নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, 4th নভে., 2014

সোনার হরিণ নেই, কষ্ট আছে

Share This
Tags
Print Friendly

৪ নভেম্বর (গ্লোবটুডেবিডি ডেস্ক) :

সোনার হরিণের আশায় দেশ থেকে বিদেশে যাওয়া এখন প্রতি ঘরে ঘরে। ভিটেমাটি বিক্রি করে, দাদন নিয়ে বিদেশে আসতেই হবে। ছোট বেলায় জীবনের লক্ষ হতো ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার। বেকার সমস্যার দিকে লক্ষ্য রেখে বাবা-মা ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে তৈরি করে ছেলে হবে প্রবাসী। প্রবাস সবার জন্য নয় তা প্রতীয়মান হয় বারবার। তবুও বিদেশ আসতে হবে, আসছে, আসবে। তেমনি পরিবারের কপালে রাজটিকা পরাতে বড় আশা করে সিঙ্গাপুর এসেছিল মিজানুর রহমান, ইসলামপুর, বেলগাছা, জামালপুর এবং মিয়া আরজু তেলিখোলা, সিঙ্গাইর, মানিগঞ্জ থেকে। তাদের হাতে দেওয়া হয়েছিল কম্পিউটার প্রিন্ট আইপি বা ভিসা। তাতে বেতন লেখা ছিল নির্ধারিত ৫২৮ ডলার। আসার সময় আইপি বদলে যায়, দেওয়া হয় নতুন আইপি। যার মধ্যে ৯০ ডলার কর্তন উল্লেখ থাকে। যা হোক তারা চলে আসে সিঙ্গাপুর। যোগ দেয় কাজে। ওয়েল্ডারের কাজ, দুমাস চলল এভাবে। কিন্তু তারপর ভাগ্য শুরু করে ছিনিমিনি খেলা। মাসে কাজ মাত্র ৫ থেকে ১০ দিন, যা দিয়ে থাকা-খাওয়া চলে না। যখন কাজ থাকে না, ৮ ঘণ্টা মজুরিও দেওয়া হয় না। আসার পূর্বে বলা হয়েছিল নিজের খরচের পর দেশে পাঠাতে পারবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। গত ৭ মাসে একটি টাকাও তারা দেশে পাঠাতে পারেনি। ওরা দুজন এখন শরণাপন্ন হচ্ছে নানা সংস্থার কাছে। এসেছিল দিবাশ্রম চেয়ারম্যান দেবী ফর ডাইসের কাছে। একটি কনফারেন্সে এশিয়া মানবাধিকার সংস্থার প্রধান বাংলাদেশি হারুন অর রশিদ আর বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম ‘অকাব’-এর চেয়ারম্যান সাকিরুল ইসলাম এসেছেন সিঙ্গাপুর। সন্ধ্যায় বাংলার কণ্ঠ সম্পাদক এ কে এম মোহসিনসহ আমরা মিলিত হয়েছি সৌজন্য সাক্ষাতে। তখনই ওরা দুজন আসে, শোনায় তাদের প্রবাস জীবনের কষ্টের কথা। দুজনে এখানে এসেছে সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশিদের মধ্য আঙুল ফুলে কলাগাছ ঝিনাইদহের রহিম সাহেবের মাধ্যমে। দিয়েছিলেন ২ লাখ ৬০ হাজার আর ৩ লাখ টাকা। আজ তারা দিশেহারা। কখন যেন পাঠিয়ে দেওয়া হয় দেশে। একদিকে মরণ থাবা অন্যদিকে মাথার ওপর ঋণের বোঝা। তাদের সঙ্গে ওই কোম্পানিতে আছে আরো ১৫০ শ্রমিক, সবার রয়েছে বেতনসংক্রান্ত জটিলতা। কেউ কেউ আবার কাজ পাচ্ছে সজীব নামে বাংলাদেশি অ্যাডমিনকে উৎকোচের বিনিময়ে। শারীরিক নির্যাতনও চলে তাদের ওপর। এই তো কিছুদিন পূর্বে আরিফ, আশরাফ, রাকিবকে করেছে নির্যাতন। কেউ ভয়ে মুখ খোলে না। ইকবাল নামে একজন ইতোমধ্যে আইনের শরণাপন্ন হয়েছে। মিজান, আরজুর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা না লিখে পারলাম না। অনুরোধ থাকবে বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর আসার পূর্বে যেন যাচাই বাছাই করে আসেন আমার ভাইয়েরা।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons