নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, 16th মে, 2015

পবিত্র শবেমেরাজ

Share This
Tags
Print Friendly

time-2
তাং ১৫.০৫.২০১৫ ইং

মোঃ শাহাবুদ্দীন

মেরাজ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন। রাসুল (সাঃ) মক্কা শরিফ হতে বায়তুল মোকাদ্দাস এবং বায়তুল মোকাদ্দাস হতে ঊর্ধ্ব আকাশে গমন, সপ্ত আকাশ ভ্রমণ, নবীগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বেহেশত-দোজখ দর্শন, সিদরাতুল মোনতাহা পর্যন্ত গমন, সিদরাতুল মোনতাহা থেকে রফরফের মাধ্যমে আরশে আজিমে গমন, সেখান থেকে ৭০ হাজার নূরের পর্দা অতিক্রম করে আল্লাহর দিদার ও সানি্নধ্য লাভ এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে সেখান থেকে পুনরায় মক্কায় আগমন এই বিস্ময়কর সফর বা ভ্রমণকেই এক কথায় মেরাজ বলা হয়।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনের অন্যতম অলৌকিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো মেরাজ।হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সব মুজেযার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজেযা হলো মেরাজ। এই রাত নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। পুণ্য এই রাতে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করেন। এ পবিত্র রজনীতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়।এ রাতে তিঁনি বায়তুল মোকাদ্দাসে নামাজে সব নবীর ইমাম হয়ে নামাজ আদায় করেন।এ রাতটি মুসলমানের কাছে অতীব গুরুপূর্ণ।

মেরাজের কথা পবিত্র কোরআনের সূরা বনি ইসরাইলের ১ম আয়াত ও সূরা নজমের ১ম থেকে ১৭ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুল (সাঃ)-এর অসংখ্য হাদিসেও মেরাজ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

মহানবী (সা.)-এর জীবনে ‘মেরাজ’ এমন সময় সংঘটিত হয়েছিল, যে সময়টি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত। কুরাইশদের দ্বারা সামাজিকভাবে বয়কট, প্রিয়তমা স্ত্রী হযরত খাদিজা (রা.) ও চাচা আবু তালিবের ইন্তেকাল, তায়েফবাসীর অত্যাচার মহানবী (সা.)কে মর্মাহত করে। আর এমনই সময়ে মহান আল্লাহর কাছ থেকে আমন্ত্রণ এলো মেরাজের। মেরাজের রাতে মহান আল্লাহতায়ালা তার প্রিয় বন্ধুকে একান্ত সান্নিধ্যে নিয়ে আসেন।

রাসূল (সাঃ) মেরাজ রজনীতে উম্মে হানীর ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাতে হঠাৎ হযরত জিবরাইল (আ.) এসে নবী (সা.)কে মসজিদুল হারামে নিয়ে যান। যেখানে তার বুক বিদীর্ণ করে জমজম কূপের পানি দিয়ে সীনা মোবারক ধৌত করা হয়। নবী (সা.)-এর জীবনে অন্তত তিনবার এমন ঘটনা ঘটেছে। তারপর সেখান থেকে তিঁনি ‘বোরাক’ নামক এক ঐশী বাহনে চড়ে বায়তুল মোকাদ্দাসে আসেন এবং সব নবীর ইমাম হয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। তারপর তিনি বোরাকে চড়ে ঊর্ধ্বে গমন করতে থাকেন। একের পর এক আসমান অতিক্রম করে সপ্তম আসমানে যান। পথিমধ্যে অনেক নবী-রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। সপ্তম আসমানে বায়তুল মামুর পরিদর্শন করেন। এর পর রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বচক্ষে জান্নাত ও জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করেন।

সিদরাতুল মুনতাহায় গিয়ে বোরাক পরিবর্তন করে তিনি ‘রফরফ’ নামক আরেকটি ঐশী বাহনে চড়ে আল্লাহতায়ালার আরসে আজিমে হাজির হন। সেখান থেকে ৭০ হাজার নূরের পর্দা অতিক্রম করে আল্লাহর দিদার ও সানি্নধ্য লাভ করেন। স্বশরীরে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

হজরত রাসূলুল্লাহর (সা.) মেরাজ গমনের কথা একজন অবিশ্বাসীর মুখে শুনে হজরত আবু বকর (রা.) তৎক্ষণাৎ বিশ্বাস করেছিলেন বলেই হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে ‘সিদ্দিক’ উপাধি দিয়েছিলেন।

মহানবী (সা.) মিরাজের মাধ্যমে ঊর্ধ্বজগতে পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রেমের পাখায় ভর করে। তিনি মিলনের শরাবান তহুরা পান করে দিওয়ানা হননি এবং দুনিয়াত্যাগী বৈরাগীও হননি। তসবিহ তাহলিল, দোয়া তাবিজের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেননি। দুনিয়ায় ফিরে এসে আধ্যাত্মিক শক্তি নিয়ে তাগুতের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হয়ে ওঠেন।

মেরাজের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা রসুল (সাঃ)-কে দেখা দিয়ে তাঁকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিঁনি উম্মতে মোহাম্মদীকেও বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons