নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, 21st ডিসে., 2013

বীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার পরিচিতি – ১০

Share This
Tags
Print Friendly

(বীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি পোর্টাল বাংলাদেশ ডটকম-এর একটি চলমান প্রক্রিয়া। ধারাবাহিকভাবে এটি তুলে ধরা হচ্ছে। চোখ রাখুন…)

মরহুম মে. আব্দুস সালেক চৌধুরী বীর উত্তম

খেতাব: বীর উত্তম
নাম: মরহুম মে. আব্দুস সালেক চৌধুরী
মাতা: মরহুমা সায়মা খানম। পিতা: মরহুম এ. আর. চৌধুরী
জন্ম: ২০-০৯-১৯৪৬  মৃত্যু: ১৯-১১-১৯৭২
গেজেট: ১৯

আব্দুস সালেক চৌধুরী সেন্ট গ্রেগরী স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিা জীবন শেষ করে কাকুলস্থ পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমীতে ক্যাডেট হিসেবে পিএমএ লং কোর্সে যোগদান করেন। সফলভাবে কোর্স সমাপ্তির পর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ২৫ ফ্র›টিয়ার কোর্সে যোগদান করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনী ঢাকা সহ সক্ষাদেশে নিরস্র বাঙ্গালীদের উপর নারকীয় হত্যাযঞ্জ শুরু করলে ক্যাপ্টেন সালেক কয়েকজন সঙ্গী অফিসারসহ পাকিস্তানের প ত্যাগ করে ক্যান্টনমেন্ট থেকে পালিয়ে অনেক কষ্টে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ২৪ এপ্রিল আগরতলা পৌঁছান এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। প্রাথমিকভাবে তাঁকে ২ নম্বর সেক্টরের সালদা নদী সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে পদায়ন করা হয়। এ সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে এ্যামবুশ, রেইড ও গেরিলা আক্রমণ পরিচালনার মাধ্যমে পাকবাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত রাখেন। তাঁর নিপুণ সমর কৌশল, স্বতঃস্ফুর্ত, নিখঁত ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে এ অঞ্চলের অসংখ্য যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ব্যাপক সফলতা লাভ করে ও পাকবাহিনীর বিপুল সংখক সৈন্য হতাহত হয়। বিভিন্ন যুদ্ধে তাঁর বাহিনীর অসম সাহসী বীরত্ব গাথা ও সাফল্য মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়াতে সহায়ক ভ’মিকা পালন করে। সে সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমে তাঁর বাহিনীর বীরত্ব গাথা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
১৭ জুলাই তিনি মেজর হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। পরবর্তীতে লে. কর্ণেল খালেদ মোশাররফের নের্তত্বে ‘কে’ ফোর্স গঠিত হলে তিনি এর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসান নেয়োজিত হন। যুদ্ধে খালেদ মোশাররফ আহত হলে তিনি ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৯ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১ম মুজিব ব্যাটারী এবং সিগনাল কোম্পানী সমন্বয়ে গঠিক ‘কে’ ফোর্সের অফিসিয়েটিং কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের অবশিষ্ট সময়ে অত্যন্ত সফলতার সাথে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও চট্টগ্রাম জেলা নিয়ে গঠিত দণি-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় পাক বাহিনীর উপর ‘কে’ ফোর্সের দুর্ধর্ষ ও অসম সাহসী অপারেশনসমূহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরঅয় হয়ে থাকবে। তাঁর চরম ত্যাগী মনোভাব, উদ্বুদ্ধকরন মতা, অসাধারণ সাহস ও নৈপুণ্য সর্বোপরী সমর নায়ক হিসেবে অসাধারণ দতার কারণে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীর উত্তম’ কেতাবে ভূষিত করা হয়।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons