নিজস্ব প্রতিবেদক | সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, 15th ফেব্রু., 2013

নতুন চেতনায় চালু হলো ১৩ এর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র

Share This
Tags
Print Friendly

sbbk-cover‘শাহবাগ’ এখন এক আন্দোলনের নাম, চেতনার প্রতিবিম্ব। মুক্তিকামী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঋদ্ধ আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাকে এক কাতারে দাঁড়ানোর মঞ্চের নাম ‘শাহবাগ’।  সারাদেশের তরুন জনতা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে শাহবাগ আন্দোলনের গণজোয়ারে ভাসছে, শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে রেখেছে শাহবাগ উদ্যান। সারা বাংলা আজ মিশে গেছে শাহবাগের মোড়ে। এ যেন দ্বিতীয় আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ।

ইতি মধ্যে প্রজন্ম চত্বরকে ঘিরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী একঝাঁক তরুন চালু করলেন একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন রেডিও। নাম রেখেছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। এটি মুলত একটি ইন্টারনেটভিত্তিক বেতার কেন্দ্র। যদিও রেডিওটি যুক্তরাজ্য থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে, ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্প্রচার করা হচ্ছে শাহবাগ থেকে সরাসরি শ্লোগান। আলোচনা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে বিভিন্ন টক শো, তাছাড়া টক শো ও সরাসরি শ্লোগান এর পাশাপাশি প্রচারিত হচ্ছে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র-তে প্রচারিত জাগরণের গান গুলো যা বাংলাদেশ বেতারের আর্কাইভ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

আমরা সম্প্রতি টেলিফোনযোগে কথা বলছিলাম, এই ব্যতিক্রমধর্মী রেডিও ষ্টেশনটির প্রতিষ্ঠাতা পিনাকী দেব অপুর সাথে।

কথোপকথনের বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলোঃ

পোর্টাল বাংলাদেশঃ আপনাদের এই রেডিওটির নামকরণ “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র” কেন করেছেন?

পিনাকীঃ বেশ কিছু দিন হলো ঢাকায় আমাদের সহযোদ্ধারা আন্দোলন শুরু করেছেন ৭১-এর মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের উপযুক্ত বিচারের দাবিতে।  দিনরাত শ্লোগানে শ্লোগানে উত্তাল করে রেখেছেন শাহবাগের এই উদ্যান। যাকে আমরা সবাই দ্বিতীয় প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ বলেই অভিহিত করছি। এই দ্বিতীয় প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ থেকেই আসলে “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র” নামে নামকরণ করা হয় এই রেডিওটিকে।  ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নামের অস্থায়ী বেতার কেন্দ্রটি সকল যোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যোগাতো ও দেশবাসীর কাছে মুক্তিবাহিনীর নানান খবরাখবর ও বার্তা পৌঁছে দিতো, ঠিক তেমন করেই, দ্বিতীয় প্রজন্মের এই মুক্তিযুদ্ধের জন্য আমরা তৈরি করি এই অনলাইন রেডিওটি এবং নামকরন করি “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হিসেবে”।

পোর্টাল বাংলাদেশঃ আপনাদের এই বেতার কেন্দ্রটির সম্প্রচারের উদ্দেশ্য কি কি?

পিনাকীঃ প্রথমত আমাদের উদ্দ্যেশ্য একটাই, শাহবাগের গণআন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে এই আন্দোলনের দাবি সারা পৃথিবীব্যাপী বাংলাদেশিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, আমরা বেশ কিছু দিন ধরেই দেখছি, ঢাকায় আমাদের ভাই-বোনরা যেভাবে দিনরাত আন্দোলন করছে, শ্লোগান দিচ্ছে, সেভাবে মিডিয়া কাভারেজ পাচ্ছে না। আর তাছাড়া জামাতের ছেলেরা অনলাইনে বিভিন্ন রকমের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে এই বলে যে, এই আন্দোলন যারা করছে তারা সবাই নাস্তিক, ইসলামের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে ইত্যাদি ইত্যাদি।  তাই এসব প্রোপাগান্ডা শুনে প্রবাসী বাঙ্গালীরা জাতে বিভ্রান্ত না হয় এবং এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ও বার্তা যেন সবাই সঠিক ভাবে জানতে পায় এবং আন্তর্জাতিক মহলে সঠিক তথ্য তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য এবং এই কারনেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

পোর্টাল বাংলাদেশঃ কি ধরনের প্রোগ্রাম করছেন এই রেডিওতে?

পিনাকীঃ আমরা মূলত টক শো করছি। বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের যারা আছেন, তাদের সাথে বিশ্লেষণ মূলক টক শো করছি। তাছাড়া বাংলাদেশ-এর শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের বুক থেকে আমরা সরাসরি শ্লোগানও সম্প্রচার করছি। আমরা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ বেতারের আর্কাইভ থেকে ১৯৭১ সালে প্রচারিত জাগরণের গানগুলোর অরিজিনাল ডিজিটাল কপি সংগ্রহ করেছি, সেগুলোও প্রচার করছি বিভিন্ন প্রোগ্রামের ফাকে ফাকে। এবং আমরা সম্প্রতি ৭১ সালে প্রচারিত এম আর আখতার মুকুলের ব্যঙ্গাত্মক কথিকা চরমপত্রের কিছু অডিও ক্লিপ পেয়েছি, সেগুলোও প্রচার করছি। তবে আমাদের মূল আকর্ষণ হলো শাহবাগ থেকে সরাসরি সম্প্রচারকৃত শ্লোগান ও আমাদের ইউকে স্টুডিওতে আয়োজিত বিশেষ টক শোগুলো।

পোর্টাল বাংলাদেশঃ প্রোগ্রাম সঞ্চালনা কারা করছেন?

পিনাকীঃ যেহেতু আমরা অল্প কিছু দিন হলো চালু করেছি, তাই আমাদের লোকবলের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে এই মুহূর্তে, তাই মুলত আমরা কয়েকজন মিলেই সঞ্চালনা করছি সকল প্রোগ্রাম। এর মধ্যে ইংল্যান্ড থেকে আমি, আমাদের এই রেডিওর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও আমার সহধর্মিণী জেনেট তৃনা রিয়ানা বেপারী, আমাদের আরেক সহকর্মী শারমিন জান্নাত ভুট্টো, আবু সায়েম কনক, বাংলাদেশ থেকে সাফি নেওয়াজ, তানভির আহমেদ, ওয়াহিদ রহমান, শ্রাবণ মহসিন, সাইফুর রহমান সহ আরো অনেকে।

পোর্টাল বাংলাদেশঃ আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

পিনাকীঃ আসলে শুধুমাত্র দেশপ্রেম-এর জায়গা থেকেই এই রেডিওটি চালু করা, বাণিজ্যিক কোন উদ্দেশ্য নেই। আপাতত আমরা শাহবাগের এই আন্দোলন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি নিয়েই কাজ করছি। সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম চলবে, এবং কাজ করে যাবো আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে জামাতিদের ছড়ানো সকল প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে। এটিই আপাতত আমাদের পরিকল্পনা।

পোর্টাল বাংলাদেশঃ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সময় দেওয়ার জন্য।  স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য রইলো পোর্টাল বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে সাধুবাদ।

পিনাকীঃ আপনাদেরকেও অনেক ধন্যবাদ পাশে থাকার জন্য। জয় বাংলা।

প্রবাসী তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশকে ভালবাসে গভীর ভাবে।দেশের প্রতি তাঁদের ভালোবাসার এই ব্যতিক্রম নিদর্শন দেখা জায় এই বেতার কেন্দ্রটির মাধ্যমে। দেশের বাইরে থেকেও এই প্রজন্ম মাতৃভূমিকে ভালবেসে যে অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন তার জন্য অভিনন্দন। জয় হোক তারুণ্যের।

Show Buttons
Share On Facebook
Share On Twitter
Share On Google Plus
Share On Pinterest
Share On Youtube
Hide Buttons