নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, 5th নভে., 2014

পবিত্র আশুরা

Share This
Tags
Print Friendly

time-6

মোঃ শাহাবুদ্দীন
সম্পাদক

আজ পবিত্র আশুরা তথা হজিরী নবর্বষরে প্রথম মাস মহররমরে ১০ তারখি। কারবালার স্মৃতিমন্ডতি পবিত্র দিবস। ১৩৭৫ বছর আগে হিজরি ৬১ সনের এই দিনে কারবালার প্রান্তরে রসুল (সাঃ)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) শাহাদাতবরণ করেন। ইসলামী বিধানকে উপক্ষো করে অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগতকারী ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়াকে খলিফা হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি। এই মহাপুরুষ অসত্য, অসুন্দর ও অকল্যাণের প্রতিভূদের কাছে মাথানত করার বদলে শাহাদাতবরণকেই শ্রেয় বলে মনে করেছিলেন । বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর অনুসারীদের অসামান্য আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে এই দিনে। শোকাবহ এ দিনটি সমগ্র মুসলমানদের কাছে অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার দিন।

ঘটনাবহুল দিন

পবিত্র আশুরা পৃথবিী সৃষ্টি থকেে কেয়ামত র্পযন্ত অসংখ্য ঘটনার দিন। শুধু মুসলমান নয়, সকল ধর্মের মানুষরে কাছে দিনটি স্মরণীয়। ইতহিাসে বিশাল জায়গা দখল করে আছে পবত্রি আশুরা দিবস। মহান আল্লাহতায়ালা এ দনিইে আরশ, কুরছি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করছেনে। এ দিনেই আদম (আ:) কে সৃষ্টি করে বেহেশতে স্থান দয়িছেনে। পরর্বতীতে শয়তানরে প্ররোচনায় ভুলরে কারণে এ দিনেই আদম (আ:) ও হাওয়া (আঃ)-কে দুনয়িাতে পাঠয়িছেনে। । এ দিনেই আদম আ:-এর তওবা কবুল হয়েছিল। পবত্রি আশুরার দিনে মহাপ্লাবনরে সময় হযরত নূহ (আঃ) এর নৌকা তাঁর অনুসারীদের নিয়ে জুদি পাহাড়ের পাদদেশে এসে থেমেছিল। ইউনুস আ:কে মাছের পেট থেকে মুক্ত করা হয়েছিল এই দিনে। হজরত ইউসুফ আ:কে কুয়া থেকে উঠানো হয়েছিল এই দিন। হজরত আইয়ুব আ: দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে এই দিন আরোগ্য লাভ করেছিলেন। এই দিনে হজরত ইদরিস আ:কে আসমানে উত্তোলন করা হয়েছিল। হজরত সুলায়মান আ: এই দিন সিংহাসনে পুনরায় অধিষ্ঠিত হন। হজরত ইবরাহিম আ: এই দিনে জন্মলাভ করেছিলেন; এই দিনেই তিনি নমরুদের আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। এ দিনেই হযরত দাউদ (আঃ) আল্লাহর কাছ থকেে ক্ষমা লাভ করছেলিনে। হযরত ইয়াকুব (আঃ) তার হারানো পুত্র হযরত ইউসূফ (আঃ)কে চল্লশি বছর পর ফিরে পেয়েছিলেন। পবিত্র আশুরার দিনে ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়া শিশু মুসাকে গ্রহণ করছেলিনে। আবার স্বীয় কওমের লোকজনসহ হযরত মূসা (আঃ) নীল নদ অতক্রিম করে ফরোউনের জুলুম থকেে মুক্তি লাভ করনে। পক্ষান্তরে ফেরাউন সদলবলে নীল নদে ডুবে মারা যায়। পবত্রি আশুরা সমগ্র জগৎ সৃস্টির দিন হিসাবে যেমনি স্বীকৃত, তেমনি এদিন কেয়ামত অনুষ্ঠতি হয়ে জগৎ ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। এদনিে এমনি আরো বহু ঘটনা সংঘটতি হয়ছেে এবং আরো হবে।

কারবালার ট্র্যাজডেি

পবত্রি আশুরার দনি মুসলমি জাহানরে জন্য যে কারণে সবচয়েে বশেী গুরুত্বর্পূণ এবং হৃদয়বদিারক তা হলো, এদিনে স্বৈরাচারী ইয়াজিদ বাহিনী বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রাণাধিক দৌহিত্র অকুতভয় সৈনিক হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) কে তাঁর পরিবারের সব পুরুষ সদস্যসহ [কেবল ইমাম জয়নুল আবেদিন (রা.) ছাড়া] সপরবিারে কারবালার মরু প্রান্তরে নর্মিমভাবে হত্যা করা হয়।

চতুর্থ খলফিা হজরত আলী (রা.)-এর আমলে সমঝোতা হয় তাঁর পর হজরত মুয়াবিয়া (রা.) খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তারপর খেলাফত যাবে হজরত হোসাইন (রা.)-এর কাছে। মুয়াবিয়া এ সমঝোতার প্রতি সম্মান না দিয়ে মদ্যপ ও লম্পট পুত্র ইয়াজিদকে খেলাফতের উত্তরাধিকার করে। ইয়াজিদ নবী দৌহিত্র হজরত ইমাম হাসান (রা.)কে বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করে। হযরত হোসাইন (রা.) জীবন দিয়ে হলেও ইসলামী হুকমতের পবিত্রতা রক্ষায় ব্রতী হন। হযরত ইমাম হোসাইন ক্ষমতার জন্য ইয়াজিদের বিরুদ্ধে লড়াই করনেনি বরং তনিি লড়াই করছেলিনে ইয়াজিদের ইসলাম বিরোধী র্কমকান্ডের বিরুদ্ধে। ইয়াজিদ ইসলামী রাস্ট্রের নিয়ম-কানুন লংঘন করে এবং কুরআন হাদীসকে উপক্ষো করে মনগড়া পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরচিালনা করছে। ইমাম হোসাইন (রাঃ) ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করছিলেন।

৬০ হজিরীতে কুফাবাসীদের পক্ষ থকেে আমন্ত্রণ নিয়ে চিঠি এবং অনেক প্রতনিধিি হযরত হোসাইন (রাঃ)-এর দরবারে আসে। তাদের আমন্ত্রণে হযরত হোসাইন (রাঃ) নিজ পরিবার পরিজন নিয়ে মক্কা থকেে কুফায় রওয়ানা হন। কুফাবাসী ছিল বিস্বাসঘাতক। তাঁরা হোসাইন (রাঃ) সাথে বশ্বিাসঘাতকতা করেছিল।
মদিনা যাওয়ার পথে ইমাম হোসাইন (রাঃ)-কে ফোরাত নদীর তীরে কারবালায় অবরুদ্ধ করে ইয়াজিদের বাহিনী। ইমাম হুসাইন রা: ইয়াজিদের প্রতিনিধির কাছে শান্তির স্বার্থে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ইমাম বলেছিলেন, তাকে মদিনায় যেতে দেয়া হোক অথবা তাকে ইয়াজিদের সাথে মুখোমুখি আলোচনার সুযোগ দেয়া হোক। তা না হলে তাকে অন্য কোনো মুসলিম জনপদে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হোক। ইয়াজিদের প্রতিনিধি এ প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে খলিফা হিসেবে ইয়াজিদকে মেনে নেয়া এবং আনুগত্য কবুল করার কথা বলেন ইমাম হুসাইনকে। হয় ইয়াজিদের আনুগত্য, নতুবা মৃত্যু– এ দুয়ের যে কোনো একটি পথ বছেে নিতে বলা হয়ছেলি তাঁদের। কিন্তু তাঁরা বীরোচিতভাবে লড়াই করে শহীদ হওয়ার পথই বছেে নয়িছেলিনে।

ইমাম হোসাইন (রা.)-কে কারবালার প্রান্তরে দীর্ঘ এক মাস অবরুদ্ধ করে। অবশষেে আশুরার এই দিনে তাকে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্বের প্রতীক ইমাম হুসাইন রা: অসত্যের কাছে নত হননি। অপরিসীম আত্মত্যাগ ও সত্যের শিক্ষা বিশ্ব ইতিহাসে চিরন্তন করতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করে শাহাদতকে বরণ করেছেন তিনি। তার মস্তক ছিন্ন করে নেয়া হয় ইয়াজিদের কাছে। ইমাম হোসাইনের সাত মাস বয়সের শিশুপুত্রকেও হত্যা করা হয় নির্মমভাবে। ইমাম হোসাইনের পরিবারের ৭১ জন সদস্য ও স্বজনকে কারবালার প্রান্তরে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়।
হোর ইবনে ইয়াজদি (রা.) নামক ইয়াজিদ বাহিনীর একজন কর্মকর্তা তার ভুল বুঝতে পরেছেলিনে এবং তিনি তার কয়কেজন আত্মীয় ও সঙ্গীসহ ইমামের (রা.) শিবিরে যোগ দেন ও শেষ র্পযন্ত বীরের মতো লড়াই করে শহীদ হয়েছিলেন। বলা হয়, প্রায় ৩০ জন ইয়াজিদি সেনা ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীদরে ভাষণে প্রভাবতি হয়ে যুদ্ধ শুরুর আগইে ইমামের শিবিরে যোগ দেন।

ইমাম হোসাইন (রা.)-এর দিকে র্সবপ্রথম তীর নিক্ষেপ করেছিল ইয়াজিদ বাহিনীর সেনাপতি ওমর ইবনে সাদ। ইমামের জন্য জান-কুরবান করতে প্রস্তুত পুরুষ সঙ্গীদের প্রায় সবাই ৩০ হাজার মোনাফেক সৈন্যের বিরুদ্ধে মহাবীরের মতো লড়াই করেন এবং বহু মোনাফেক সৈন্যকে জাহান্নামে পাঠিয়ে একে একে শহীদ হন। ইমামের প্রায় ১৮ বছর বয়সী সুর্দশন যুবক পুত্র হযরত আলী আকবর (রা.) বহু মোনাফেককে জাহান্নামে পাঠিয়ে শহীদ হন। তিনি ছিলেন দেখতে এবং আচার-আচরণে অবিকল রাসূলের (সা.) সদৃশ। এমনকি তাঁর কণ্ঠও ছিল রাসূল (সা.)-এর কন্ঠের অনুরূপ। কারবালা ময়দানে তাঁর আজান শুনে অনেক বয়স্ক শত্রুও চমকে উঠেছিল। একইভাবে শহীদ হন ইমাম হাসান (রা.)-এর পুত্র হযরত কাসেম (রা.)। সম্মুখযুদ্ধে তাঁদের সঙ্গে কেউই পারছিলেন না। শত্রুরা যখন দেখত যে, ইমাম শিবিরে প্রত্যেক পিপাসার্ত বীর সেনা তাদরে বহু সেনাকে হত্যা করতে সক্ষম হচ্ছেন, তখন তারা ওই বীর সেনাকে ঘেরাও করে ফেলত এবং দূর থকেে বহু তীর বা র্বশা নিক্ষেপ করে কাবু করে ফলেত।

ফোরাতের পানি ইমাম শিবিরের জন্য কয়কে দিন ধরে নিষিদ্ধ থাকায় নবী-পরিবারের সদস্যসহ ইমাম শিবিরের সবাই ছিলেন পিপাসায় কাতর। প্রচণ্ড গরমে শিশুদের অবস্থা হয়ে পড়ে শোচনীয়। এ অবস্থায় ইমাম (রা.) তাঁর দুধের শিশু আলী আসগর (রা.)-এর জন্য শত্রুদের কাছে পানি চাইলে ওই নিষ্পাপ শিশুর গলায় তীর নিক্ষেপ করে তাঁকে শহীদ করে। শিশুদের জন্য পানি আনতে গিয়ে বীরের মতো লড়াই করে ও দুই হাত হারিয়ে নির্মমভাবে শহীদ হন ইমামের সৎভাই হযরত আবুল ফজল আব্বাস (রা.)। তনিি ছলিনে ইমাম বাহনিীর অন্যতম সনোপতি এবং বহু শত্রুকে জাহান্নামে পাঠয়িছেলিনে। নবী-পরবিাররে কয়কে শশিুও বীরের মতো লড়াই করে শহীদ হয়ছেলিনে। নবী (সা.)-এর পরবিাররে সদস্যরা বাহ্যিক ও আত্মাতিক সৌন্দর্যে ছিলেন অনন্য। অর্থাৎ তারা দেখতে যেমন অপরূপ সুন্দর ছিলেন, তেমনি আচার-আচরণেও ছিলেন শ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী।

সন্তান, ভাই, ভাতিজা ও সঙ্গীরা সবাই শহীদ হওয়ার পর যুদ্ধে নামেন হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)। (তার আগে তিনি যদিও জানতনে য, তাঁর ডাকে সাড়া দেয়ার মতো কেউ নেই। তবুও তিনি বলেন, কেউ কি আছ আমাকে সাহায্য করার? অথবা, আমার সাহায্যে ডাকে কেউ কি সাড়া দেবে? এ কথা তিনি চারবার বলছেলিনে। অনেকেই মনে করেন, আসলে কিয়ামত র্পযন্ত তিঁনি তাঁর আদর্শের পথে সহায়তা করতইে মুসলমানদরে প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ওই আহ্বানরে মাধ্যমে)। তিঁনি একাই প্রায় দুই হাজার মুনাফিক সেনাকে জাহান্নামে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর আঘাতে আহত হয়ছেলি আরও বহুসংখ্যক মুনাফিক। কিন্তু এক সময় তিঁনিও চরম পিপাসায় ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়নে। এ সময় তাঁকে ঘিরে ফেলে মুনাফিক সেনারা। পাথর ও অনেক বিষাক্ত তীর মারে তারা বহেশেতী যুবকদের সর্দারের গায়ে। একটি তীর আসে তিন ফলা বিশিষ্ট। এরপর এক নরাধম মারে একটি র্বশা। ফলে অশ্বারোহী ইমাম (রা.) ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। এর পর আরেক নরাধম সীমার অথবা সিনান জীবন্ত অবস্থায় ইমামের মস্তক মুবারক দেহ থকেে বিচ্ছিন্ন করেছিল। ইমামের গায়ে র্বশা, তীর ও তরবারির অন্তত ৩৬০টি আঘাত ছিল। সেদিন ছিল শুক্রবার এবং ইমামের বয়স ছিল ৫৭ বছর।

ইমামের মাথা মুবারক র্বশার আগায় বিদ্ধ করছিল নরাধমরা। শুধু তাই নয়; ইমামের লাশসহ শহীদদের লাশগুলোর ওপর ঘোড়া দাবিয়ে পবিত্র লাশগুলোকে দলিত-মথিত করছিল নরপশুরা। যোহর ও আসররে নামাজরে মধ্যর্বতী সময়ে তাঁকে শহীদ করা হয়। এর আগে তিঁনি সঙ্গীদের নিয়ে সালাতুল খওফ তথা যুদ্ধ বা ভয়রে সময়কার (সংক্ষপ্তি পদ্ধতরি) জামায়াতে নামাজ পড়ছেলিনে।

ইয়াজিদ সেনারা ইমাম শিবিরে তাবুগুলোতে আগুন দিয়েছিল এবং নারীদের অলঙ্কার ছিনিয়ে নেয়াসহ লুটপাট চালায়। তারা ইমামের জিনিসপত্র ও উটগুলো লুট করে। তাঁদের খালি পায়ে হাঁটিয়ে বন্দীদরে মতো সারিবেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় কুফা ও দামেস্কের দিকে।কথতি আছ, আশুরার দিন র্সূয কালো হয়ে গিয়েছিল। লাল আকাশে তারা দেখা যাচ্ছলি দিনের বেলায়। অনকেইে ভয় পাচ্ছিল যে, হয়তো কেয়ামত শুরু হয়েছে। যে কোনো পাথর তুললে তার নিচে তাজা রক্ত দখো যতে।

 

হত্যাকারীদরে পরণিতি

ইটটি মারলে পাটকেলটি খতেে হয়। নিউটনের তৃতীয় সূত্র-প্রত্যেক ক্রিয়ারেইই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। প্রকৃতির বিধান এটাই যে আপনি দেয়ালকে ধাক্কা দিলে দেয়াল আপনাকে পেছনে ধাক্কা দেবেই। খারাপ কাজের পরিণতি সব সময় শুধু পরকালরে জন্য অপক্ষো করে না, ইহকালেও তার পরিণতি ভোগ করতে হয়। আমরা তাইতো দেখি যারা হযরত হোসাইনকে শহীদ করেছে ও তাঁর পরিবারের প্রতি র্দুব্যবহার করছেে তারাও ইহ জগতে চরমভাবে লাঞ্ছতি হয়ছে।

কারবালা প্রান্তরে এক সময় পপিার্সাত রণক্লান্ত হযরত হোসাইন (রাঃ) যখন অঞ্জলি ভরে পানি পান করার জন্য মুখের কাছে হাত তুলেছেন তখন হাছিন বিন নুমায়ের তাঁকে লক্ষ্য করে তীর নক্ষিপে করে। তীর এসে বিদ্ধ হয় হযরত হোসাইনরে মুখে। মুখ থেকে দর দর করে রক্ত ছুটছে। তখন তাঁর পবত্রি জবান থকেে বরে হয়ে এল, “হে আল্লাহ! রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কন্যা সন্তানদের সাথে যে র্দুব্যবহার করা হচ্ছে আমি তার অভযিোগ শুধু তোমার দরবারে পশে করছ।ি তাদরেকে বেছে বেছে কতল কর। তাদরেকে খন্ড বখিন্ড করে দাও। তাদরে মধ্যে কাউকে ছড়েে দিও না।” নবী দৌহিত্র মজলুম হোসাইন (রাঃ) এ দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হল। তাঁর হত্যাকারীদরে কাউকে হত্যা করা হয়, কারো কারো চেহারা কুৎসতি হয়ে যায়, আবার কারও কারও রাজত্ব অল্প দনিরে মধ্যে কড়েে নয়ো হয়।

এক বৃদ্ধ লোক হযরত হোসাইনরে হত্যায় অংশ গ্রহণ কর।ে কন্তিু এই র্মমান্তকি ঘটনার কছিুদনি পরইে সে অন্ধ হয়ে যায়। লোকরো তার অন্ধত্বরে কারণ জজ্ঞিসে করলে সে উত্তর দয়ে, “আমি স্বপ্নে দখেলাম রাসূল (সাঃ) তাঁর জামার হাতা গুটয়িে আছেন। তাঁর হাতে রয়ছেে একখানা তলোয়ার এবং সামনে রয়ছেে চামড়ার বিছানা, যার উপরে রেখে কোন মানুষকে হত্যা করা হয়। দেখলাম চামড়ার সেই বিছানার উপরে হযরত হোসাইন (রাঃ)-এর হত্যাকারীদের লাশ জবহে করা অবস্থায় পড়ে আছ।ে স্বপ্নে দখেলাম, রাসূল (সাঃ) আমাকে ডাকছনে। আমি তাঁর কাছে পৗেঁছলে তনিি হোসাইনের রক্ত মাখা একটি কাঠি আমার চোখে লাগয়িে দিলেন। সকালে আমি ঘুম থকেে জাগলাম তখন আমি অন্ধ হয়ে গেছি।

ইবনে জওজী র্বণনা করনে, যে ব্যক্তি হযরত হোসাইন (রাঃ)-এর পবত্রি শরির তার ঘোড়ার গলায় লটকয়িে ছিলো পরে তার চহোরা আলকাতরার মতো কালা হয়ে গিয়েছে। অথচ লোকোর চেহারা ছিল আরবদের মধ্যে সব চয়েে সুন্দর। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, “তোমার মুখ মন্ডল এমন কুৎসতি কেন হলো?” সে জওয়াব দলি, “যে দিন আমি হযরত হোসাইনের পবিত্র শরির আমার ঘোড়ার গলায় লটকিয়ে ছিলাম সেদিন যখন আমি ঘুমিয়ে পড়ি তখনই দু’জন লোক এসে আমার বাহু ধরে জ্বলন্ত অগ্নকিুন্ডে নয়িে নিক্ষেপ করে, যা আমাকে এভাবে ঝলসে দয়িছে।ে” এভাবে যন্ত্রণা ভোগ করার কছিুদনি পরে লোকটি মারা যায়।

একদিন এক মজলসিে আলোচনা হচ্ছলি যারাই হযরত হোসাইন (রাঃ)-এর হত্যায় অংশ নিয়েছিল তাদরে সবাইকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হয়ছে।ে সখোনে বসা এক র্দুভাগা ব্যক্তি বলে উঠল, “এ কথা ভুল, আমি নিজেই উক্ত হত্যাকান্ডে শরীক ছিলাম। আমার তো কিছুই হয়ন।ি” লোকটি মজলসি শেষে তার ঘরে যায়। ঘরে পৗেঁছে সে চেরাগের ফিতা ঠিক করতে ছিলো, এ সময় তার কাপড়ে আগুন লগেে যায় এবং সে ব্যক্তি আগুনে পুড়ে কয়লায় পরণিত হয়।

যে ব্যক্তি তীর নিক্ষেপ করে হযরত হোসাইন (রাঃ)কে পানি পান করার সুযোগ থকেে বঞ্চতি কর,ে আল্লাহ তাকে পপিাসা দ্বারা এমন শাস্তি দলিনে যে কোনভাবইে তার পপিাসা দূর হচ্ছলি না। যতই সে পানি পান করে তার তৃষ্ণা মটেে না। সে পপিাসায় ছটফট করতে থাক।ে এক সময় এভাবে পানি পান করতে করতে তলপেট ফেটে যায় এবং সে অনন্ত পপিাসা নিয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

ইয়াজদিরে চক্রান্তে হযরত হোসাইন (রাঃ)-কে শহীদ হতে হয়ছেলি, সইে ইয়াজদি হযরত হোসাইনরে শাহাদতরে পর একটি দিনের জন্য শান্ততিে কাটাতে পারনে।ি সমস্ত ইসলামী মুলুকে শহীদের খুনের বদলার দাবি উঠল এবং বভিন্নি স্থানে বদ্রিোহ শুরু হয়ে যায়। এ ঘটনার পর ইয়াজদি দু’বছর আট মাস মতান্তরে তনি বছর আট মাস বঁেচে ছলি। সে অপমানজনক অবস্থায় মৃত্যুবরণ কর। বিষাদ সিন্ধুতে উল্লখে আছ,ে ইয়াজদি জ্বলন্ত আগুনে ঝাঁপ দয়িে আত্মহত্যা করে।

হিজরী ৬৬ সালে মুখতার ক্ষমতা লাভের পরে তিঁনি হযরত হোসাইন (রাঃ) হত্যাকারীদরেকে খুঁজে বরে করে হত্যা করনে। যারা হযরত হোসাইনের হত্যায় জড়িত ছিল এমন ২৮৮ জনকে এক দিনে হত্যা করা হয়। আমর ইবনে হাজ্জাজ যুবাইদীকে হত্যা করা হয়। শীমার যিল জওসনকে হত্যা করে কুকুররে সামনে নক্ষিপে করা হয়।

মালি ইবনে বশির হযরত হোসাইনরে টুপি খুলে নিয়েছিল, তার উভয় হাত কটেে শরীর থকেে আলাদা করে খোলা ময়দানে ফলেে রাখা হয় এবং সে সখোনে ছটফট করতে করতে মারা যায়।

যে আমর ইবনে সাদ হযরত হোসাইনরে মোকাবলিায় সন্যৈ পরচিালনা করছেলি, তাকে হত্যা করে তার মাথা মুখতাররে সামনে হাজরি করা হয়।

হাকীম ইবনে তোফায়েল নামের যে ব্যক্তি হযরত হোসাইনকে তীর নিক্ষেপ করেছিল তার শরীরকে তীরের আঘাতে ঝাঁঝরা করে দয়ো হয় এবং সে এভাবইে মারা যায়।

মুসলমি ইবনে আকীলের পুত্র আবদুল্লাহর উপর তীর নক্ষিপেকারী যায়েদ ইবনে যিয়াদকে বন্দী করে প্রথমে তার উপরে তীর ও পাথর র্বষণ করা হয়, পরে তাকে জীবন্ত জ্বালয়িে দয়ো হয়।

হযরত হোসাইনের মাথা ছিন্ন করতে এসছেলি যে সানান ইবনে আনাস, সে কুফা থকেে পালয়িে যায়। কন্তিু তার ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দয়ো হয়। হযরত হোসাইনের হত্যাকারীদরে উপর এই ঘৃণ্য দৃষ্টান্তমূলক আজাবই শেষ নয়, আখরোতরে আজাব এর চয়েওে অনকে ভয়ঙ্কর। হায় যদি তারা বুঝতো!

 

শিক্ষা

কারবালার এই মর্মন্তুদ ঘটনা থেকেও আমরা বিভিন্ন শিক্ষা পেতে পারি।

এর প্রথম শিক্ষা হলো- সত্যের পতাকা সমুন্নত রাখার জন্য ইমাম হোসাইন সপরবিারে জীবন দিয়ে শাহাদাত বরণ করে স্মরণীয় হয়ে আছনে। এই দিন অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার শিক্ষা মহানবী সা:-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র মুসলিম উম্মাহর কাছে রেখে গেছেন। ইমাম হুসাইনের এই শিক্ষা প্রত্যেক মুসলিম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রেরণা জোগাবে। আজো কউে যদি পাশ্চাত্য সভ্যতার হিংস্র থাবা ও আল্লাহর আইনের পরর্বিতে মনগড়া আইনে পরচিালতি রাষ্ট্রশক্তির প্রতবিাদ করতে গয়িে জীবন বলিয়িে দেন। তাহলে হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর উত্তরসূরী হিসাবে শাহাদাতের র্মযাদা নয়িে বহেশেত লাভ করবনে। সুতরাং কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদী হওয়ার শিক্ষা দেয়।

কারবালার দ্বিতীয় শিক্ষা হলো- মানুষের জীবনের ওপর একচ্ছত্র অধিকার তার নয়। মানুষের জীবনের মালিক হলেন মহান আল্লাহ। সেই জীবনকে নিবেদন করতে হবে আল্লাহর জন্যই। জীবনকে পরচিালতি করতে হবে আল্লাহর বধিান মোতাবকে।

তৃতীয় শিক্ষা হলো- অপরিমেয় সুখশান্তিময় যে জান্নাতের আকাঙ্খা আমরা করি, সেটি ঈমানের বিনা পরীক্ষায় পাওয়া যাবে না। আল্লাহ জান্নাতের বিনিময়ে বিশ্বাসীদের জীবন ও সম্পদ কিনে নিয়েছেন বলে যে কথা কুরআনে বলেছেন, তার বাস্তব সাক্ষ্য কারবালায় দিয়েছেন হযরত ইমাম হোসাইন রা:। আমাদরেকে ইমাম হোসাইন রা: পথ অনুসরন করতে হবে।

আশুরার চতুর্থ শিক্ষা হলো- আত্মত্যাগ। মানুষের জন্য সম্পদ আর মর্যাদার চেয়েও বড় হলো জীবন। আর এ জীবনকে উৎর্সগ করতে হবে অন্যায় দূরীভুত করার জন্য এবং সত্য প্রতষ্ঠিার জন্য।

পঞ্চম শক্ষিা হলো-ইতহিাস হযরত হোসাইন (রা.) এবং ইয়াজিদ দুজনকইে স্মরণ কর।ে একজনকে শ্রদ্ধায় এবং অপরজনকে ঘৃনায়। অন্যায় যুদ্ধে ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া জয়ী হলেও সে জয় পরাজয়ের চেয়েও লজ্জাজনক। পক্ষান্তরে হযরত হোসাইন (রা.)-কে ইতিহাস সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের প্রতীক হিসেবে যুগে যুগে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ।

 

কুসংস্কার

বর্তমানে আমাদের সমাজে যে কুপ্রথার প্রচলন আছে- যেমন মাতম করা, বুক চাপড়ানো, হায় হোসাইন, হায় হোসাইন করা, ইয়া আলী বলে আক্ষেপ প্রকাশ করা, শোকমিছিল বের করা, মাথায় ও বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করা, ছুরি দিয়ে অঙ্গচ্ছেদ করা, তাজিয়া বের করা একেবারেই কুসংস্কার ও বদ রছম। তা পরিহার করা অবশ্যই জরুরি। কেননা কোরআন ও হাদিস থেকে এযসব আমলের সর্মথন পাওয়া যায় না।

 

রোজা রাখা

ইহুদিরা আশুরা দিবসে রোজা রাখত। মক্কার মুশরিকেরাও আশুরা দিবসে সাওম (রোজা)পালন করত। আশুরা দিবসে সাওম পালনের জন্য রাসূলুল্লাহ সা: নির্দেশ দিয়েছেন। দিনটির বিরাট মর্যাদার জন্য রাসূল সা: আশুরার দিনের সাথে আগে বা পরের এক দিন যোগ করে রোজা পালনের জন্য বলেছেন। ফলে ইসলামের প্রাথমিক যুগে আশুরার সাওম ফরজ ছিল বলে ধারণা করা হয়। দ্বিতীয় হিজরি সনে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হলে আশুরার সাওম নফল হিসেবে বিবেচিত হয়। তবুও তার সাওয়াবে কমতি নেই। আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম সিয়াম (রোজা) হলো মহররম মাসের সিয়াম। আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম সালাত হলো তাহাজ্জুদের সালাত’ (মুসলিম )

হজরত আবু মুসা আল আশআরি রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আশুরা দিবসকে ইহুদিরা ঈদ হিসেবে গণ্য করত। নবী কারিম সা: তা দেখে মুসলমানদের নির্দেশ দিলেন, তোমরা এই দিন সাওম পালন করো’ (বুখারি, প্রাগুক্ত)।

আশুরার এই পবিত্র দিনে ইমাম হুসাইনের ত্যাগ ও তার মহান আদর্শকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারলে তাতে কারবালার শিক্ষার বাস্তবায়ন হবে। একই সাথে পবিত্র আশুরার দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলোর বরকতময় সুফলগুলো আমাদের জীবনকে অর্থবহ করে তুলবে। ঈমান হবে আরো দৃঢ়। জীবন হবে আরো তাৎপর্যপূর্ণ। এই সত্যের উপলব্ধি হোক আজকের দিনের শপথ।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons