নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, 28th অক্টো., 2014

‘পত্রিকায় লেইখো কোন নারী যেন বিদেশে না আহে’

Share This
Tags
Print Friendly

২৮ অক্টোবর (গ্লোবটুডেবিডি ডেস্ক) :

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি বিরাট অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি রয়েছে অনেক নারী শ্রমিক। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও বিদেশে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন উঠেছে।
দুবাই ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমালা গ্রুপ বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে ১০০০ নারী শ্রমিক নিয়োগ দিবে মর্মে বাংলাদেশের বিএমইটির সঙ্গে গত রোববার একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের দাবি বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানোর আগে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিকরা যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ব্যবহার করা হয় প্রাচীন যুগের দাসীদের ন্যায়। মানবাধিকার বারবার ভূলুণ্ঠিত হয় এই নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে।
দূতাবাসে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যায় না। তাই নীরবে সয়ে যেতে হয় সব নির্যাতন।
সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশিত প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে নারী শ্রমিকদের নির্যাতিত হওয়ার বিষয়টি।
‘তোমাকে আমরা কিনেছি অভিযোগ করবে না’ সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক নারী শ্রমিককে এমন কথাই শুনিয়েছে তার চাকরিদাতা।
এইচআরডব্লিউ’র ওই প্রতিবেদন থেকেই অনুমান করা যায় প্রবাসে নারী শ্রমিকের সঙ্গে কি ধরনের ব্যবহার করা হয়।
সৌদি আরবে নারী শ্রমিকরা কেমন আছে জানতে চাইলে টিপু নামের একজন প্রবীণ সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, কিছুদিন পূর্বে আমি এক কাজে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়েছিলাম। সেখানে একজন মধ্যবয়সী বাংলাদেশি নারী যিনি সৌদির বাসায় খাদ্দামার (বুয়ার) কাজ করে, তিনি কিভাবে নির্যাতিত হন তা বর্ণনা করছিলেন। এক পর্যায় লজ্জায় তিনি কেঁদে ফেলেন।
রিয়াদের বাথায় সাফা মক্কা পলি ক্লিনিকে একজন অসুস্থ বাংলাদেশি নারী শ্রমিকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তার সঙ্গে মালিক কেমন ব্যবহার করে? সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাবা তুমি আমার পোলার মতন। পত্রিকায় তুমি এই কতা লেইখো কোন নারী যেন বিদেশে না আহে। তোমার কাছে এর চাইতে বেশি কিছু কইতে পারমু না। আমরা ভালো নাই বাবা।
এ কথাগুলো বলে তিনি লজ্জায় আঁচলে মুখ লুকোয়।
প্রবাসে অধিকংশ নারী শ্রমিকের একই অবস্থা। তাই সরকার প্রধানের কাছে মধ্যপ্রচ্যের সকল প্রবাসীদের দাবি, বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানোর আগে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। দূতাবাসে আলাদা অভিযোগ কেন্দ্র চালু করা হোক। যারা নারী শ্রমিকদের সকল অভিযোগ খতিয়ে দেখবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons