নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, 2nd জানু., 2014

বীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার পরিচিতি – ১৪

Share This
Tags
Print Friendly

(বীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি পোর্টাল বাংলাদেশ ডটকম-এর একটি চলমান প্রক্রিয়া। ধারাবাহিকভাবে এটি তুলে ধরা হচ্ছে। চোখ রাখুন…)

নাম    :     মেজর জেনারেল (অব:) হারুন আহমেদ চৌধুরী
খেতার    :     বীর উত্তম
বাহিনী    :    সেনাবাহিনী
মাতা    :    মরহুমা জাহানারা বেগম
পিতা    :    মরহুম আব্দুস সোবহান চৌধুরী
জন্ম    :    ০৬.১১.১৯৪৫
গেজেট    :    ২২

হারুন আহমেদ চৌধুরী ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমী হতে সফলভাবে প্রশিণ সমাপ্তির পর সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্ত হন। বিভিন্ন কর্মস্থলে দতার সাথে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭১ সালে ক্যাপ্টেন পদমর্যাদায় ইপিআর-এর ৬ নম্বর সেক্টরের কাপ্তাইস্থ ১৭ নম্বও উইংয়ের সহকারী অধিনায়ক হিসাবে তিনি দায়িত্বরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে টেলিফোনে মেজর রফিকের পাঠানো ‘ব্রিং সাম উড ফর মি’ কোড ওয়ার্ডটি জানার পর সব অবাঙালী অফিসার ও জওয়ানকে বন্দি কওে উইংয়ের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মেজর রফিকের সাথে যোগ দেয়ার জন্য চট্টগ্রামের দিকে রওনা হন। ২৬ মার্চ কালুরঘাট এসে মেজর জিয়ার সাথে দেখা হয় এবং জিয়ার নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর সাথে যোগ দিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেন।

এক কোম্পানি সৈন্যসহ তিনি চট্টগ্রাম কলেজ এলাকায় অবস্থান নেন। ৩০ মার্চ চকবাজার এলাকায় ২০ বেলুচ রেজিমেন্ট এবং একই স্থানে ৬ এপ্রিল আগুয়ান পাক বাহিনীর ওপর আক্রমন চালিয়ে তিনি শত্র“র ব্যাপক তি সাধন করতে সম হন।

১১ এপ্রিল সকাল ৮টায় পাক বাহিনী কালুরঘাট ব্রিজ এলাকায় আটিলারি, মর্টার ও নেভাল গান ফায়ারের কাভাওে মুক্তিবাহিনীর ওপর তুমূল আক্রমণ পরিচালনা করে। কালুরঘাটের পশ্চিম দিকের রাস্তা সুরতি রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত ইপিআর বাহিনীর দু’টি প্লাটুন শত্র“ও আক্রমণ প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়ে পিছু হটলে শত্র“প সুবিধাজনক অবস্থানে পৌছে যায়। এ সময় ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তে পুরাতন গার্ডরুম সংলগ্ন স্থানে প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ক্যাপ্টেন হারুন ও শমসের মোবিন চৌধুরী। সে সময় তাঁদেও সাথে থাকা মাত্র ৩৫ জন সৈন্য নিয়ে বীর বিক্রমে যুদ্ধ চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে পেটে গুলিবিদ্ধ হলে তিনি ব্রিজের ওপর পড়ে যান। ঐ সময় সৈনিকরা স্বেচ্ছায় উজ্জীবিত হয়ে কাভারিং ফায়ার দিতে থাকলে মেজর হাশমী ও মেজর শওকত আলী (চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন) চরম ঝুঁকি নিয়ে ক্যাপ্টেন হারুন কে সেতুর অপর পারে নিতে সম হন। চট্টগ্রামে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে মিয়ানমার নিয়ে উন্নততর চিকিৎসা করানো হয়। পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে নভেম্বর মাসে তিনি কক্সবাজার এসে পুনরায় যদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons