নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, 28th ডিসে., 2013

বীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার পরিচিতি – ১২

Share This
Tags
Print Friendly

(বীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি পোর্টাল বাংলাদেশ ডটকম-এর একটি চলমান প্রক্রিয়া। ধারাবাহিকভাবে এটি তুলে ধরা হচ্ছে। চোখ রাখুন…)

মরহুম ব্রিগে. এ জে এম আমিনুল হক বীর উত্তম

খেতাব: বীর উত্তম
নাম: মরহুম ব্রিগে. এ জে এম আমিনুল হক বীর উত্তম
মাতা: মরহুমা ফাতেমা হক পিতা: মরহুম মাওলানা নুরুল হক
জন্ম: ২৩-০৩-১৯৪৪
গেজেট: ২০

এ জে এম আমিনুল হক ১৯৬৫ সালে কাকুলস্থ পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমী হতে প্রশিণ গ্রহণ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে নিয়মিত অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বাঙ্গালী জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা এবং এ যুদ্ধের এক সাহসী বীর সৈনিকের নাম আমিনুল হক।

কর্মকালীন তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অবাঙ্গালিদের নিষ্ঠুর বর্বরতা আর বাঙ্গালীদেরকে শোষন করার মানসিকতা খুব কাছে থেকেই দেখেছেন। ফলে তাদের প্রতি পোষণ করতেন তীব্র ঘৃনা। তাই পাকবাহিনী ২৫ মার্চ রাতে নির্মমভাবে বাঙ্গালী হত্যাযঞ্জ শুরু করলে তিনি ২৭ মার্চ পাক আর্মি ইন্টেলিজেন্স ইউনিট হতে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

আমিনুল হক ১ নম্বর সেক্টর ও জেড ফোর্সের অধীনে থেকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ময়মনসিংহের নকশী, জামালপুরের কামালপুর, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধে সাহসিকতা ও দতার পরিচয় দেন। ৩ আগষ্ট রাত পৌনে ৪টার দিকে আর্টিলারী সাপোর্টে ক্যাপ্টেন আমিন ৩য় ও অষ্টম বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের সৈনিকদের নিয়ে নকশী বিওপি আক্রমণ করলে পাক বাহিনীও তাদের অবস্থান থেকে পাল্টা জবাব দেয়। শুরু হয় প্রচন্ড যুদ্ধ। অসম সাহসী বীর মুক্তিযুদ্ধারা বীর বিক্রমে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে। তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা শত্র“ে কামানের গোলা, পেতে রাখা মাইন আর প্রতিমুহূর্তে সঙ্গী যোদ্ধাদের শহীদ হওয়ার দৃশ্য উপো করে ‘নারায়ে তকবীর-আল্লাহু আকবর’ আর ‘ইয়া আলী’ ধ্বনি দিয়ে সঙ্গীণ উঁচু করে বেয়নেট চার্জের জন্য এগিয়ে যেতে থাকে শত্র“ লাইনের উপর।
মুক্তিযোদ্ধাদের দৃঢ় মনোবল আর সাহস দেখে পিছু হটতে থাকে পাক বাহিনী। যুদ্ধের একপর্যায়ে তিনি বুলেটবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন আমিনের সঠিক নির্দেশনা ও সাবলীল আচরণ উজ্জীবিত করে সহযোদ্ধাদের। আহত অবস্থাতেই তিনি এক হাতে অস্র চালাতে চালাতে ঢুকে যান শত্র“ শিবিরের ৫ গজের মধ্যে। শুরু হয় হাতাহাতি যুদ্ধ। হত্যা করেন বিপুল সংখ্যক শত্র“ সেনা। বন্দি করেন বেশকিছু পাকসেনা ও তাদের এ দেশীয় দোসর দালালদের। এ যুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধাও শহীদ হন। যুদ্ধকালীন তাঁর নেতৃত্বের বীরত্বগাঁথা বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমীতে নবাগত ক্যাডেটদের পড়ানোসহ ঐ যুদ্ধের রণকৌশল শেখানো হয়।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons