নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, 31st ডিসে., 2013

বীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার পরিচিতি – ১৩

Share This
Tags
Print Friendly

(বীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি পোর্টাল বাংলাদেশ ডটকম-এর একটি চলমান প্রক্রিয়া। ধারাবাহিকভাবে এটি তুলে ধরা হচ্ছে। চোখ রাখুন…)

শহীদ খাজা নিজামুদ্দিন ভূঁইয়া বীর উত্তম

খেতাব: বীর উত্তম
নাম: শহীদ খাজা নিজামুদ্দিন ভূঁইয়া বীর উত্তম
মাতা: মরহুমা তাবেন্দা আক্তার খাতুন পিতা: মরহুম আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া
জন্ম: ১৯-০২-১৯৪৯
গেজেট: ২১

খাজা নিজামুদ্দিন ভূঁইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম.কম. পাশ করার পর তৎকালীন ঐড়ঃবষ ওহঃবৎ পড়হঃরহবহঃধষ- এ ঈড়হঃৎড়ষবৎ ড়ভ অপপড়ঁহঃং পদে চাকরি করার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ-তে অধ্যয়নরত ছিলেন।

পাকিস্তানিদের শোষণ-বঞ্চনা আর নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত বাঙালি ১৯৭০-এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকে দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট দিলেও পশ্চিমারা মতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। প্রতিবাদে জ্বলে উঠে সারা বাংলা। ২৫ মার্চ পাক বাহিনীর নির্মম-নিষ্ঠুর গণহত্যার তীব্র প্রতিশোধ স্পৃহায় উদ্দীপ্ত নিজামুদ্দিন নিজবাড়ি মালোপাড়া হয়ে মার্চ মাসেই ভারতের আগরতলায় চলে যান। সামরিক প্রশিণ নিয়ে এপ্রিল মাসে দেশে  সে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। ৪ নম্বর সেক্টরের জালালপুর সাব-সেক্টর কমান্ডার মাহবুবুর রব সাদীর নেতৃত্বে বিভিন্ন যুদ্ধে সাহসিকতাপূর্ণ অবদান রেখে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন তিনি। তাঁর নিপুণ যুদ্ধ কৌশল আর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে মন্তাজগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি সিলেট জেলার কানাইঘাট, মন্তাজগঞ্জ, ভরামাইদ, নক্তিপাড়া, মনিপুর, সড়কের বাজার, সিলেট প্রভৃতি স্থানে পাক সৈন্য ও তাদের এ দেশীয় তাঁবেদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিরোধ যুদ্ধ, এ্যামবুশ, রেইড, হ্যারাসিং ফায়ার, গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

আগষ্টের শেষ সপ্তাহে মুক্তিযোদ্ধাদের লাতু দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কিন্তু কৌশলগত কারণে লাতুর নিয়ন্ত্রণ রাখা মুক্তিবাহিনী ও পাকবাহিনী উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নিজামুদ্দিন তাঁর বাহিনী নিয়ে মাহবুবুর রব সাদীর নেতৃত্বে আগষ্টের শেষ সপ্তাহে তুমূল যুদ্ধের পর সারোপার দখল করে নেয়ায় শত্র“ সেনাদের সিলেট থেকে কুলাউড়া আসার সুবিধা বন্ধ হয়। এ সময় মুক্তিবাহিনী লাতু, বড়লেখা এমনকি ফেঞ্চুগঞ্জ পর্যন্ত আক্রমণ চালাতে থাকে। ২ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁরা লুবাছড়া চা বাগান আক্রমণ করে। তুমূল যুদ্ধের পর লুবাছড়া মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে আসে। পরবর্তীতে পাকবাহিনী এ এলাকা দখলের  জন্য বার বার আক্রমণ করতে থাকে। কিন্তু নিজামুদ্দিনের দৃঢ়তায় তা ব্যর্থ হয়। ৪ সেপ্টেম্বর পাকবাহিনী বিপুল পরিমাণ সামরিক শক্তি নিয়ে লুবাছড়া চা বাগান পুনরায় আক্রমণ করে। নিজামুদ্দিন বিপুল বিক্রমে সে আক্রমণ প্রতিহত করেন। তবে একপর্যায়ে শত্র“র নিপ্তি গোলার আঘাতে তিনি শহীদ হন।

শুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূসিত করা হয়।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons