নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, 26th এপ্রিল, 2016

কাশিমপুর কারাগারের কাছে গুলি করে কারারক্ষীকে হত্যা

Share This
Tags
Print Friendly

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে থাকা কারা সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টর রুস্তম আলী হাওলাদারকে (৬০) কারাগারের প্রধান ফটক থেকে ২০০ গজ দূরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার সময় তিনি একটি ওষুধের দোকানের সামনে বসে ছিলেন।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার সঙ্গে জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য এখনো মেলেনি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ওষুধের দোকানের মালিক সাইফুল ইসলাম, রুস্তমের ছোট ভাই শাহ আলম ও পালিত মেয়ের স্বামী সোহেল রানাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর কারা প্রশাসন দেশের সব কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র বলেছে, রুস্তম আলী গত ৪ নভেম্বর অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে গেছেন। তবে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে কাশিমপুর কারাগারের ভেতরে স্টাফ কোয়ার্টারেই থাকতেন। গতকাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে রুস্তম কাশিমপুর জেলখানা রোডসংলগ্ন আহাম্মদ মেডিসিন কর্নার নামের একটি ওষুধের দোকানের সামনে চেয়ারে বসে পত্রিকা পড়ছিলেন। আশপাশে তখন অনেক মানুষের চলাচল। এরই মধ্যে একটি মোটরসাইকেল থামে সড়কে। মোটরসাইকেলে থাকা তিন যুবকের মধ্যে দুজন নেমে দোকানটির সামনে আসেন। তাঁদের একজন খুব কাছ থেকে রুস্তমকে তিনটি গুলি করলে তিনি দোকানের সামনে পড়ে যান। যুবকেরা দ্রুত মোটরসাইকেলে উঠে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দিকে চলে যান। পুলিশ রুস্তমকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবদুস সালাম সরকার জানান, হাসপাতালে আনার অনেক আগেই রুস্তমের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র বলেছে, রুস্তম আলীর গালে, বুকে ও ডান হাতে গুলি বিদ্ধ হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর ঘটনাস্থলের আশপাশের সব দোকান বন্ধ হয়ে যায়। বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকি বসায় পুলিশ ও র্যাব। খবর পেয়ে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি কারা ফটকের সামনে না হলেও কারাগারের কাছাকাছি হয়েছে। তাই দেশের সব কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রুস্তম আলীর স্ত্রী নাসরীন আক্তার বলেন, সকালে তাঁকে নিয়ে রুস্তম আলী নতুন বাজারে কেনাকাটা করতে যান। পরে তাঁকে বাসায় রেখে প্রধান কারা ফটকের কাছে যান তাঁর স্বামী। এর কিছুক্ষণ পর তিনি ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
আশপাশের কয়েকজন দোকানমালিক বলেন, শার্ট-প্যান্ট পরা ওই তিন যুবকের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এ সময় আহাম্মদ মেডিসিন কর্নারের মালিক সাইফুল দোকানের ভেতরে বসা ছিলেন।
রুস্তম আলীর গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার চড়কগাছিয়ায়। তিনি ১৯৭৪ সালে কারারক্ষী হিসেবে যোগ দেন। নিঃসন্তান রুস্তম আলী এক মেয়েকে পালক নিয়েছিলেন। পরিবার ও পুলিশ সূত্র বলেছে, কাশিমপুর কারাগারের পাশে দেওয়ালিয়াবাড়ীতে ছোট ভাই শাহ আলমের সঙ্গে ৭ শতাংশ জমি কেনেন। সেখানে টিনশেডের ১০টি ঘরের দুটিতে থাকেন শাহ আলম। বাকি আটটি ঘর ভাড়া দেওয়া হয়। শাহ আলম ঝুট কাপড়ের ব্যবসা করেন। রুস্তমের পালক মেয়ের স্বামী সোহেল রানাও ঝুট কাপড়ের ব্যবসা করেন। জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সোহেল রানার সঙ্গে রুস্তমের বিরোধ ছিল।
গাজীপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। এ ছাড়া শাহ আলমের মেয়েকে স্থানীয় এক যুবক বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই বিয়েতে বাধা দেন রুস্তম।
এই হত্যার সঙ্গে এখনো জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান গাজীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, পারিবারিক বিরোধসহ কয়েকটি বিষয় সামনে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোলায়মানের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা কারাগারের জ্যেষ্ঠ সুপার সুভাষ চন্দ্র ঘোষ বলেন, রুস্তম হত্যার ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক গোলাম হায়দারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে।

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons