ ট্রান্সমিটার স্থাপন প্রকল্পেরও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় একনেক। এ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য ১৯৭৬ সালে সংস্থাপিত এবং বর্তমানে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে ব্যবহৃত ৫০০ কিলোওয়াট ব্লক রাশিয়ান এনালগ মধ্যম তরঙ্গ ট্রান্সমিটারের পরিবর্তে এক হাজার কিলোওয়াট আধুনিক ও ডিজিটাল ট্রান্সমিটার প্রতিস্থাপন করা।

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons