নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, 15th জানু., 2014

বীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার পরিচিতি ১৬

Share This
Tags
Print Friendly

(বীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি পোর্টাল বাংলাদেশ ডটকম-এর একটি চলমান প্রক্রিয়া। ধারাবাহিকভাবে এটি তুলে ধরা হচ্ছে। চোখ রাখুন…)

নাম    :     লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ আবদুল গাফ্ফার হালদার
খেতার    :     বীর উত্তম
বাহিনী    :    সেনাবাহিনী
মাতা    :    মরহুমা বেগম রহিমা খাতুন
পিতা    :    মরহুম মৌলবী মোহাম্মদ কায়কোবাদ
জন্ম    :    ২১.০৩.১৯৪৩৩
গেজেট    :    ২৪

ক্যাডট হিসেবে পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমিতে সফল প্রশিণ সমাপ্তির পর মোহাম্মদ আবদুল গাফফার পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন।১৯৭১ সালে তিনি কুমিল্লায় ৪র্থ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন।

২৭ মার্চ মেজর শাফায়েত জামিলের নেতৃত্বে পাক সেনাবাহিনী থেকে বিদ্রোহ করে তিনি বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। লে. কর্ণেল খিজির হায়াত খানসহ ৩ জন পাক অফিসারকে গ্রেফতার এবং ৭২ জন সৈন্য হত্যা করে শুরু করেন মুক্তিযুদ্ধে তাঁর কিংবদন্তীতুল্য দুঃসাহসী অভিযাত্রা।

১৮ জন সৈন্যসহ গোকর্ণঘাটে অবস্থান নিয়ে পলায়নরত পুুলিশ আর ইপিআরদের সংগঠিত করে ২৫০ জনের একটা কোম্পানী গঠন করেন। সেখান থেকে তেলিয়াপাড়া হয়ে ১৪ এপ্রিল গঙ্গাসাগরে আক্রমণ চালিয়ে ৩১ জন পাকসেনা হত্যাসহ ১৫-২০জনকে আহত, ১৮ এপ্রিল কসবা বাজার ও রেলষ্টেশনে পাকবাহিনীর ৪৫-৫০ জনকে হত্যা ও ৭০-৮০ জনকে আহত করে এ এলাকা দখল করতে সম হন। এছাড়া তালতলায় এ্যম্বুশ পেতে বেশ কিছু পাক সেনা হত্যা ছাড়াও মন্দবাগ রেলষ্টেশনের কাছে এ্যাম্বুশ কওে একজন অফিসারসহ ১৭ জন পাকসেনাকে হত্যা করেন। এ সকল যুদ্ধে দখলে আসে বিপুল পরিমান অস্ত্র-গোলা-বারুদ  ও রসদপত্র।ৃ সেক্টও কমান্ডারের নির্দেশে জুন মাসে তিনি ফেনীতে গিয়ে সাহসিকতার সাথে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ২৭ জুন ফেনী থেকে ফিওে আসার পূর্বেই কসবা পুনরায় শত্র“র দখলে চলে যায়।

তখন কোনাবনে হেডকোয়ার্টার স্থাপন করা হয়। ৩০ জুন ক্রমাগত ৫ ঘন্টা যুদ্ধ করে শত্র“র শক্তিশালী ঘাটি মন্দবাগ দখল করে নেন।  এরপর সি-ইন-সি’র নির্দেশে তিনি এ্যাম্বুশ  ও গেরিলা আক্রমণের উপর গুরুত্ব দেন। পরিকল্পনা মাফিক একের পর এক গেরিলা আক্রমণ কওে এলাকাটিকে শত্র“ও কবল থেকে মুক্ত করেন। সালদা নদীতে নদীতে স্পিড বোট এ্যাম্বুশ করে ক্যাপ্টেন বোখারীসহ ৫ জন অফিসার ও অন্যান্য র‌্যাংকের নয়জন পাকসেনা হত্যা কওে বিপুল অস্ত্র, গোলা-বারুদ ও রসদ দখলে আনতে সমর্থ হন। এরপর মন্দবাগ এলাকায় আক্রমণ করে বিপুল সংখ্যক শত্র“ সৈন্য হত্যা করে ঐ এলাকা দখল করেন। ৭-৮ অক্টোবর তাঁর নিপুণ পরিকল্পনায় আক্রমণ করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র কব্জাসহ ১০০ জন শত্র“ সেনা হত্যা করে সালদা এলাকা নিজ দখলে নেন। তাঁর নেতৃত্বে সাঁড়াশি আক্রমণ চালিয়ে ১১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা ফটিকছড়ি মুক্ত করে এবং ১৪ ডিসেম্বর ২৭ জনকে হত্যাসহ ৮ জন শত্র“ সৈন্যকে গ্রেফতার করে নাজিরহাট মুক্ত করেন। যুদ্ধরত অবস্থায় তিনি হাটহাজারী পৌঁছানোর পর ১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনী যৌথবাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করে।

মুক্তিযুদ্ধে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons