নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, 3rd নভে., 2014

জেল হত্যা দিবস

Share This
Tags
Print Friendly

time-4

মোঃ শাহাবুদ্দীন
সম্পাদক

আজ ৩ নভেম্বর, জেল হত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে কারাগারে বন্দী চারজন প্রবীণ ও বিশিষ্ট রাজনীতিককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাদের সবার ছিল বিপুল অবদান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর এটি ছিল পরবর্তী জঘন্যতম নির্মম হত্যাকাণ্ড। ৩ নভেম্বর মধ্য রাতে কারাবন্দী জাতীয় যে চার নেতাকে হত্যা করা হয় তারা হলেন- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গ্রেফতার হওয়া নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন স্বাধীনতা-সংগ্রামে প্রবাসী সরকারের উপরাস্ট্রপতি হসিবেে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী ও কামরুজ্জামান ছিলেন স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী।

১৯৭৫ সালে আওয়ামীলীগের দুঃশাসনের কারণে ১৫ আগস্টের রক্তক্ষয়ী পটপরিবর্তন ঘটেছিল। এই ঘটনায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ও সে রাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার হন। তাদের মধ্যে ছিলেন পূর্বোক্ত চারজন শীর্ষ নেতাও। তারা সবাই ঢাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। তখন ক্ষমতাসীন ছিল খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগেরই একাংশ।
কোনো কোনো ইস্যুতে এ সময়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে কিছু গ্রুপিং ও অসন্তোষ জন্ম নেয়, যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে নভেম্বরের প্রথম দিকে চরমে ওঠে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ২ নভেম্বর রোববার দিবাগত গভীর রাতে হঠাৎ একদল সশস্ত্র ঘাতক গাড়ি নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢুকে পড়ে। ঘাতকেরা কারাগারে বন্দী চার নেতা সৈয়দ নজরুল, মনসুর আলী, তাজউদ্দীন ও কামরুজ্জামানের কক্ষের দিকে ছুটে যায়। তারা তাদেরকে একত্র করেই গুলি চালায়। মুহূর্তেই তাদের দেহ হয়ে যায় ঝাঁজরা। পরে বেওনেট দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নশ্চিতি করে। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী সভার সদস্য এবং তৎকালীন স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোস্তাক আহমেদের প্ররোচনায় এক শ্রেণীর উচ্চাভিলাসী মধ্যম সাররি জুনয়ির সনো র্কমর্কতারা এ নির্মম হত্যাকান্ড ঘটায়।

জেল হত্যার শিকার যে নেতৃবর্গ, তারা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তাদের প্রত্যেকে প্রথমে মুসলিম লীগ কর্মী হিসেবে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে; এরপর আওয়ামী (মুসলিম) লীগের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে ভাষা আন্দোলন এবং গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রামে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন।

একজন সাধারণ মানুষ, এমনকি কোনো জঘন্য অপরাধীও কারাগারে বন্দী থাকাকালে তার মানবাধিকার ক্ষুন্ন করা যায় না। আর সশস্ত্র আততায়ী সদর দরজা দিয়ে জোর করে ঢুকে জেলবন্দী কোনো ব্যক্তিকে হতাহত করা তো অকল্পনীয়। এই দৃষ্টিতে ‘৭৫-এর ৩ নভেম্বর ঢাকার জেল হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরাট ট্র্যাজেডি। জাতি আশা করে, আর কোনো দিন এমন শোকাবহ ও বর্বরোচিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons